ঢাকা ০৮:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একনেতার জন্য ভোলা বিএনপি এখন আ. লীগের পকেটে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৩২:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬
  • ৪১২ বার

মাত্র এক বিএনপি নেতার কারণে ভোলার বিএনপি এখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পকেটে ঢুকে গেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের আর্শিবাদপুষ্ট হয়ে ভোলা জেলা বিএনপির সভাপতি আলহ্বাজ গোলাম নবী আলমগীরের স্বেচ্ছাচারিতা এবং ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সমঝোতার কারণে ভোলা বিএনপি এখন মাথা তুলে দাঁড়াতেই পারছে না। ভোলা বিএনপির স্থানীয় কয়েকটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, ভোলা সদর থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রয়াত বিএনপির সাবেক পানি সম্পদ ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোশারেফ হোসেন শাজাহানের ছোট ভাই গোলাম নবী আলমগীর জেলা সভাপতি হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল বিএনপির ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে নিজের পছন্দসই লোকদের দিয়ে বিভিন্ন কমিটি গঠন করেছেন।

নবী আলমগীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তৃণমূলের এক নেতা বলেন, তিনিই একমাত্র জেলা বিএনপির সভাপতি যার বিরুদ্ধে বিএনপির জ্বালাও পোড়াও আন্দোলনের সময় মামলা হয়নি। ঐসময় তিনি তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে বিভিন্ন সভা-অনুষ্ঠানে গিয়ে হাজির হন। এমনকি সেসব অনুষ্ঠানে দলের বিরুদ্ধে বক্তব্যও রাখেন। এমন কয়েকটি ছবিও পূর্বপশ্চিমকে দিয়েছেন তৃণমূলের ওই নেতা।

আফসোস করে বিএনপির আরেক নেতা বলেন, ভোলা বিএনপির এমন বেহাল অবস্থার জন্য একজন নেতাই দায়ী। ক্ষমতাসীন আওয়মী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে নিজের জাহাজ ব্যবসা টিকিয়ে রাখছেন। কিন্তু দলের অনেক বড় ক্ষতি করছেন। গত কয়েক বছরে ভোলাতে সরকার বিরোধী কোনো আন্দোলনও করতে পারেনি জেলা বিএনপি।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা বলেন, ভোলা বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা এতটাই নাজুক যে, গত পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মাত্র ১২০০ ভোট পায়। এছাড়া সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একটি চেয়ারম্যান পদেও বিএনপির কোন প্রার্থী জয়ী হতে পারেনি।

বিএনপির ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত ছাত্রদলের কমিটি নিয়েও রয়েছে স্থানীয় তরুণ নেতাদের আক্ষেপ। ১২ বছর ধরে ছাত্রদলের কমিটি হচ্ছে না। এমনকি বিএনপির আরেক শক্তিশালী সংগঠন যুবদলের কমিটিও স্থগিত করে রাখা হয়েছে। ফলে সাংগঠনিকভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে ভোলা জেলা বিএনপি।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে জেলা বিএনপির সভাপতির এমন সমঝোতার কারণে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা মেজর হাফিজ উদ্দিন, নাজিম উদ্দিন আলম, হাফিজ ইব্রাহিমের মতো নেতারাও এলাকায় যেতে পারছেন না।

উল্লেখ্য, ভোলা সদরে সাবেক পানি সম্পদ ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোশারেফ হোসেন শাজাহানের বিরুদ্ধে সংস্কারপন্থীর অভিযোগ থাকায় ২০০৮ সালে বিএনপি তাকে মনোনয়ন দেয়নি। পরবর্তীতে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী বিজেপির সভাপতি আন্দালিব রহমান পার্থ সেখান থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে গোলাম নবী আলমগীরের সঙ্গে ফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

একনেতার জন্য ভোলা বিএনপি এখন আ. লীগের পকেটে

আপডেট টাইম : ১২:৩২:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬

মাত্র এক বিএনপি নেতার কারণে ভোলার বিএনপি এখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পকেটে ঢুকে গেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের আর্শিবাদপুষ্ট হয়ে ভোলা জেলা বিএনপির সভাপতি আলহ্বাজ গোলাম নবী আলমগীরের স্বেচ্ছাচারিতা এবং ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সমঝোতার কারণে ভোলা বিএনপি এখন মাথা তুলে দাঁড়াতেই পারছে না। ভোলা বিএনপির স্থানীয় কয়েকটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, ভোলা সদর থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রয়াত বিএনপির সাবেক পানি সম্পদ ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোশারেফ হোসেন শাজাহানের ছোট ভাই গোলাম নবী আলমগীর জেলা সভাপতি হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল বিএনপির ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে নিজের পছন্দসই লোকদের দিয়ে বিভিন্ন কমিটি গঠন করেছেন।

নবী আলমগীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তৃণমূলের এক নেতা বলেন, তিনিই একমাত্র জেলা বিএনপির সভাপতি যার বিরুদ্ধে বিএনপির জ্বালাও পোড়াও আন্দোলনের সময় মামলা হয়নি। ঐসময় তিনি তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে বিভিন্ন সভা-অনুষ্ঠানে গিয়ে হাজির হন। এমনকি সেসব অনুষ্ঠানে দলের বিরুদ্ধে বক্তব্যও রাখেন। এমন কয়েকটি ছবিও পূর্বপশ্চিমকে দিয়েছেন তৃণমূলের ওই নেতা।

আফসোস করে বিএনপির আরেক নেতা বলেন, ভোলা বিএনপির এমন বেহাল অবস্থার জন্য একজন নেতাই দায়ী। ক্ষমতাসীন আওয়মী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে নিজের জাহাজ ব্যবসা টিকিয়ে রাখছেন। কিন্তু দলের অনেক বড় ক্ষতি করছেন। গত কয়েক বছরে ভোলাতে সরকার বিরোধী কোনো আন্দোলনও করতে পারেনি জেলা বিএনপি।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা বলেন, ভোলা বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা এতটাই নাজুক যে, গত পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মাত্র ১২০০ ভোট পায়। এছাড়া সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একটি চেয়ারম্যান পদেও বিএনপির কোন প্রার্থী জয়ী হতে পারেনি।

বিএনপির ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত ছাত্রদলের কমিটি নিয়েও রয়েছে স্থানীয় তরুণ নেতাদের আক্ষেপ। ১২ বছর ধরে ছাত্রদলের কমিটি হচ্ছে না। এমনকি বিএনপির আরেক শক্তিশালী সংগঠন যুবদলের কমিটিও স্থগিত করে রাখা হয়েছে। ফলে সাংগঠনিকভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে ভোলা জেলা বিএনপি।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে জেলা বিএনপির সভাপতির এমন সমঝোতার কারণে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা মেজর হাফিজ উদ্দিন, নাজিম উদ্দিন আলম, হাফিজ ইব্রাহিমের মতো নেতারাও এলাকায় যেতে পারছেন না।

উল্লেখ্য, ভোলা সদরে সাবেক পানি সম্পদ ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোশারেফ হোসেন শাজাহানের বিরুদ্ধে সংস্কারপন্থীর অভিযোগ থাকায় ২০০৮ সালে বিএনপি তাকে মনোনয়ন দেয়নি। পরবর্তীতে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী বিজেপির সভাপতি আন্দালিব রহমান পার্থ সেখান থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে গোলাম নবী আলমগীরের সঙ্গে ফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।