ঢাকা ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে হান্নান মাসউদের বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:২৮:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • ১ বার

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে নোয়াখালী-৬ আসনের এমপি ও এনসিপি নেতা আব্দুল হান্নান মাসউদের এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রোববার (২১ জুন) জাতীয় সংসদে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে হান্নান মাসউদ বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী আজকে এখানে নেই। উনি যখন বিভিন্ন ভাষণে গিয়ে অসত্য তথ্য দিয়ে বলেন বিরোধী দল মিছিল করছে মদের দাম কেন বৃদ্ধি করা হয়েছে, সিগারেটের দাম কেন বৃদ্ধি করা হয়েছে। এরকম অসত্য তথ্য দিয়ে যখন প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন আমরা খুবই আশাহত হই।

তিনি আরও বলেন, যখন ঋণ নিয়ে আমরা সংসদে কথা বলতে যাই, ইসলামী ব্যাংক দখল নিয়ে কথা বলতে যাই, তখন প্রধানমন্ত্রী যদি বলে আপনারা সবাই জমিদার যারা ঋণ নেন নাই, এর মধ্য দিয়ে মূলত প্রধানমন্ত্রী ঋণ খেলাপিদের উৎসাহিত করেন।

হান্নান মাসউদের বক্তব্যের পরই পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক বলেন, এই সংসদে কোন অসত্য বাক্য উত্থাপন করা হোক বা এমন কথা বলা না হোক যেই কথায় আমাদের মান সম্মান হানি হয় সংসদ নেতাকে কটুক্তি করা হয়। এটাতে আমরা খুবই ক্ষুব্ধ।

তিনি আরও বলেন, আমাদের নেতা উড়ে আসে নাই, তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সন্তান। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান, যিনি এই দেশের মানুষের গণতন্ত্রের জন্য ভোটাধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছেন। যিনি কোনো লুটের ভোটে নয়, একটা সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছেন।

এরপরই বিরোধীদলীয় চিফ হুহপ নাহিদ ইসলাম বলেন, এখানে সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক দাঁড়িয়ে বলেছেন হান্নান মাসউদ ভুল তথ্য দিয়েছে। কিন্তু কোন তথ্যটা ভুল ছিল। সেটা বলেনি।

তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে স্লিপ অব টাং ভুল বলেছেন, পরে সেটা তিনিই শুধরেছেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করার অধিকারও বিরোধী দলের আছে। ওনাকে আমরা সম্মান করি এর মানে এই না যে তার বক্তব্যের সমালোচনা করা যাবে না। আমরা তো গণতন্ত্রের দিকে যেতে চাচ্ছি। আমরা কোন ফ্যাসিবাদের দিকে আবার যেতে চাচ্ছি না।

নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্যের পরই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হান্নান মাসউদের বক্তব্যের যে অংশটুকু অসত্য আছে সেটা এক্সপাঞ করতে স্পিকারের কাছে অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, সংসদ নেতাকে নিয়ে অসত্য বক্তব্য এখানে মেনে নেওয়া যাবে না।

এদিকে তার বক্তব্যের মধ্যেই উত্তেজনা তৈরি হয় বিএনপি ও জামায়াত সদস্যদের মধ্যে। এক পর্যায়ে হান্নান মাসউদ আবার বক্তব্য দিতে চাইলে তাকে থামানোর চেষ্টা করেন ডেপুটি স্পিকার।

এক পর্যায়ে হান্নান মাসউদের উদ্দেশ্যে ডেপুটি স্পিকার বলেন, যখন খুশি দাঁড়াবেন এটা সংসদের রীতি না। আপনি বসেন। হান্নান মাসউদ এটা শাহবাগ চত্ত্বর নয়, এটা জাতীয় সংসদ।

স্পিকারের বক্তব্যের পরই বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, হান্নান মাসুদ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সংসদ নেতার ব্যাপারে কিছু কথা বলেছেন। আমি আপনাকে অনুরোধ করব, বাইরের কোনো বিষয়কে টেনে এখানে এনে এক্সপাঞ্জ করা বা বক্তব্য দেওয়া কোনোটাই যেন এলাও না করা হয়।

তিনি আরও বলেন, এটা সত্য, এটা অসত্য এই ঝগড়ায় যদি যাই তাহলে অনেক কিছু আমাদের জন্য লজ্জাজনক হয়ে যাবে। আমি চাচ্ছি না কারো সম্মানের সাথে এই লজ্জাটা লেগে থাকুক। আমি অনুরোধ করবো এই বিষয়ের পুরাটাই আপনি এখান থেকে ইগনোর করুন, সেটাই কল্যাণকর হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে হান্নান মাসউদের বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ

আপডেট টাইম : ১১:২৮:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে নোয়াখালী-৬ আসনের এমপি ও এনসিপি নেতা আব্দুল হান্নান মাসউদের এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রোববার (২১ জুন) জাতীয় সংসদে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে হান্নান মাসউদ বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী আজকে এখানে নেই। উনি যখন বিভিন্ন ভাষণে গিয়ে অসত্য তথ্য দিয়ে বলেন বিরোধী দল মিছিল করছে মদের দাম কেন বৃদ্ধি করা হয়েছে, সিগারেটের দাম কেন বৃদ্ধি করা হয়েছে। এরকম অসত্য তথ্য দিয়ে যখন প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন আমরা খুবই আশাহত হই।

তিনি আরও বলেন, যখন ঋণ নিয়ে আমরা সংসদে কথা বলতে যাই, ইসলামী ব্যাংক দখল নিয়ে কথা বলতে যাই, তখন প্রধানমন্ত্রী যদি বলে আপনারা সবাই জমিদার যারা ঋণ নেন নাই, এর মধ্য দিয়ে মূলত প্রধানমন্ত্রী ঋণ খেলাপিদের উৎসাহিত করেন।

হান্নান মাসউদের বক্তব্যের পরই পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক বলেন, এই সংসদে কোন অসত্য বাক্য উত্থাপন করা হোক বা এমন কথা বলা না হোক যেই কথায় আমাদের মান সম্মান হানি হয় সংসদ নেতাকে কটুক্তি করা হয়। এটাতে আমরা খুবই ক্ষুব্ধ।

তিনি আরও বলেন, আমাদের নেতা উড়ে আসে নাই, তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সন্তান। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান, যিনি এই দেশের মানুষের গণতন্ত্রের জন্য ভোটাধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছেন। যিনি কোনো লুটের ভোটে নয়, একটা সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছেন।

এরপরই বিরোধীদলীয় চিফ হুহপ নাহিদ ইসলাম বলেন, এখানে সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক দাঁড়িয়ে বলেছেন হান্নান মাসউদ ভুল তথ্য দিয়েছে। কিন্তু কোন তথ্যটা ভুল ছিল। সেটা বলেনি।

তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে স্লিপ অব টাং ভুল বলেছেন, পরে সেটা তিনিই শুধরেছেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করার অধিকারও বিরোধী দলের আছে। ওনাকে আমরা সম্মান করি এর মানে এই না যে তার বক্তব্যের সমালোচনা করা যাবে না। আমরা তো গণতন্ত্রের দিকে যেতে চাচ্ছি। আমরা কোন ফ্যাসিবাদের দিকে আবার যেতে চাচ্ছি না।

নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্যের পরই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হান্নান মাসউদের বক্তব্যের যে অংশটুকু অসত্য আছে সেটা এক্সপাঞ করতে স্পিকারের কাছে অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, সংসদ নেতাকে নিয়ে অসত্য বক্তব্য এখানে মেনে নেওয়া যাবে না।

এদিকে তার বক্তব্যের মধ্যেই উত্তেজনা তৈরি হয় বিএনপি ও জামায়াত সদস্যদের মধ্যে। এক পর্যায়ে হান্নান মাসউদ আবার বক্তব্য দিতে চাইলে তাকে থামানোর চেষ্টা করেন ডেপুটি স্পিকার।

এক পর্যায়ে হান্নান মাসউদের উদ্দেশ্যে ডেপুটি স্পিকার বলেন, যখন খুশি দাঁড়াবেন এটা সংসদের রীতি না। আপনি বসেন। হান্নান মাসউদ এটা শাহবাগ চত্ত্বর নয়, এটা জাতীয় সংসদ।

স্পিকারের বক্তব্যের পরই বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, হান্নান মাসুদ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সংসদ নেতার ব্যাপারে কিছু কথা বলেছেন। আমি আপনাকে অনুরোধ করব, বাইরের কোনো বিষয়কে টেনে এখানে এনে এক্সপাঞ্জ করা বা বক্তব্য দেওয়া কোনোটাই যেন এলাও না করা হয়।

তিনি আরও বলেন, এটা সত্য, এটা অসত্য এই ঝগড়ায় যদি যাই তাহলে অনেক কিছু আমাদের জন্য লজ্জাজনক হয়ে যাবে। আমি চাচ্ছি না কারো সম্মানের সাথে এই লজ্জাটা লেগে থাকুক। আমি অনুরোধ করবো এই বিষয়ের পুরাটাই আপনি এখান থেকে ইগনোর করুন, সেটাই কল্যাণকর হবে।