ঢাকা ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আব্বাকে কখনো নতুন পাঞ্জাবি কিনতে দেখিনি : কনকচাঁপা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৫৬:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • ০ বার

বিশ্ব বাবা দিবসে প্রয়াত বাবাকে স্মরণ করে আবেগঘন এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা। বাবার ত্যাগ, সততা ও সংসারের প্রতি দায়িত্ববোধের নানা স্মৃতি তুলে ধরে তিনি জানিয়েছেন, জীবদ্দশায় বাবাকে কখনো নিজের জন্য নতুন পাঞ্জাবি কিনতে দেখেননি।

শনিবার (২১ জুন) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে কনকচাঁপা তার বাবা মরহুম আজিজুল হক মোর্শেদের কথা স্মরণ করেন। পোস্টের শুরুতেই তিনি পৃথিবীর সব বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের জন্য দোয়া করেন।

কনকচাঁপা লেখেন, ‘বিশেষ শ্রদ্ধা সেই বাবাকে, যিনি সংসারের সব সুখ ক্রয় করেন, নিজে ছেঁড়া স্যান্ডেল আর এক জামা দিয়ে বছর পার করে দেন।’

তিনি জানান, তার বাবা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একজন ডেপুটি ডিরেক্টর ছিলেন। কিন্তু একজন সৎ কর্মকর্তা হিসেবে কখনো বিলাসী জীবনযাপন করেননি।

শিল্পীর ভাষায়, ‘আব্বাকে ঈদে কখনো নতুন পাজামা-পাঞ্জাবি কিনতে দেখিনি। আমাদেরই ঈদে জামা-জুতা কিনে দিতেন। কখনো আম্মাকে শাড়ি কিনে দিতেন। সারা বছর তার দুটো প্যান্ট, দুটো শার্টই সম্বল ছিল। লুঙ্গি ছিঁড়ে গেলে রিপু করে পরতেন।’

স্ট্যাটাসে বাবার সরলতা ও আত্মত্যাগের একটি স্মৃতিও তুলে ধরেন কনকচাঁপা। তিনি জানান, একবার রেকর্ডিংয়ে যাওয়ার আগে তার বাবার চশমার ডাঁটি ভেঙে যায়। নতুন চশমা তৈরি করতে দেওয়া হলেও তা হাতে না পাওয়ায় তিনি নিজেই চিকন তার দিয়ে সেটি জোড়া লাগিয়ে মেয়ের সঙ্গে স্টুডিওতে যান।

সেদিন স্টুডিওতে উপস্থিত ছিলেন কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। কনকচাঁপার বাবা ভাঙা চশমা পরে এসেছেন দেখে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।

কনকচাঁপা লেখেন, ‘বুলবুল ভাই আমাকে বললেন, আপনার বাবা হলেন কনকচাঁপার বাবা, আর তার চশমার ডাঁটি তার দিয়ে বাঁধা! তার চশমার ফ্রেম হবে সোনার। তিনি সোনার কন্যা জন্ম দিয়ে নাম রেখেছেন কনকচাঁপা।’

তবে সেই মুহূর্তেও মেয়েকে বিব্রত হতে দেননি তার বাবা। বরং সবার সামনে মেয়ের প্রশংসা করে বলেছিলেন, ‘আমার মেয়ে আমাদের অনেক খেয়াল করে, অনেক কিছু করে।’

বাবার মৃত্যুর পর তার কিছু কাপড় নিজের কাছে যত্ন করে রেখে দিয়েছেন বলেও জানান এই শিল্পী। সেই পোশাকগুলোতে এখনো বাবার ত্যাগের চিহ্ন দেখতে পান তিনি।

কনকচাঁপা বলেন, ‘আব্বা ইন্তেকাল করার পরে তার কিছু কাপড়চোপড় আমি নিজের কাছে রেখেছি। সেখানে দেখেছি, পাঞ্জাবির হাতার কনুইয়ের কাছে এমনকি ঘাড়ের কাছেও সূক্ষ্ম রিপু করা ছিল, যা তার জীবদ্দশায় আমার চোখেই পড়েনি।’

প্রয়াত বাবার জন্য নিয়মিত দোয়া করেন জানিয়ে তিনি লেখেন, রাতের শেষ প্রহরে আল্লাহর কাছে বাবার জন্য জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করেন।

পোস্টের শেষাংশে বাবাকে হারানোর বেদনার কথাও তুলে ধরেন এই গায়িকা। তিনি লেখেন, ‘আব্বা বেঁচে থাকতে তার জন্মদিন, বাবা দিবসে উপহার আর ফুল নিয়ে হাজির হতাম। আজ বাবা নেই বলে তাকে কিছু দিতে পারি না। তিনি চলে গেছেন ১৭ বছর হলো। এখনও তার শোক কাটাতে পারি না।’

সবশেষে আবেগঘন ভাষায় কনকচাঁপা লিখেছেন, ‘আব্বা! আপনাকে হারিয়ে আমি আজ অনেক দিন একলা পাখি হয়ে গেছি আব্বা। আমি এখন কাঁদছি।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

আব্বাকে কখনো নতুন পাঞ্জাবি কিনতে দেখিনি : কনকচাঁপা

আপডেট টাইম : ১১:৫৬:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

বিশ্ব বাবা দিবসে প্রয়াত বাবাকে স্মরণ করে আবেগঘন এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা। বাবার ত্যাগ, সততা ও সংসারের প্রতি দায়িত্ববোধের নানা স্মৃতি তুলে ধরে তিনি জানিয়েছেন, জীবদ্দশায় বাবাকে কখনো নিজের জন্য নতুন পাঞ্জাবি কিনতে দেখেননি।

শনিবার (২১ জুন) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে কনকচাঁপা তার বাবা মরহুম আজিজুল হক মোর্শেদের কথা স্মরণ করেন। পোস্টের শুরুতেই তিনি পৃথিবীর সব বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের জন্য দোয়া করেন।

কনকচাঁপা লেখেন, ‘বিশেষ শ্রদ্ধা সেই বাবাকে, যিনি সংসারের সব সুখ ক্রয় করেন, নিজে ছেঁড়া স্যান্ডেল আর এক জামা দিয়ে বছর পার করে দেন।’

তিনি জানান, তার বাবা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একজন ডেপুটি ডিরেক্টর ছিলেন। কিন্তু একজন সৎ কর্মকর্তা হিসেবে কখনো বিলাসী জীবনযাপন করেননি।

শিল্পীর ভাষায়, ‘আব্বাকে ঈদে কখনো নতুন পাজামা-পাঞ্জাবি কিনতে দেখিনি। আমাদেরই ঈদে জামা-জুতা কিনে দিতেন। কখনো আম্মাকে শাড়ি কিনে দিতেন। সারা বছর তার দুটো প্যান্ট, দুটো শার্টই সম্বল ছিল। লুঙ্গি ছিঁড়ে গেলে রিপু করে পরতেন।’

স্ট্যাটাসে বাবার সরলতা ও আত্মত্যাগের একটি স্মৃতিও তুলে ধরেন কনকচাঁপা। তিনি জানান, একবার রেকর্ডিংয়ে যাওয়ার আগে তার বাবার চশমার ডাঁটি ভেঙে যায়। নতুন চশমা তৈরি করতে দেওয়া হলেও তা হাতে না পাওয়ায় তিনি নিজেই চিকন তার দিয়ে সেটি জোড়া লাগিয়ে মেয়ের সঙ্গে স্টুডিওতে যান।

সেদিন স্টুডিওতে উপস্থিত ছিলেন কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। কনকচাঁপার বাবা ভাঙা চশমা পরে এসেছেন দেখে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।

কনকচাঁপা লেখেন, ‘বুলবুল ভাই আমাকে বললেন, আপনার বাবা হলেন কনকচাঁপার বাবা, আর তার চশমার ডাঁটি তার দিয়ে বাঁধা! তার চশমার ফ্রেম হবে সোনার। তিনি সোনার কন্যা জন্ম দিয়ে নাম রেখেছেন কনকচাঁপা।’

তবে সেই মুহূর্তেও মেয়েকে বিব্রত হতে দেননি তার বাবা। বরং সবার সামনে মেয়ের প্রশংসা করে বলেছিলেন, ‘আমার মেয়ে আমাদের অনেক খেয়াল করে, অনেক কিছু করে।’

বাবার মৃত্যুর পর তার কিছু কাপড় নিজের কাছে যত্ন করে রেখে দিয়েছেন বলেও জানান এই শিল্পী। সেই পোশাকগুলোতে এখনো বাবার ত্যাগের চিহ্ন দেখতে পান তিনি।

কনকচাঁপা বলেন, ‘আব্বা ইন্তেকাল করার পরে তার কিছু কাপড়চোপড় আমি নিজের কাছে রেখেছি। সেখানে দেখেছি, পাঞ্জাবির হাতার কনুইয়ের কাছে এমনকি ঘাড়ের কাছেও সূক্ষ্ম রিপু করা ছিল, যা তার জীবদ্দশায় আমার চোখেই পড়েনি।’

প্রয়াত বাবার জন্য নিয়মিত দোয়া করেন জানিয়ে তিনি লেখেন, রাতের শেষ প্রহরে আল্লাহর কাছে বাবার জন্য জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করেন।

পোস্টের শেষাংশে বাবাকে হারানোর বেদনার কথাও তুলে ধরেন এই গায়িকা। তিনি লেখেন, ‘আব্বা বেঁচে থাকতে তার জন্মদিন, বাবা দিবসে উপহার আর ফুল নিয়ে হাজির হতাম। আজ বাবা নেই বলে তাকে কিছু দিতে পারি না। তিনি চলে গেছেন ১৭ বছর হলো। এখনও তার শোক কাটাতে পারি না।’

সবশেষে আবেগঘন ভাষায় কনকচাঁপা লিখেছেন, ‘আব্বা! আপনাকে হারিয়ে আমি আজ অনেক দিন একলা পাখি হয়ে গেছি আব্বা। আমি এখন কাঁদছি।’