ঢাকা ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

‘ওই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো’ বিএনপিকর্মীকে এমপি হানজালা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:২৮:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • ১৩ বার

মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালার একটি সালিশ বৈঠকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে তাকে উত্তেজিত হয়ে উপস্থিত এক ব্যক্তিকে ধমক ও টেবিল চাপড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।

প্রায় এক মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সালিশ বৈঠকের একপর্যায়ে সংসদ সদস্য হানজালা উত্তেজিত হয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলছেন। এসময় তাকে বলতে শোনা যায়, ‘কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?’ একপর্যায়ে টেবিল চাপড়ে তিনি বলেন, ‘ওই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দিবো।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক থেকে দেড় মাস আগে শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের চর বাচামারা মৌলভীকান্দি এলাকায় মারামারি একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি সালিশ বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে। ওই বৈঠকে তারামিয়া নামে বিএনপির এক কর্মীর ওপর তিনি এভাবে চড়াও হন।

জানা গেছে, ওই বৈঠকে দুপক্ষের লোকজনই উপস্থিত ছিল। সালিশিতে একপক্ষকে এক লাখ টাকা জরিমানা নির্ধারণ করেন এমপি। এর পরপরই শুরু হয় হট্টগোল। এ সময় উত্তেজিত হন সংসদ সদস্য। পরে বিএনপি কর্মী তারামিয়াকে ধমক দেন তিনি।

ভুক্তভোগী তারামিয়া বলেন, ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের। একটি মারামারিকে কেন্দ্র করে ওই সালিশ বৈঠকে ৫০০ থেকে ৬০০ মানুষ উপস্থিত ছিল। বিচার চলাকালে আমার সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়।

তিনি বলেন, এমপি সাহেব বিচারের মধ্যে অন্য কাউকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে রায় দেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

তিনি আরও বলেন, যেখানে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে বিচার নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন যুক্তি ও মতামত আসতেই পারে। একজন বিচারকের দায়িত্ব হলো সেসব কথা ধৈর্য সহকারে শোনা। তা না হলে সেটি জনসম্মুখের সালিশ না হয়ে ঘরোয়া বা একতরফা বিচার হয়ে যায়।

এ ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

মাদারীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ বলেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে আরও সংযত ও ধৈর্যশীল আচরণ প্রত্যাশিত। জনসম্মুখে এমন ভাষা ও আচরণ নেতিবাচক বার্তা দেয়।

এ বিষয় জানতে চাইলে পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা বলেন, এটা প্রায় এক-দেড় মাস আগের ঘটনা। ওরা আমাকে ছাড়া বিচারে বসবেই না, পরে আমি গিয়েছিলাম। সালিশের সময় উভয় পক্ষই কথা বলছিল, তর্কেও জড়াচ্ছিল। তারা বেশ প্যাঁচাপেঁচি করছিল। তখন আমি ধমক দিয়েছি। তবে বিচার কাজটি বেশ সুন্দরভাবে সমাধান হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

‘ওই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো’ বিএনপিকর্মীকে এমপি হানজালা

আপডেট টাইম : ১০:২৮:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালার একটি সালিশ বৈঠকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে তাকে উত্তেজিত হয়ে উপস্থিত এক ব্যক্তিকে ধমক ও টেবিল চাপড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।

প্রায় এক মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সালিশ বৈঠকের একপর্যায়ে সংসদ সদস্য হানজালা উত্তেজিত হয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলছেন। এসময় তাকে বলতে শোনা যায়, ‘কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?’ একপর্যায়ে টেবিল চাপড়ে তিনি বলেন, ‘ওই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দিবো।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক থেকে দেড় মাস আগে শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের চর বাচামারা মৌলভীকান্দি এলাকায় মারামারি একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি সালিশ বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে। ওই বৈঠকে তারামিয়া নামে বিএনপির এক কর্মীর ওপর তিনি এভাবে চড়াও হন।

জানা গেছে, ওই বৈঠকে দুপক্ষের লোকজনই উপস্থিত ছিল। সালিশিতে একপক্ষকে এক লাখ টাকা জরিমানা নির্ধারণ করেন এমপি। এর পরপরই শুরু হয় হট্টগোল। এ সময় উত্তেজিত হন সংসদ সদস্য। পরে বিএনপি কর্মী তারামিয়াকে ধমক দেন তিনি।

ভুক্তভোগী তারামিয়া বলেন, ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের। একটি মারামারিকে কেন্দ্র করে ওই সালিশ বৈঠকে ৫০০ থেকে ৬০০ মানুষ উপস্থিত ছিল। বিচার চলাকালে আমার সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়।

তিনি বলেন, এমপি সাহেব বিচারের মধ্যে অন্য কাউকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে রায় দেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

তিনি আরও বলেন, যেখানে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে বিচার নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন যুক্তি ও মতামত আসতেই পারে। একজন বিচারকের দায়িত্ব হলো সেসব কথা ধৈর্য সহকারে শোনা। তা না হলে সেটি জনসম্মুখের সালিশ না হয়ে ঘরোয়া বা একতরফা বিচার হয়ে যায়।

এ ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

মাদারীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ বলেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে আরও সংযত ও ধৈর্যশীল আচরণ প্রত্যাশিত। জনসম্মুখে এমন ভাষা ও আচরণ নেতিবাচক বার্তা দেয়।

এ বিষয় জানতে চাইলে পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা বলেন, এটা প্রায় এক-দেড় মাস আগের ঘটনা। ওরা আমাকে ছাড়া বিচারে বসবেই না, পরে আমি গিয়েছিলাম। সালিশের সময় উভয় পক্ষই কথা বলছিল, তর্কেও জড়াচ্ছিল। তারা বেশ প্যাঁচাপেঁচি করছিল। তখন আমি ধমক দিয়েছি। তবে বিচার কাজটি বেশ সুন্দরভাবে সমাধান হয়েছে।