ঢাকা ০২:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন আওয়ামী আমলের আমলনামা উন্নয়নের আড়ালে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ২৯ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে উঠে যাচ্ছে ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে জুবাইদা রহমানের আহ্বান কৃষিতেও বাড়ছে খেলাপির চাপ ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছ: হুমায়ূন কবির আইজিপি সহজ-সরল মানুষ, ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় সামরিক চুক্তিতে বাধ্য করার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

এলাকা কাঁপাচ্ছে ‘দিনাজপুরের সম্রাট’, দাম ১২ লাখ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:২২:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • ৬৯ বার

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে এলাকা কাঁপাচ্ছে ৩০ মন ওজনের ‘দিনাজপুরের সম্রাট’। ইতোমধ্যে সম্রাটকে দেখতে ভীড় করছেন ক্রেতা ও সাধারণ মানুষ। বিক্রেতা সম্রাটের জন্য দাম নির্ধারণ করেছেন ১২ লাখ টাকা।

শান্ত স্বভাবের শাহী ওয়াল ফ্রিজিয়ান ক্রস জাতের এই ষাঁড়টি দেশীয় পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক খাবারে নিজের বাড়িতে লালন-পালন করেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের মধ্যদুর্গাপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। শুধু সম্রাট নয়, উন্নত জাতের আরও ১০টি গরু লালন-পালন করেছেন তিনি। ব্যবসার পাশাপাশি সখের বসে গরু পালন করছেন তিনি। তিনিসহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এসব গরু দেখাশুনা করেন।

ধূসর রঙের সুঠাম দেহের অধিকারী ষাঁড় সম্রাটের শরীরের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট, উচ্চতা ৫ ফুট। ওজন ৩০ মণ অর্থাৎ ১১২৫ কেজি। ষাঁড়টির মালিকের আশা, দিনাজপুরের সম্রাটকে বিক্রি করবেন ১২ লাখ টাকায়। বিশাল আকৃতির ষাঁড়টি দেখার জন্য প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভিড় করছেন তাদের বাড়িতে।

রাজ্জাকের ছোট ভাই মাহাবুবসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা বলেন, সন্তানের মতো সম্রাটকে লালন-পালন করা হচ্ছে। পরিবারের সবাই মিলে যত্ম নিয়ে তাকে বড় করা হয়েছে। সম্রাট নামে ডাক দিলে ষাঁড়টি সাড়া দেয় এবং ঘুরে তাকায় বলে দাবি করেন তারা। বড় মায়া লেগে আছে তার প্রতি।

রাজ্জাকের খামারে প্রায় দুই বছর আগে শাহীওয়াল জাতের গাভী থেকে জন্ম নেয় সম্রাট। শহীওয়াল জাতের ষাঁড়টিকে সম্রাটের মতোই লালন-পালন করেছেন বলে ভালোবেসে নাম রেখেছেন ‘দিনাজপুরের সম্রাট’। বিশাল আকৃতির ষাঁড়টি হাটে আনা-নেওয়া করা কষ্টকর, তাই বাড়ি থেকেই সম্রাটকে বিক্রি করতে চান বলে জানান রাজ্জাক।

সম্রাটের মালিক রাজ্জাক আরও বলেন, জন্মের পর সম্রাটকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খড়, ঘাস, ছোলা, মসুরের ডাল ও ভুষি, ভুট্টার আটা, চোপড়, খুদের ভাত, খৈল, ধানের গুঁড়া ও চিটা গুড় খাইয়ে লালন-পালন করছেন। মাঝে-মধ্যে কাঁচাকলা, গাজর, আপেল, কাঠাল, পাতাকপিসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফলও খাওয়ানো হয়। এতে প্রতিদিন খরচ হয় ৮শ থেকে ১ হাজার টাকা।

থাকার জায়গায় ২৪ ঘণ্টা ফ্যান দেওয়া রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলে হাতপাখা দিয়েও সম্রাটকে বাতাস করতে হয়। প্রতিদিন তিন-চারবার গোসল করাতে হয়। তিনি জানান, নিজের সন্তানের মতো করে অনেক যত্নে সম্রাটকে লালন-পালন করেছেন। দিনাজপুরের সম্রাটকে বিক্রি করবেন ১২ লাখ টাকায়। তবে আলোচনা সাপেক্ষে এর কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে, জেলায় ষাঁড়, বলদ ও গাভী মিলে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৬টি গরু, ২৪৮টি মহিষ, ২ লাখ ৩৪ হাজার ৯৯০টি ছাগল, ১৩ হাজার ৭২৯টি ভেড়া ও দুম্বা ১১টি কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। জেলায় ৬২ হাজার ৪০৮ জন খামারিসহ বিভিন্ন বাসা বাড়িতে এই গরুগুলো লালন-পালন করা হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রহিম বলেন, জেলায় চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পশু লালন-পালনে খামারিদের উৎসাহিত করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন

এলাকা কাঁপাচ্ছে ‘দিনাজপুরের সম্রাট’, দাম ১২ লাখ

আপডেট টাইম : ১০:২২:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে এলাকা কাঁপাচ্ছে ৩০ মন ওজনের ‘দিনাজপুরের সম্রাট’। ইতোমধ্যে সম্রাটকে দেখতে ভীড় করছেন ক্রেতা ও সাধারণ মানুষ। বিক্রেতা সম্রাটের জন্য দাম নির্ধারণ করেছেন ১২ লাখ টাকা।

শান্ত স্বভাবের শাহী ওয়াল ফ্রিজিয়ান ক্রস জাতের এই ষাঁড়টি দেশীয় পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক খাবারে নিজের বাড়িতে লালন-পালন করেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের মধ্যদুর্গাপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। শুধু সম্রাট নয়, উন্নত জাতের আরও ১০টি গরু লালন-পালন করেছেন তিনি। ব্যবসার পাশাপাশি সখের বসে গরু পালন করছেন তিনি। তিনিসহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এসব গরু দেখাশুনা করেন।

ধূসর রঙের সুঠাম দেহের অধিকারী ষাঁড় সম্রাটের শরীরের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট, উচ্চতা ৫ ফুট। ওজন ৩০ মণ অর্থাৎ ১১২৫ কেজি। ষাঁড়টির মালিকের আশা, দিনাজপুরের সম্রাটকে বিক্রি করবেন ১২ লাখ টাকায়। বিশাল আকৃতির ষাঁড়টি দেখার জন্য প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভিড় করছেন তাদের বাড়িতে।

রাজ্জাকের ছোট ভাই মাহাবুবসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা বলেন, সন্তানের মতো সম্রাটকে লালন-পালন করা হচ্ছে। পরিবারের সবাই মিলে যত্ম নিয়ে তাকে বড় করা হয়েছে। সম্রাট নামে ডাক দিলে ষাঁড়টি সাড়া দেয় এবং ঘুরে তাকায় বলে দাবি করেন তারা। বড় মায়া লেগে আছে তার প্রতি।

রাজ্জাকের খামারে প্রায় দুই বছর আগে শাহীওয়াল জাতের গাভী থেকে জন্ম নেয় সম্রাট। শহীওয়াল জাতের ষাঁড়টিকে সম্রাটের মতোই লালন-পালন করেছেন বলে ভালোবেসে নাম রেখেছেন ‘দিনাজপুরের সম্রাট’। বিশাল আকৃতির ষাঁড়টি হাটে আনা-নেওয়া করা কষ্টকর, তাই বাড়ি থেকেই সম্রাটকে বিক্রি করতে চান বলে জানান রাজ্জাক।

সম্রাটের মালিক রাজ্জাক আরও বলেন, জন্মের পর সম্রাটকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খড়, ঘাস, ছোলা, মসুরের ডাল ও ভুষি, ভুট্টার আটা, চোপড়, খুদের ভাত, খৈল, ধানের গুঁড়া ও চিটা গুড় খাইয়ে লালন-পালন করছেন। মাঝে-মধ্যে কাঁচাকলা, গাজর, আপেল, কাঠাল, পাতাকপিসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফলও খাওয়ানো হয়। এতে প্রতিদিন খরচ হয় ৮শ থেকে ১ হাজার টাকা।

থাকার জায়গায় ২৪ ঘণ্টা ফ্যান দেওয়া রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলে হাতপাখা দিয়েও সম্রাটকে বাতাস করতে হয়। প্রতিদিন তিন-চারবার গোসল করাতে হয়। তিনি জানান, নিজের সন্তানের মতো করে অনেক যত্নে সম্রাটকে লালন-পালন করেছেন। দিনাজপুরের সম্রাটকে বিক্রি করবেন ১২ লাখ টাকায়। তবে আলোচনা সাপেক্ষে এর কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে, জেলায় ষাঁড়, বলদ ও গাভী মিলে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৬টি গরু, ২৪৮টি মহিষ, ২ লাখ ৩৪ হাজার ৯৯০টি ছাগল, ১৩ হাজার ৭২৯টি ভেড়া ও দুম্বা ১১টি কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। জেলায় ৬২ হাজার ৪০৮ জন খামারিসহ বিভিন্ন বাসা বাড়িতে এই গরুগুলো লালন-পালন করা হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রহিম বলেন, জেলায় চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পশু লালন-পালনে খামারিদের উৎসাহিত করা হয়েছে।