ঢাকা ০১:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগামীর পথে কল্যাণময় যাত্রার আশায় চারুকলা থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়েছে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩ বার

‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ প্রতিপাদ্যে ঢোল-বাদ্যের তালে আর রঙিন মোটিফের বর্ণিল আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বের হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার পয়লা বৈশাখের দিন সকাল ৯টার দিকে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক–শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ রয়েছেন। আর পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে নেমেছে উৎসবের ঢল।

বরাবরের মতো এবারও শোভাযাত্রায় লোকঐতিহ্য ও স্বকীয়তাকে বড় পরিসরে তুলে ধরা হয়েছে। বাঁশ, কাঠ ও রঙিন কাগজে তৈরি বিশাল বাঘ, হাতি, ময়ূর এবং মা-শিশুর প্রতিকৃতি শোভাযাত্রায় যুক্ত হয়ে সৃষ্টি করেছে এক অনন্য দৃশ্য। এবারের মূল বার্তা— অশুভ শক্তির বিনাশ এবং কল্যাণময় আগামীর পথে যাত্রা।

শোভাযাত্রায় মোট পাঁচটি প্রধান প্রতীক বা মোটিফ রাখা হয়েছে, এগুলো হলো— মোরগ, হাতি, পায়রা, দোতারা ও ঘোড়া। প্রতিটি মোটিফ আলাদা বার্তা বহন করছে। এর পাশাপাশি রয়েছে মাছ, বাঘ ও হরিণ শাবক, ছাগল ও ছাগশিশু, কাকাতুয়া ও ময়ূর।

এর মধ্যে মোরগ নতুন সূচনা, জাগরণ এবং আলোর আগমনের প্রতীক হয়ে অন্ধকার দূর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। দোতারা বাঙালির লোকসংগীতের প্রাণ হিসেবে বাঙালির সাংস্কৃতিক শেকড়কে তুলে ধরে, পাশাপাশি বাউল শিল্পীদের অবমূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে সংগীতের মর্যাদার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। কাঠের হাতি লোকজ ঐতিহ্য, শক্তি ও আভিজাত্যের প্রতীক। টেপা আকৃতির ঘোড়া গ্রামবাংলার সরল জীবন ও শৈশবের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে এবং পায়রা সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও বৈশ্বিক শান্তির বার্তা বহন করে।

এদিকে, শোভাযাত্রা ঘিরে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মুখোশ পরে প্রবেশ, ব্যাগ বহন, ইংরেজি প্ল্যাকার্ড, বেলুন, ফেস্টুন ও আতশবাজি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো ও বিক্রিও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। শোভাযাত্রা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারে ক্যাম্পাসজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে স্থাপন করা হয়েছে।

ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সামনে হেল্প ডেস্ক, কন্ট্রোল রুম ও অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প-ও বসানো হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

আগামীর পথে কল্যাণময় যাত্রার আশায় চারুকলা থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়েছে

আপডেট টাইম : ১০:০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ প্রতিপাদ্যে ঢোল-বাদ্যের তালে আর রঙিন মোটিফের বর্ণিল আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বের হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার পয়লা বৈশাখের দিন সকাল ৯টার দিকে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক–শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ রয়েছেন। আর পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে নেমেছে উৎসবের ঢল।

বরাবরের মতো এবারও শোভাযাত্রায় লোকঐতিহ্য ও স্বকীয়তাকে বড় পরিসরে তুলে ধরা হয়েছে। বাঁশ, কাঠ ও রঙিন কাগজে তৈরি বিশাল বাঘ, হাতি, ময়ূর এবং মা-শিশুর প্রতিকৃতি শোভাযাত্রায় যুক্ত হয়ে সৃষ্টি করেছে এক অনন্য দৃশ্য। এবারের মূল বার্তা— অশুভ শক্তির বিনাশ এবং কল্যাণময় আগামীর পথে যাত্রা।

শোভাযাত্রায় মোট পাঁচটি প্রধান প্রতীক বা মোটিফ রাখা হয়েছে, এগুলো হলো— মোরগ, হাতি, পায়রা, দোতারা ও ঘোড়া। প্রতিটি মোটিফ আলাদা বার্তা বহন করছে। এর পাশাপাশি রয়েছে মাছ, বাঘ ও হরিণ শাবক, ছাগল ও ছাগশিশু, কাকাতুয়া ও ময়ূর।

এর মধ্যে মোরগ নতুন সূচনা, জাগরণ এবং আলোর আগমনের প্রতীক হয়ে অন্ধকার দূর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। দোতারা বাঙালির লোকসংগীতের প্রাণ হিসেবে বাঙালির সাংস্কৃতিক শেকড়কে তুলে ধরে, পাশাপাশি বাউল শিল্পীদের অবমূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে সংগীতের মর্যাদার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। কাঠের হাতি লোকজ ঐতিহ্য, শক্তি ও আভিজাত্যের প্রতীক। টেপা আকৃতির ঘোড়া গ্রামবাংলার সরল জীবন ও শৈশবের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে এবং পায়রা সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও বৈশ্বিক শান্তির বার্তা বহন করে।

এদিকে, শোভাযাত্রা ঘিরে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মুখোশ পরে প্রবেশ, ব্যাগ বহন, ইংরেজি প্ল্যাকার্ড, বেলুন, ফেস্টুন ও আতশবাজি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো ও বিক্রিও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। শোভাযাত্রা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারে ক্যাম্পাসজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে স্থাপন করা হয়েছে।

ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সামনে হেল্প ডেস্ক, কন্ট্রোল রুম ও অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প-ও বসানো হয়েছে।