ঢাকা ০৮:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হরমুজ সংকট সমাধান করতে মুনশিয়ানা দেখাতে প্রস্তুত ইউক্রেন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:৫৬:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ বার

একদিকে ইউরোপের সমতলে রুশ আগ্রাসনের দীর্ঘ লড়াই, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা। আপাতদৃষ্টিতে এই দুই রণক্ষেত্র বিচ্ছিন্ন মনে হলেও, আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিল সমীকরণে যুদ্ধ দুটির ভবিষ্যৎ এখন এক অদৃশ্য সুতোয় গাঁথা।

সময় যত গড়াচ্ছে, দুটি যুদ্ধের গতিপথ ক্রমেই জড়িয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা। ২ এপ্রিল এ বিষয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। বিশ্লেষণে বলা হয়, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতার একটি বিস্তৃত ধারা সৃষ্টি হচ্ছে।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ইরানে তৈরি শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়া। আর এবার তেহরানের প্রতি সেই সহযোগিতার প্রতিদান দিচ্ছে মস্কো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে শুরু হওয়া যুদ্ধে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য, লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা এবং ড্রোন সরবরাহে রাশিয়ার সহায়তার খবর পাওয়া গেছে।

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ পঞ্চম বছরে পড়েছে। অন্যদিকে পাঁচ সপ্তাহ ধরে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে এরইমধ্যে এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে ইউক্রেন। গত মাসের শেষ সপ্তাহে সৌদি আরব, কাতার ও আমিরাতের সাথে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে ইউক্রেন। যেখানে মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা এবং যৌথ অস্ত্র উৎপাদনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আর এভাবেই কৌশলগত কারণে ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে যাচ্ছে রাশিয়া ও ইউক্রেন।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ইরানের সস্তা শাহেদ ড্রোন ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের দামী আকাশ প্রতিরক্ষা গোলা খরচ করে ফেলছে। জেলেনস্কি প্রস্তাব দিয়েছেন, শাহেদ ড্রোন ঠেকাতে আরও কার্যকর ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি এবং বিশেষজ্ঞ দেবে ইউক্রেন। বিনিময়ে তাদের প্রতিরক্ষা সহায়তা দিতে হবে। এছাড়া সমুদ্রপথেও ইউক্রেন সহযোগিতে করতে প্রস্তুত বলে জানিয়ছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

৩ এপ্রিল সংবাদমাধ্যম রয়টার্সে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, ”হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি এবং সেখানে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে সৃষ্ট সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য অংশীদারদের সাথে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নিয়েছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিকা। সামগ্রিক বিশ্ব পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সমুদ্রপথ রক্ষা এবং সামুদ্রিক যান চলাচল পুনরায় সচল করার বিষয়ে ইউক্রেনের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা ও কারিগরি দক্ষতা রয়েছে। আমাদের অংশীদাররা যদি পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকে, তবে আমরা আমাদের সেই অভিজ্ঞতা, জ্ঞান এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে কীভাবে তাদের সহায়তা করা যায়, তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করব।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন ও ইরানের যুদ্ধ এখন একটি বিস্তৃত ভূরাজনৈতিক সংকটের অংশ হয়ে উঠছে। দুই যুদ্ধের মধ্যে একটি সংযোগ দিন দিন প্রকট হচ্ছে, যা বিভিন্ন দেশকে দুটি ভিন্ন সংঘাতের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলছে। এর প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং বিশ্ব রাজনীতির সামগ্রিক গতিপথকেই নতুনভাবে নির্ধারণ করছে

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ সংকট সমাধান করতে মুনশিয়ানা দেখাতে প্রস্তুত ইউক্রেন

আপডেট টাইম : ০২:৫৬:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

একদিকে ইউরোপের সমতলে রুশ আগ্রাসনের দীর্ঘ লড়াই, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা। আপাতদৃষ্টিতে এই দুই রণক্ষেত্র বিচ্ছিন্ন মনে হলেও, আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিল সমীকরণে যুদ্ধ দুটির ভবিষ্যৎ এখন এক অদৃশ্য সুতোয় গাঁথা।

সময় যত গড়াচ্ছে, দুটি যুদ্ধের গতিপথ ক্রমেই জড়িয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা। ২ এপ্রিল এ বিষয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। বিশ্লেষণে বলা হয়, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতার একটি বিস্তৃত ধারা সৃষ্টি হচ্ছে।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ইরানে তৈরি শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়া। আর এবার তেহরানের প্রতি সেই সহযোগিতার প্রতিদান দিচ্ছে মস্কো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে শুরু হওয়া যুদ্ধে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য, লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা এবং ড্রোন সরবরাহে রাশিয়ার সহায়তার খবর পাওয়া গেছে।

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ পঞ্চম বছরে পড়েছে। অন্যদিকে পাঁচ সপ্তাহ ধরে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে এরইমধ্যে এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে ইউক্রেন। গত মাসের শেষ সপ্তাহে সৌদি আরব, কাতার ও আমিরাতের সাথে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে ইউক্রেন। যেখানে মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা এবং যৌথ অস্ত্র উৎপাদনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আর এভাবেই কৌশলগত কারণে ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে যাচ্ছে রাশিয়া ও ইউক্রেন।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ইরানের সস্তা শাহেদ ড্রোন ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের দামী আকাশ প্রতিরক্ষা গোলা খরচ করে ফেলছে। জেলেনস্কি প্রস্তাব দিয়েছেন, শাহেদ ড্রোন ঠেকাতে আরও কার্যকর ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি এবং বিশেষজ্ঞ দেবে ইউক্রেন। বিনিময়ে তাদের প্রতিরক্ষা সহায়তা দিতে হবে। এছাড়া সমুদ্রপথেও ইউক্রেন সহযোগিতে করতে প্রস্তুত বলে জানিয়ছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

৩ এপ্রিল সংবাদমাধ্যম রয়টার্সে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, ”হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি এবং সেখানে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে সৃষ্ট সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য অংশীদারদের সাথে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নিয়েছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিকা। সামগ্রিক বিশ্ব পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সমুদ্রপথ রক্ষা এবং সামুদ্রিক যান চলাচল পুনরায় সচল করার বিষয়ে ইউক্রেনের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা ও কারিগরি দক্ষতা রয়েছে। আমাদের অংশীদাররা যদি পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকে, তবে আমরা আমাদের সেই অভিজ্ঞতা, জ্ঞান এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে কীভাবে তাদের সহায়তা করা যায়, তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করব।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন ও ইরানের যুদ্ধ এখন একটি বিস্তৃত ভূরাজনৈতিক সংকটের অংশ হয়ে উঠছে। দুই যুদ্ধের মধ্যে একটি সংযোগ দিন দিন প্রকট হচ্ছে, যা বিভিন্ন দেশকে দুটি ভিন্ন সংঘাতের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলছে। এর প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং বিশ্ব রাজনীতির সামগ্রিক গতিপথকেই নতুনভাবে নির্ধারণ করছে