ঢাকা ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির

২০০ মার্কিন পাইলটের আবাসন গুঁড়িয়ে দিলো ইরান, বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:২৯:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬০ বার

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এক নতুন ও চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহিনীর ওপর এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় এবং বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় অন্তত ২০০ মার্কিন পাইলটের আবাসিক এলাকা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং অসংখ্য অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস বা অকেজো করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তেহরানের।

টাইমস্‌ অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ইরান থেকে ছোড়া শত শত দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং কামিকাজে ড্রোন আকাশ ছেয়ে ফেলেছে। দাবি করা হচ্ছে, মার্কিন বিমানঘাঁটির ভেতরে অবস্থিত পাইলটদের ব্যারাক এবং আবাসন লক্ষ্য করে নির্ভুলভাবে এসব মিসাইল আঘাত হেনেছে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, এই হামলার ফলে মার্কিন বিমান বহরের কার্যক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানি সামরিক সূত্রের দাবি, এই হামলায় মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের আওতাধীন বিভিন্ন ঘাঁটিতে রাখা এফ-১৬ এবং অন্যান্য উন্নত প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলো ‘পঙ্গু’ হয়ে গেছে। হামলার সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলেও ড্রোন এবং মিসাইলের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে, মার্কিন ‘প্যাট্রিয়ট’ প্রতিরক্ষা ব্যূহটি কার্যত ভেঙে পড়ে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আজকের এই হামলাকে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহতের প্রতিশোধ হিসেবেই তেহরান এই ‘অল-আউট’ অ্যাটাক বা সর্বাত্মক হামলার পথ বেছে নিয়েছে।

এই হামলার পর ওয়াশিংটনে জরুরি বৈঠক ডেকেছে পেন্টাগন। যদিও মার্কিন সামরিক বাহিনী এখনও নির্দিষ্ট করে কতজন নিহিত বা কতটি বিমান ধ্বংস হয়েছে তা নিশ্চিত করেনি, তবে তারা এই হামলার কথা স্বীকার করেছে। হোয়াইট হাউজ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইরানের এই হঠকারী আচরণের চরম মূল্য দিতে হবে।”

অন্যদিকে, এই হামলার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে আকাশচুম্বী হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালীতে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিশ্চিত ও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ওই অঞ্চলে অবস্থানরত প্রবাসীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস্‌ অফ ইন্ডিয়া।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

২০০ মার্কিন পাইলটের আবাসন গুঁড়িয়ে দিলো ইরান, বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস

আপডেট টাইম : ১০:২৯:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এক নতুন ও চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহিনীর ওপর এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় এবং বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় অন্তত ২০০ মার্কিন পাইলটের আবাসিক এলাকা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং অসংখ্য অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস বা অকেজো করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তেহরানের।

টাইমস্‌ অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ইরান থেকে ছোড়া শত শত দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং কামিকাজে ড্রোন আকাশ ছেয়ে ফেলেছে। দাবি করা হচ্ছে, মার্কিন বিমানঘাঁটির ভেতরে অবস্থিত পাইলটদের ব্যারাক এবং আবাসন লক্ষ্য করে নির্ভুলভাবে এসব মিসাইল আঘাত হেনেছে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, এই হামলার ফলে মার্কিন বিমান বহরের কার্যক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানি সামরিক সূত্রের দাবি, এই হামলায় মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের আওতাধীন বিভিন্ন ঘাঁটিতে রাখা এফ-১৬ এবং অন্যান্য উন্নত প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলো ‘পঙ্গু’ হয়ে গেছে। হামলার সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলেও ড্রোন এবং মিসাইলের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে, মার্কিন ‘প্যাট্রিয়ট’ প্রতিরক্ষা ব্যূহটি কার্যত ভেঙে পড়ে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আজকের এই হামলাকে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহতের প্রতিশোধ হিসেবেই তেহরান এই ‘অল-আউট’ অ্যাটাক বা সর্বাত্মক হামলার পথ বেছে নিয়েছে।

এই হামলার পর ওয়াশিংটনে জরুরি বৈঠক ডেকেছে পেন্টাগন। যদিও মার্কিন সামরিক বাহিনী এখনও নির্দিষ্ট করে কতজন নিহিত বা কতটি বিমান ধ্বংস হয়েছে তা নিশ্চিত করেনি, তবে তারা এই হামলার কথা স্বীকার করেছে। হোয়াইট হাউজ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইরানের এই হঠকারী আচরণের চরম মূল্য দিতে হবে।”

অন্যদিকে, এই হামলার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে আকাশচুম্বী হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালীতে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিশ্চিত ও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ওই অঞ্চলে অবস্থানরত প্রবাসীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস্‌ অফ ইন্ডিয়া।