ঢাকা ১১:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
অননুমোদিত দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ তেলের ঘাটতি নেই, আগের চেয়ে সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে : জ্বালানিমন্ত্রী ঢামেকসহ ৫ মেডিক্যাল কলেজে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ রাশিয়া থেকে তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের হারানো ইমেজ উদ্ধারে সক্রিয় সরকার, অস্থিরতা তৈরির চেষ্টায় একটি গ্রুপ আকাশপথের নতুন রাজত্বের পথে পারস্য! ৬.৫ বিলিয়নের রাশিয়ান Kibony সিস্টেমসহ Su-35 এখন ইরানে, তবে কি অকেজো মার্কিন রাডার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার সাক্ষাৎ এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ৭ জুন : শিক্ষামন্ত্রী সংসদে নামাজ পড়তে গিয়ে জুতা খোয়ালেন এমপি ২০ বছর পর ৩৩০ পুলিশ কর্মকর্তার নিয়োগ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা মঙ্গলবার শুরু

আকাশপথের নতুন রাজত্বের পথে পারস্য! ৬.৫ বিলিয়নের রাশিয়ান Kibony সিস্টেমসহ Su-35 এখন ইরানে, তবে কি অকেজো মার্কিন রাডার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৪৬:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • ১ বার

মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে এক মহাপ্রলয়ঙ্কারী পরিবর্তন ঘটে গেছে। গত কয়েক দশকের মধ্যে ইরানের বিমানবাহিনী যে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে পরিচিত ছিল, রাশিয়ার একটি সাহসী পদক্ষেপে তা এখন তাদের সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

গভীর রাতে এক গোপন অভিযানের মাধ্যমে রাশিয়া ইরানকে সরবরাহ করেছে ৪৮টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, যার মধ্যে রয়েছে ত্রাস সৃষ্টিকারী Su-35 ফাইটার জেট এমন খবর চাউর হয়েছে মিডিয়া জুড়ে।

গভীর রাতের সেই গোপন ডেলিভারি

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি দুর্গম সামরিক ঘাঁটিতে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে এই ৪৮টি বিমান নামানো হয়। কোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রাডার বা সাংবাদিকদের নজর এড়াতে এই তপ্ত অন্ধকার রাতকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল। বিমানগুলো নামানোর পর দ্রুত সেগুলোতে ইরানি বিমানবাহিনীর প্রতীক এঁকে দেওয়া হয়।

Kibony সিস্টেম: মার্কিন রাডারকে ‘অন্ধ’ করার হাতিয়ার

এই যুদ্ধবিমানগুলোর সাথে আসা Kibony (কিবনী) ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম নিয়ে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত পেন্টাগন। এটি কোনো সাধারণ অস্ত্র নয়; বরং এটি এমন একটি বলয় তৈরি করে যা শত্রুপক্ষের রাডারকে বিভ্রান্ত এবং অকেজো করে দেয়। মার্কিন F-35 বা প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেমের রাডার এই বিমানগুলোকে স্পষ্টভাবে শনাক্ত করতে পারবে না, ফলে টার্গেট লক করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

কেন রাশিয়া এখনই এই সিদ্ধান্ত নিল?

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া কৌশলগতভাবে বুঝতে পেরেছে যে একটি শক্তিশালী ইরান তাদের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থ রক্ষা করবে। এই সরবরাহের মাধ্যমে রাশিয়া স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, তারা এখন আর পশ্চিমা চাপের তোয়াক্কা করে না। এর ফলে ইরানের দর কষাকষির ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে গেছে।

পরাজয়ের মুখে ইসরায়েল ও আমেরিকা?

এতদিন ইসরায়েল ও আমেরিকা ইরানের আকাশসীমায় একতরফা আধিপত্য বিস্তার করত। কিন্তু Su-35 এবং খিবিনি সিস্টেমের উপস্থিতি এই সমীকরণ বদলে দিয়েছে। এখন থেকে যেকোনো আকাশ হামলা চালাতে গেলে মার্কিন ও ইসরায়েলি পাইলটদের চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে। এটি কেবল একটি সামরিক সরবরাহ নয়, বরং পারস্য উপসাগরে পশ্চিমাদের পরাজয়ের ঘন্টাধ্বনি।

বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব

এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার অর্থ হলো বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়া। ইতোমধ্যে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। রাশিয়া ও ইরানের এই নতুন জোট পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনৈতিক ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

রাশিয়া এবং ইরান এখন এই স্নায়ুযুদ্ধে স্পষ্টতই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমাদের প্রভাব চিরতরে মুছে দিতে পারে।

আমাদের পক্ষে এই রিপোর্টের সত্যতা সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি শুধুমাত্র গোয়েন্দা তথ্য ও অনলাইনে থাকা কিছু ভিডিওর উপর ভিত্তি করে রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

অননুমোদিত দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ

আকাশপথের নতুন রাজত্বের পথে পারস্য! ৬.৫ বিলিয়নের রাশিয়ান Kibony সিস্টেমসহ Su-35 এখন ইরানে, তবে কি অকেজো মার্কিন রাডার

আপডেট টাইম : ১০:৪৬:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে এক মহাপ্রলয়ঙ্কারী পরিবর্তন ঘটে গেছে। গত কয়েক দশকের মধ্যে ইরানের বিমানবাহিনী যে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে পরিচিত ছিল, রাশিয়ার একটি সাহসী পদক্ষেপে তা এখন তাদের সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

গভীর রাতে এক গোপন অভিযানের মাধ্যমে রাশিয়া ইরানকে সরবরাহ করেছে ৪৮টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, যার মধ্যে রয়েছে ত্রাস সৃষ্টিকারী Su-35 ফাইটার জেট এমন খবর চাউর হয়েছে মিডিয়া জুড়ে।

গভীর রাতের সেই গোপন ডেলিভারি

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি দুর্গম সামরিক ঘাঁটিতে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে এই ৪৮টি বিমান নামানো হয়। কোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রাডার বা সাংবাদিকদের নজর এড়াতে এই তপ্ত অন্ধকার রাতকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল। বিমানগুলো নামানোর পর দ্রুত সেগুলোতে ইরানি বিমানবাহিনীর প্রতীক এঁকে দেওয়া হয়।

Kibony সিস্টেম: মার্কিন রাডারকে ‘অন্ধ’ করার হাতিয়ার

এই যুদ্ধবিমানগুলোর সাথে আসা Kibony (কিবনী) ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম নিয়ে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত পেন্টাগন। এটি কোনো সাধারণ অস্ত্র নয়; বরং এটি এমন একটি বলয় তৈরি করে যা শত্রুপক্ষের রাডারকে বিভ্রান্ত এবং অকেজো করে দেয়। মার্কিন F-35 বা প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেমের রাডার এই বিমানগুলোকে স্পষ্টভাবে শনাক্ত করতে পারবে না, ফলে টার্গেট লক করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

কেন রাশিয়া এখনই এই সিদ্ধান্ত নিল?

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া কৌশলগতভাবে বুঝতে পেরেছে যে একটি শক্তিশালী ইরান তাদের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থ রক্ষা করবে। এই সরবরাহের মাধ্যমে রাশিয়া স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, তারা এখন আর পশ্চিমা চাপের তোয়াক্কা করে না। এর ফলে ইরানের দর কষাকষির ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে গেছে।

পরাজয়ের মুখে ইসরায়েল ও আমেরিকা?

এতদিন ইসরায়েল ও আমেরিকা ইরানের আকাশসীমায় একতরফা আধিপত্য বিস্তার করত। কিন্তু Su-35 এবং খিবিনি সিস্টেমের উপস্থিতি এই সমীকরণ বদলে দিয়েছে। এখন থেকে যেকোনো আকাশ হামলা চালাতে গেলে মার্কিন ও ইসরায়েলি পাইলটদের চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে। এটি কেবল একটি সামরিক সরবরাহ নয়, বরং পারস্য উপসাগরে পশ্চিমাদের পরাজয়ের ঘন্টাধ্বনি।

বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব

এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার অর্থ হলো বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়া। ইতোমধ্যে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। রাশিয়া ও ইরানের এই নতুন জোট পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনৈতিক ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

রাশিয়া এবং ইরান এখন এই স্নায়ুযুদ্ধে স্পষ্টতই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমাদের প্রভাব চিরতরে মুছে দিতে পারে।

আমাদের পক্ষে এই রিপোর্টের সত্যতা সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি শুধুমাত্র গোয়েন্দা তথ্য ও অনলাইনে থাকা কিছু ভিডিওর উপর ভিত্তি করে রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।