ঢাকা ০১:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো দল নেই, তারা এ দেশের: ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল সালাম ঈদ শেষে ঢাকামুখী মানুষের ঢল, দুর্ভোগের যেন শেষ নেই যুদ্ধে লন্ডভন্ড শ্রমবাজার, অনিশ্চয়তায় হাজারো প্রবাসী কর্মী শাকিবকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা: আগে এগিয়ে অপু, পরে বুবলী হঠাৎ গাড়ি থামিয়ে নিজে কবরে নেমে লাশ দাফন করলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে নেতাকর্মীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান জনকল্যাণে জিয়ার ‘গ্রাম সরকার’: বিকেন্দ্রীকরণে গ্রামীণ উন্নয়নের সম্ভাবনা মদনে সীমানা বিরোধে প্রাণহানি, প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা-লুটের অভিযোগ মিঠামইন বাহেরচরে ডাকাত চক্রের তাণ্ডব: এক রাতে ৪ বাড়িতে হানা, প্রায় ১০ লাখ টাকার স্বর্ণ-সম্পদ চুরি  যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলো আরও ৬২ হাজার মেট্রিক টন গম

ঈদ শেষে ঢাকামুখী মানুষের ঢল, দুর্ভোগের যেন শেষ নেই

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:১০:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • ১ বার

Oplus_16908288

পবিত্র ঈদুল ফিতর-এর ছুটি শেষে গ্রাম থেকে রাজধানীতে ফেরা মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। সড়ক, রেল ও নৌ—সব পথেই দেখা দিয়েছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। দীর্ঘ যানজট, শিডিউল বিপর্যয় আর অতিরিক্ত যাত্রীচাপ—সব মিলিয়ে নাকাল যাত্রীরা।

সড়কে তীব্র যানজট, সময় লাগছে দ্বিগুণেরও বেশি
উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে সৃষ্টি হয় কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট। রাত থেকেই যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করে, যা ছড়িয়ে পড়ে সিরাজগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায়।
অনেক ক্ষেত্রে বাস শিডিউল ভেঙে পড়ে—রাতের বাস পরদিন সকালে ছেড়েছে। ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় যেখানে সাধারণত ২-৩ ঘণ্টা লাগে, সেখানে সময় লেগেছে ৭-৮ ঘণ্টা।
রেলেও নেই স্বস্তি
স্বস্তির আশায় অনেকেই ট্রেনে ভরসা করলেও সেখানেও ছিল ভোগান্তি। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন-এ পৌঁছাতে অধিকাংশ ট্রেনই ২-৩ ঘণ্টা দেরি করেছে। নন-এসি বগিতে ছিল তীব্র ভিড়, এমনকি অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে ছাদে বসে যাত্রা করেছেন।
নৌপথেও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা
দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ নৌপথে ফিরলেও স্বস্তি পাননি। প্রায় সব লঞ্চেই ছিল অতিরিক্ত যাত্রী, ফলে ঝুঁকি নিয়েই রাজধানীমুখী যাত্রা করেছেন তারা। একই সঙ্গে বাড়তি ভাড়ার অভিযোগও করেছেন যাত্রীরা।
দুর্ঘটনা ও বিকল যানবাহনে পরিস্থিতি আরও জটিল
টাঙ্গাইল এলাকায় দুর্ঘটনা এবং সেতু এলাকায় যানবাহন বিকল হয়ে পড়ায় যানজট আরও তীব্র হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেতুর চার লেনই ঢাকামুখী যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে ৪৬ হাজারের বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।
যাত্রীদের ক্ষোভ
দীর্ঘ যাত্রায় অতিরিক্ত সময় ও দুর্ভোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। অনেকেই জানিয়েছেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ সময় বেশি লেগেছে ঢাকায় পৌঁছাতে। কেউ কেউ জ্বালানি অপচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে রাজধানী

ছুটি শেষে মানুষ ঢাকায় ফিরতে শুরু করায় রাজধানীতে ফিরছে কর্মচাঞ্চল্য। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় যানবাহনের চাপ বাড়লেও ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

সব মিলিয়ে, ঈদ শেষে ঘরমুখো মানুষের ফিরতি যাত্রা আবারও প্রমাণ করল—পরিকল্পনার অভাব আর অতিরিক্ত চাপের কারণে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ভোগান্তির চিত্র এখনো রয়ে গেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো দল নেই, তারা এ দেশের: ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল সালাম

ঈদ শেষে ঢাকামুখী মানুষের ঢল, দুর্ভোগের যেন শেষ নেই

আপডেট টাইম : ০১:১০:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

পবিত্র ঈদুল ফিতর-এর ছুটি শেষে গ্রাম থেকে রাজধানীতে ফেরা মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। সড়ক, রেল ও নৌ—সব পথেই দেখা দিয়েছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। দীর্ঘ যানজট, শিডিউল বিপর্যয় আর অতিরিক্ত যাত্রীচাপ—সব মিলিয়ে নাকাল যাত্রীরা।

সড়কে তীব্র যানজট, সময় লাগছে দ্বিগুণেরও বেশি
উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে সৃষ্টি হয় কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট। রাত থেকেই যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করে, যা ছড়িয়ে পড়ে সিরাজগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায়।
অনেক ক্ষেত্রে বাস শিডিউল ভেঙে পড়ে—রাতের বাস পরদিন সকালে ছেড়েছে। ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় যেখানে সাধারণত ২-৩ ঘণ্টা লাগে, সেখানে সময় লেগেছে ৭-৮ ঘণ্টা।
রেলেও নেই স্বস্তি
স্বস্তির আশায় অনেকেই ট্রেনে ভরসা করলেও সেখানেও ছিল ভোগান্তি। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন-এ পৌঁছাতে অধিকাংশ ট্রেনই ২-৩ ঘণ্টা দেরি করেছে। নন-এসি বগিতে ছিল তীব্র ভিড়, এমনকি অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে ছাদে বসে যাত্রা করেছেন।
নৌপথেও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা
দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ নৌপথে ফিরলেও স্বস্তি পাননি। প্রায় সব লঞ্চেই ছিল অতিরিক্ত যাত্রী, ফলে ঝুঁকি নিয়েই রাজধানীমুখী যাত্রা করেছেন তারা। একই সঙ্গে বাড়তি ভাড়ার অভিযোগও করেছেন যাত্রীরা।
দুর্ঘটনা ও বিকল যানবাহনে পরিস্থিতি আরও জটিল
টাঙ্গাইল এলাকায় দুর্ঘটনা এবং সেতু এলাকায় যানবাহন বিকল হয়ে পড়ায় যানজট আরও তীব্র হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেতুর চার লেনই ঢাকামুখী যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে ৪৬ হাজারের বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।
যাত্রীদের ক্ষোভ
দীর্ঘ যাত্রায় অতিরিক্ত সময় ও দুর্ভোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। অনেকেই জানিয়েছেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ সময় বেশি লেগেছে ঢাকায় পৌঁছাতে। কেউ কেউ জ্বালানি অপচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে রাজধানী

ছুটি শেষে মানুষ ঢাকায় ফিরতে শুরু করায় রাজধানীতে ফিরছে কর্মচাঞ্চল্য। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় যানবাহনের চাপ বাড়লেও ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

সব মিলিয়ে, ঈদ শেষে ঘরমুখো মানুষের ফিরতি যাত্রা আবারও প্রমাণ করল—পরিকল্পনার অভাব আর অতিরিক্ত চাপের কারণে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ভোগান্তির চিত্র এখনো রয়ে গেছে।