মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বাংলাদেশের বৈদেশিক শ্রমবাজারে নেমে এসেছে চরম অস্থিরতা। বিশেষ করে সৌদি আরব-নির্ভর জনশক্তি রপ্তানি খাত এখন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব হবে ভয়াবহ।
বাংলাদেশের মোট অভিবাসী কর্মীর প্রায় ৬৭ শতাংশই পাড়ি জমান সৌদি আরবে। এছাড়া কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডান—এই দেশগুলোও শ্রমবাজারের প্রধান গন্তব্য। কিন্তু ইরান-কে ঘিরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-এর সঙ্গে শুরু হওয়া সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ ও শ্রমবাজারকে প্রায় অচল করে দিয়েছে।
ফ্লাইট বাতিলে থমকে গেছে কর্মী পাঠানো
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মার্চ মাসজুড়ে মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রায় ৭৯৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৩০টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় অন্তত ৬৫ হাজার অভিবাসী কর্মী বিদেশ যেতে পারেননি।
ইরান, ইরাক, বাহরাইনসহ বেশ কয়েকটি দেশ আকাশসীমা বন্ধ করায় ঢাকার সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ছাড়পত্র আছে, যাত্রা নেই
অভিবাসন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তথ্যে দেখা যায়, মার্চ মাসে ৭৩টি দেশের জন্য ৩৬ হাজার ৬৭৩ জন কর্মী ছাড়পত্র নিয়েছেন। এর মধ্যে সৌদি আরবের জন্যই ১৯ হাজার ৮২৯ জন, কাতার ৩ হাজার ৯২১, কুয়েত ১ হাজার ৩৫৩, জর্ডান ৮৯১ এবং আমিরাতে ৮৮৪ জন। কিন্তু ফ্লাইট সংকটের কারণে এদের কেউই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি।
দিশাহারা প্রবাসী ও রপ্তানিকারকরা
বিদেশ থেকে ছুটিতে এসে দেশে আটকে পড়া কর্মীরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আশঙ্কা, কর্মস্থলে ফিরতে না পারার অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে তারা দিশাহারা।
অন্যদিকে জনশক্তি রপ্তানিকারকরা বলছেন, নতুন ডিমান্ড থাকা সত্ত্বেও কর্মী পাঠাতে না পারায় পুরো খাতেই নেমে এসেছে স্থবিরতা।
বিকল্প বাজার না থাকায় বাড়ছে ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের শ্রমবাজার অতিমাত্রায় মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর হওয়ায় এই সংকট আরও প্রকট হয়েছে। ইউরোপ, জাপান কিংবা পূর্ব এশিয়ার সম্ভাবনাময় বাজারগুলো এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি।
এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান থাকায় বিকল্প বাজার হিসেবেও পূর্ব ইউরোপের সম্ভাবনা সীমিত হয়ে পড়েছে।
অপেক্ষা যুদ্ধবিরতির
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত অবসান না হলে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এখন পুরো শ্রমবাজার তাকিয়ে আছে যুদ্ধবিরতি ও নতুন বাজার উন্মুক্ত হওয়ার দিকে।
Reporter Name 



















