ঢাকা ১২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংস্কারের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে বধ্যভূমি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ১ বার

রংপুর বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা  বধভূমিগুলোর সংস্কার ও সংরক্ষণে বরাদ্দ নেই ১৪ বছর থেকে। সংরক্ষণের অভাবে এসব বধ্যভূমি স্মৃতি এখন অযত্ন আর অবহেলায় ধ্বংস হতে চলেছে। প্রযোজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় এর মধ্যে অনেক বধ্যভূমির অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার পথে। ২০১২ সালের দিকে রংপুর বিভাগের বধ্যভূমিগুলো সংস্কারের জন্য সামান্য কিছু বরাদ্দ এসেছিল। সেই বরাদ্দ কাজ শুরু করার পরপরই শেষ হয়ে যায়। এর পর আর কোনো বরাদ্দ আসেনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি জায়গায় বধ্যভূমি সংস্কারে কোনো জটিলতা না থাকলেও ব্যক্তি মালিকায় যেসব স্থানে বধ্যভূমি রয়েছে সেগুলো অধিগ্রহণের জটিলতায় সংস্কার কাজ আটকে আছে। এ বিষয়ে অনেকে মন্তব্য করেছেন, এসব হয়েছে বিগত সরকারের আন্তরিকতার অভাবে।

স্বাধীনতার পরই মুক্তিযুদ্ধে অর্থাৎ ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার স্থান তথা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি অমর করে রাখার জন্য এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনেক বধ্যভূমি উন্মুক্ত ভূমি বা জলাশয় ছিল। কিন্তু এর অনেকই ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে পড়ে। জমির মালিকরা ওই জমি ছাড়তে চান না। এ  কারণে বধ্যভূমিগুলোতে অনেকেই অবকাঠামো গড়ে তুলেছে। ফলে অনেক বধ্যভূমি হারিয়ে যেতে বসেছে।

২০১২ সালে রংপুর বিভাগের আট জেলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা থাকা ১০৮টি বধ্যভূমির জরিপ চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বধ্যভূমিগুলো চিহ্নিত করা হয়। এ  বধ্যভূমির মধ্যে সরকার মাত্র ৫০টি বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এজন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে স্থান ও জমি চিহ্নিত করে দেওয়া হয়। সরকারি জমিতে থাকা বদ্ধভূমি সংস্কারে কোনো সমস্যা না থাকলেও অনেক বদ্ধভূমি রয়েছে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে। সেসব জমি অধিগ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। রংপুরে পাঁচটি বধ্যভূমি সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু ৩টি বধ্যভূমি ব্যক্তি মালিকানায় থাকায় সেসব জমি এখন পর্যন্ত অধিগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে সংস্কারের সিদ্ধান্ত শুধু কাগজ কলমে সীমাবদ্ধ রয়ে যায়। তবে দগিগঞ্জসহ দুটি বদ্ধভূমির কিছুটা সংস্কার করা হয়।

গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের সূত্র মতে, প্রথম দফায় ২০১২ সালে কিছু টাকার বরাদ্দ পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে বরাদ্দ না আসায় শুরু হওয়ার পরপরই থমকে গেছে বধ্যভূমি সংস্কার ও সংরক্ষণের কাজ। ফলে এখনো বধ্যভূমিগুলো অবহেলায় পড়ে রয়েছে। রংপুর, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুরের বধ্যভূমি সংরক্ষণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে বিভিন্ন জটিলতায় সংস্কার করা যাচ্ছে না।

বধ্যভূমি নিয়ে কাজ করেন তাদের তথ্য মতে রংপুর বিভাগে গণহত্যার স্থান রয়েছে অনেক। যার মধ্যে রংপুর জেলায় ৩৯টি, কুড়িগ্রামে ৭৬টি, ঠাকুরগাঁওয়ে ৬৮টি, গাইবান্ধায় ৫৫টি, নীলফামারীতে ৫৪টি, লালমনিরহাটে ৪২টি, দিনাজপুরে ৪০টি এবং পঞ্চগড়ে ২১টি।

রংপুর গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহকারি প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম জানান, বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষণ ও সংস্কারের জন্য এব যুগের বেশি সময় থেকে বরাদ্দ আসছে না। অনেক বদ্ধভূমির জমি ব্যক্তি মালিকানায় রয়েছে। ওইসব জমি উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সংস্কারের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে বধ্যভূমি

আপডেট টাইম : ১১:১৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

রংপুর বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা  বধভূমিগুলোর সংস্কার ও সংরক্ষণে বরাদ্দ নেই ১৪ বছর থেকে। সংরক্ষণের অভাবে এসব বধ্যভূমি স্মৃতি এখন অযত্ন আর অবহেলায় ধ্বংস হতে চলেছে। প্রযোজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় এর মধ্যে অনেক বধ্যভূমির অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার পথে। ২০১২ সালের দিকে রংপুর বিভাগের বধ্যভূমিগুলো সংস্কারের জন্য সামান্য কিছু বরাদ্দ এসেছিল। সেই বরাদ্দ কাজ শুরু করার পরপরই শেষ হয়ে যায়। এর পর আর কোনো বরাদ্দ আসেনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি জায়গায় বধ্যভূমি সংস্কারে কোনো জটিলতা না থাকলেও ব্যক্তি মালিকায় যেসব স্থানে বধ্যভূমি রয়েছে সেগুলো অধিগ্রহণের জটিলতায় সংস্কার কাজ আটকে আছে। এ বিষয়ে অনেকে মন্তব্য করেছেন, এসব হয়েছে বিগত সরকারের আন্তরিকতার অভাবে।

স্বাধীনতার পরই মুক্তিযুদ্ধে অর্থাৎ ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার স্থান তথা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি অমর করে রাখার জন্য এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনেক বধ্যভূমি উন্মুক্ত ভূমি বা জলাশয় ছিল। কিন্তু এর অনেকই ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে পড়ে। জমির মালিকরা ওই জমি ছাড়তে চান না। এ  কারণে বধ্যভূমিগুলোতে অনেকেই অবকাঠামো গড়ে তুলেছে। ফলে অনেক বধ্যভূমি হারিয়ে যেতে বসেছে।

২০১২ সালে রংপুর বিভাগের আট জেলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা থাকা ১০৮টি বধ্যভূমির জরিপ চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বধ্যভূমিগুলো চিহ্নিত করা হয়। এ  বধ্যভূমির মধ্যে সরকার মাত্র ৫০টি বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এজন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে স্থান ও জমি চিহ্নিত করে দেওয়া হয়। সরকারি জমিতে থাকা বদ্ধভূমি সংস্কারে কোনো সমস্যা না থাকলেও অনেক বদ্ধভূমি রয়েছে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে। সেসব জমি অধিগ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। রংপুরে পাঁচটি বধ্যভূমি সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু ৩টি বধ্যভূমি ব্যক্তি মালিকানায় থাকায় সেসব জমি এখন পর্যন্ত অধিগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে সংস্কারের সিদ্ধান্ত শুধু কাগজ কলমে সীমাবদ্ধ রয়ে যায়। তবে দগিগঞ্জসহ দুটি বদ্ধভূমির কিছুটা সংস্কার করা হয়।

গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের সূত্র মতে, প্রথম দফায় ২০১২ সালে কিছু টাকার বরাদ্দ পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে বরাদ্দ না আসায় শুরু হওয়ার পরপরই থমকে গেছে বধ্যভূমি সংস্কার ও সংরক্ষণের কাজ। ফলে এখনো বধ্যভূমিগুলো অবহেলায় পড়ে রয়েছে। রংপুর, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুরের বধ্যভূমি সংরক্ষণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে বিভিন্ন জটিলতায় সংস্কার করা যাচ্ছে না।

বধ্যভূমি নিয়ে কাজ করেন তাদের তথ্য মতে রংপুর বিভাগে গণহত্যার স্থান রয়েছে অনেক। যার মধ্যে রংপুর জেলায় ৩৯টি, কুড়িগ্রামে ৭৬টি, ঠাকুরগাঁওয়ে ৬৮টি, গাইবান্ধায় ৫৫টি, নীলফামারীতে ৫৪টি, লালমনিরহাটে ৪২টি, দিনাজপুরে ৪০টি এবং পঞ্চগড়ে ২১টি।

রংপুর গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহকারি প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম জানান, বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষণ ও সংস্কারের জন্য এব যুগের বেশি সময় থেকে বরাদ্দ আসছে না। অনেক বদ্ধভূমির জমি ব্যক্তি মালিকানায় রয়েছে। ওইসব জমি উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না।