টানা সাত দিনের লম্বা ছুটির তৃতীয় দিনেও ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল থেকে যানবাহনের কিছুটা বাড়তি চাপ থাকলেও কোনো ধরনের যানজট ছাড়াই দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীরা স্বস্তিতে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন। গত ৪৮ ঘণ্টায় সেতুর উভয় প্রান্ত দিয়ে ৮০ হাজার ৪০২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে প্রায় ৯ কোটি টাকা টোল আদায় হয়েছে।
পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের চাপ থাকলেও কোথাও যানজট সৃষ্টি হয়নি। বড় যানবাহনের জন্য ৭টি এবং মোটরসাইকেলের জন্য ৩টি পৃথক টোল কাউন্টার চালু থাকায় দ্রুততম সময়ে টোল আদায় সম্পন্ন হচ্ছে। ফলে টোল প্লাজায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে না। এছাড়া পুরো সেতু এলাকা ১৮১টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে, যার ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মহাসড়ক যানজটমুক্ত থাকলেও কিছু যাত্রীকে ভোগান্তিতে পড়তে দেখা গেছে। ঢাকা থেকে যারা সরাসরি টিকিট না পেয়ে ভেঙে ভেঙে মাওয়া পর্যন্ত এসেছেন, তারা পদ্মা সেতু উত্তর থানার সামনে গিয়ে পরিবহন সংকটে পড়েন। কাঙ্ক্ষিত বাস না পেয়ে অনেককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। নিরুপায় হয়ে অনেক যাত্রী অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ট্রাকে করে গন্তব্যে রওনা দিয়েছেন।
যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশের ৫ শতাধিক সদস্য ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম জানিয়েছেন, যাত্রী হয়রানি রোধে এবং মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত সচিব মো. আলতাফ হোসেন শেখ জানান, বৃহস্পতিবার পোশাক কারখানাগুলো ছুটি হওয়ায় গত দুদিনের তুলনায় যানবাহনের চাপ কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি মিনিটে গড়ে ৪৫ থেকে ৫০টি যানবাহন সেতুতে প্রবেশ করছে। তবে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকায় এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি। নির্বিঘ্নে ঈদ যাত্রা সম্পন্ন করতে পেরে সাধারণ যাত্রীরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
Reporter Name 





















