একসময় নদীর পাড়ের যে বালুচর ছিল অবহেলিত, আজ সেই সাদা বালুর বিস্তীর্ণ চরজুড়ে ফলছে সোনালি ফসল। চাষ হচ্ছে মৌসুমি ফসল; পেঁয়াজ, রসুন, ধানসহ নানা ধরনের শাকসবজি। নদীর তীরবর্তী ভূমিহীন কৃষকদের কাছে এই বালুচরই বর্তমানে হয়ে উঠেছে স্বপ্ন জোগানোর নতুন ঠিকানা।
করতোয়া, মহানন্দা, চাওয়াই, ডাহুক, বেরং, তালমা ও ছোট যমুনাসহ জেলার প্রায় ৫৪টি নদীর বিস্তীর্ণ বালুচরে এখন মৌসুমি ফসলের আবাদ হচ্ছে। তেতুলিয়া থেকে দেবীগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার নদীপথজুড়ে শীতকাল থেকে বর্ষা আসার আগ পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ ভূমিহীন কৃষক স্বল্পকালীন ফসল আবাদ করেন। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে কর্মসংস্থান, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে জীবিকা নির্বাহের নতুন সুযোগ।
বর্ষায় নদীর স্রোতে ভেসে আসা পলিমাটি জমে উর্বর হয়ে ওঠে এই চরগুলো। সেই মাটিতে উচ্চফলনশীল পেঁয়াজ, রসুন, বাদাম, বোরো ধানসহ নানা ধরনের সবজি আবাদ করছেন কৃষকেরা। অনেকে এই চরের ফসল বিক্রি করেই সারা বছর সংসার চালাচ্ছেন। প্রায় ৪০ হাজার ভূমিহীন মানুষ এই আবাদে জড়িয়ে আছেন।

কৃষকেরা জানান, এক বিঘা জমিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ করলে তিন মাস পর প্রায় ৬০ হাজার টাকার পেঁয়াজ বা রসুন ঘরে তোলা সম্ভব হয়। তবে অনেকেই বলছেন, কৃষি বিভাগের সরাসরি কোনো সহায়তা বা প্রয়োজনীয় পরামর্শ খুব একটা পান না।
এদিকে কৃষি বিভাগ জানায়, ২০২৫-২৬ মৌসুমে জেলার প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের আবাদ হয়েছে। কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে প্রণোদনা ও বিভিন্ন সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
নদীর বুকে জেগে ওঠা এই বালুচরই এখন হাজারো ভূমিহীন কৃষকের আশার আলো। মৌসুমি ফসলের সবুজে ভর করে বদলে যাচ্ছে তাদের জীবন ও জীবিকার গল্প।
Reporter Name 























