ঢাকা ১২:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অষ্টগ্রামের অলওয়েদার সড়ক নদীগর্ভে: যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:৪৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • ২২ বার

রফিকুল ইসলামঃ কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার হাওরাঞ্চলের মানুষের বহু প্রতীক্ষিত অলওয়েদার সড়কের একটি বড় অংশ অবশেষে মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। উপজেলার বাঙ্গালপাড়া থেকে নোয়াগাঁও পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক ধসে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

প্রায় ৯ বছর আগে নদীঘেঁষে নির্মিত এই সড়কটি ছিল হাওরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম ভরসা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা নদীভাঙনের ফলে ইতোমধ্যে নোয়াগাঁও ও উসমানপুর এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বহু বিদ্যুতের খুঁটি ও শত শত একর ফসলি জমি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ এবং জনরোষের মুখে পড়ে শেষ মুহূর্তে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। ফলে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি স্বপ্নের এই অলওয়েদার সড়ক।

এদিকে সড়কটির শেষ প্রান্তে প্রায় ১৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন বৃহৎ সেতু প্রকল্প নিয়েও দেখা দিয়েছে নতুন শঙ্কা। কারণ ওই সেতুর মূল সংযোগ পথই ছিল এই অলওয়েদার সড়ক। সড়কের একাংশ নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় পুরো প্রকল্পের কার্যকারিতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সড়ক ভেঙে যাওয়ার ফলে হাওরাঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় অংশ নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত দুই বছর ধরেই নদীভাঙন চলছিল এবং এ সময়ে অন্তত ৩০০ একর আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। প্রতিকার চেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-কে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হলেও দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতাই বেশি দেখা গেছে।

হাওরবাসীর প্রশ্ন—একদিনে তো এই ভাঙন সৃষ্টি হয়নি। তাহলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলজিইডি ও পাউবো আগে থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ নিল না কেন?

হাওরের মানুষের কাছে এই সড়ক শুধু একটি রাস্তা নয়, বরং জীবন-জীবিকার অন্যতম অবলম্বন। তাই এখনই সমন্বিত ও স্থায়ী উদ্যোগ না নিলে হাওরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

আসলে যার দরদ, সেই বোঝে। কোনো কিছুর প্রকৃত অনুভূতি কেবল সেই উপলব্ধি করতে পারে, যার হৃদয়ে সেই বিষয়টির প্রতি সত্যিকারের মায়া ও দায়বদ্ধতা রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

অষ্টগ্রামের অলওয়েদার সড়ক নদীগর্ভে: যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

আপডেট টাইম : ০১:৪৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

রফিকুল ইসলামঃ কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার হাওরাঞ্চলের মানুষের বহু প্রতীক্ষিত অলওয়েদার সড়কের একটি বড় অংশ অবশেষে মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। উপজেলার বাঙ্গালপাড়া থেকে নোয়াগাঁও পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক ধসে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

প্রায় ৯ বছর আগে নদীঘেঁষে নির্মিত এই সড়কটি ছিল হাওরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম ভরসা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা নদীভাঙনের ফলে ইতোমধ্যে নোয়াগাঁও ও উসমানপুর এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বহু বিদ্যুতের খুঁটি ও শত শত একর ফসলি জমি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ এবং জনরোষের মুখে পড়ে শেষ মুহূর্তে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। ফলে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি স্বপ্নের এই অলওয়েদার সড়ক।

এদিকে সড়কটির শেষ প্রান্তে প্রায় ১৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন বৃহৎ সেতু প্রকল্প নিয়েও দেখা দিয়েছে নতুন শঙ্কা। কারণ ওই সেতুর মূল সংযোগ পথই ছিল এই অলওয়েদার সড়ক। সড়কের একাংশ নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় পুরো প্রকল্পের কার্যকারিতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সড়ক ভেঙে যাওয়ার ফলে হাওরাঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় অংশ নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত দুই বছর ধরেই নদীভাঙন চলছিল এবং এ সময়ে অন্তত ৩০০ একর আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। প্রতিকার চেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-কে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হলেও দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতাই বেশি দেখা গেছে।

হাওরবাসীর প্রশ্ন—একদিনে তো এই ভাঙন সৃষ্টি হয়নি। তাহলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলজিইডি ও পাউবো আগে থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ নিল না কেন?

হাওরের মানুষের কাছে এই সড়ক শুধু একটি রাস্তা নয়, বরং জীবন-জীবিকার অন্যতম অবলম্বন। তাই এখনই সমন্বিত ও স্থায়ী উদ্যোগ না নিলে হাওরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

আসলে যার দরদ, সেই বোঝে। কোনো কিছুর প্রকৃত অনুভূতি কেবল সেই উপলব্ধি করতে পারে, যার হৃদয়ে সেই বিষয়টির প্রতি সত্যিকারের মায়া ও দায়বদ্ধতা রয়েছে।