ঢাকা ১১:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যার শঙ্কা, ৭২ ঘণ্টায় বাড়তে পারে নদীর পানি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:২৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • ৪১ বার

দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও উজানে ভারতের মেঘালয়, আসাম, সিকিম এবং পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে দেশের অধিকাংশ নদ-নদীর পানি বাড়ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী দুই দিনে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে। একইসঙ্গে তিস্তা, দুধকুমার, সোমেশ্বরী ও ভুগাই-কংস অববাহিকার কিছু নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল ইসলাম শোভনের সই করা বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি এবং পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন ভারতের উজান এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বর্তমানে কোনো লঘুচাপ নেই।

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদ-নদীগুলোর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। আগামী পাঁচদিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলেও নদীগুলো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় পানি দ্রুত বাড়ছে। সুরমা নদীর ছাতক স্টেশন এবং কুশিয়ারা নদীর মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে পানি এরইমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া কানাইঘাট, সিলেট ও সুনামগঞ্জে সুরমা এবং মৌলভীবাজারের শেরপুরে কুশিয়ারার পানি সতর্ক সীমায় রয়েছে। আগামী দুই দিনে এ নদীগুলোর পানি আরও বাড়তে পারে, ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে।

রংপুর বিভাগের তিস্তা নদীর ডালিয়া ও কাউনিয়া পয়েন্টে পানি সতর্ক সীমায় রয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামের কিছু এলাকায় তিস্তা ও দুধকুমারের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করতে পারে। একই সময়ে গাইবান্ধায় তিস্তা এবং কুড়িগ্রামে ধরলার পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে।

ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শেরপুর, নেত্রকোণা ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলে সোমেশ্বরী ও ভুগাই-কংসের পানি বৃদ্ধি পেয়ে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। একইভাবে সিলেট ও সুনামগঞ্জে সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা অববাহিকার কিছু নিম্নাঞ্চলেও স্বল্পমেয়াদি প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমছে। ফলে বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকতে পারে। উপকূলীয় নদীগুলোতেও আগামী তিন দিন স্বাভাবিক জোয়ার বিরাজ করবে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

“একবার না পারিলে দেখ শতবার”- হযরত স্যারের শেখানোর মূলমন্ত্র

সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যার শঙ্কা, ৭২ ঘণ্টায় বাড়তে পারে নদীর পানি

আপডেট টাইম : ১১:২৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও উজানে ভারতের মেঘালয়, আসাম, সিকিম এবং পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে দেশের অধিকাংশ নদ-নদীর পানি বাড়ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী দুই দিনে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে। একইসঙ্গে তিস্তা, দুধকুমার, সোমেশ্বরী ও ভুগাই-কংস অববাহিকার কিছু নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল ইসলাম শোভনের সই করা বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি এবং পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন ভারতের উজান এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বর্তমানে কোনো লঘুচাপ নেই।

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদ-নদীগুলোর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। আগামী পাঁচদিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলেও নদীগুলো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় পানি দ্রুত বাড়ছে। সুরমা নদীর ছাতক স্টেশন এবং কুশিয়ারা নদীর মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে পানি এরইমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া কানাইঘাট, সিলেট ও সুনামগঞ্জে সুরমা এবং মৌলভীবাজারের শেরপুরে কুশিয়ারার পানি সতর্ক সীমায় রয়েছে। আগামী দুই দিনে এ নদীগুলোর পানি আরও বাড়তে পারে, ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে।

রংপুর বিভাগের তিস্তা নদীর ডালিয়া ও কাউনিয়া পয়েন্টে পানি সতর্ক সীমায় রয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামের কিছু এলাকায় তিস্তা ও দুধকুমারের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করতে পারে। একই সময়ে গাইবান্ধায় তিস্তা এবং কুড়িগ্রামে ধরলার পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে।

ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শেরপুর, নেত্রকোণা ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলে সোমেশ্বরী ও ভুগাই-কংসের পানি বৃদ্ধি পেয়ে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। একইভাবে সিলেট ও সুনামগঞ্জে সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা অববাহিকার কিছু নিম্নাঞ্চলেও স্বল্পমেয়াদি প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমছে। ফলে বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকতে পারে। উপকূলীয় নদীগুলোতেও আগামী তিন দিন স্বাভাবিক জোয়ার বিরাজ করবে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।