ঢাকা ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

ধানের মণ ৮০০, শ্রমিকের মজুরি ১২০০ টাকা হতাশা গ্রামের কৃষক

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
  • ৪৫ বার

ধানের মণ ৮০০ টাকা, আর একজন কামলার মজুরি ১২০০ টাকা। তাহলে আমরা খামু কি, বেচমুই কি? কথাগুলো বলতে বলতেই চোখে-মুখে হতাশার ছাপ ফুটে ওঠে মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলামের।’

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে মেলান্দহে কথা হয় তার সঙ্গে। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ধান কাটার ব্যস্ত মৌসুমেও কৃষকদের মাঝে নেই কোনো উৎসবের আমেজ। সোনালি ধানে ভরা ক্ষেতের পাশে দাঁড়িয়ে তারা হিসাব মেলাচ্ছেন শুধু লোকসানের।

কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি উপকরণের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। ডিজেল, সার, বীজ, সেচ সবকিছুর খরচ বেড়েছে। তার ওপর শ্রমিক সংকটে ধান কাটার মজুরি এখন আকাশছোঁয়া। অথচ বাজারে ধানের মণ মাত্র ৮০০ টাকা।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বিঘা জমিতে ধান কাটতে লাগে প্রায় আট শ্রমিক। ১২০০ টাকা দিন হিসেবে শুধু শ্রমিক খরচই পড়ে প্রায় ৯ হাজার ৬০০ টাকা। এছাড়া জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, সেচ ও পরিচর্যাসহ এক বিঘা জমিতে মোট খরচ দাঁড়ায় ২৩ থেকে ২৫ হাজার টাকা। অথচ প্রতি বিঘায় ২৪-২৫ মণ ধান হলেও বাজারে ৮০০ টাকা মণ হিসেবে বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে ২০ হাজারের মতো। ফলে বিঘাপ্রতি তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুণতে হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বোরো মৌসুমে জামালপুরে এক লাখ ২৬ হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। তবে উৎপাদন ভালো হলেও দাম না পাওয়ায় হতাশায় ভুগছেন চাষিরা।

জীবনভর কৃষিকাজ করা মেলান্দহের কৃষক সুরুজ মিয়া বলেন, ‘ছোটবেলা থাইকাই বাবার সঙ্গে কাজ করছি। বাবা মারা যাওয়ার পর নিজেই চাষাবাদ করি। কিন্তু এমণ অবস্থা কখনো দেখি নাই। সবকিছুর দাম বাড়ছে, কামলার মজুরি ১২০০, আর ধানের দাম ৮০০ টাকা। আমার ৯ বিঘা জমির উপর নির্ভর করেই সংসার চলে। এবার কি হইবো আল্লাহ ভালো জানে। এহন তো মনে হয় কৃষকগো মরার অবস্থা।’

একই হতাশা ঝরে পড়ে কৃষক রবিউল ইসলামের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, প্রতি বিঘায় ধান হয় ২৮ মণের মতো। শুকানোর পর থাকে ২৪-২৫ মণ। কিন্তু খরচই হইছে প্রায় ২৬ হাজার টাকা। এবার ধান বেইচা ২০ হাজার টাকাও তুলতে পারমু না। আসলই উঠবো না।

কৃষকদের এমন সংকটের বিষয়ে জামালপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান বলেন, কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি, তারা যেন এক বা দুই মাস পর ধান বিক্রি করেন। তাহলে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এছাড়া সরকারি গুদামে দিলে বেশি দাম পাবে। তবে পাইকারদের কাছে কম দামে বিক্রি করলে কিছু করার থাকে না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

ধানের মণ ৮০০, শ্রমিকের মজুরি ১২০০ টাকা হতাশা গ্রামের কৃষক

আপডেট টাইম : ১২:০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

ধানের মণ ৮০০ টাকা, আর একজন কামলার মজুরি ১২০০ টাকা। তাহলে আমরা খামু কি, বেচমুই কি? কথাগুলো বলতে বলতেই চোখে-মুখে হতাশার ছাপ ফুটে ওঠে মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলামের।’

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে মেলান্দহে কথা হয় তার সঙ্গে। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ধান কাটার ব্যস্ত মৌসুমেও কৃষকদের মাঝে নেই কোনো উৎসবের আমেজ। সোনালি ধানে ভরা ক্ষেতের পাশে দাঁড়িয়ে তারা হিসাব মেলাচ্ছেন শুধু লোকসানের।

কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি উপকরণের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। ডিজেল, সার, বীজ, সেচ সবকিছুর খরচ বেড়েছে। তার ওপর শ্রমিক সংকটে ধান কাটার মজুরি এখন আকাশছোঁয়া। অথচ বাজারে ধানের মণ মাত্র ৮০০ টাকা।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বিঘা জমিতে ধান কাটতে লাগে প্রায় আট শ্রমিক। ১২০০ টাকা দিন হিসেবে শুধু শ্রমিক খরচই পড়ে প্রায় ৯ হাজার ৬০০ টাকা। এছাড়া জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, সেচ ও পরিচর্যাসহ এক বিঘা জমিতে মোট খরচ দাঁড়ায় ২৩ থেকে ২৫ হাজার টাকা। অথচ প্রতি বিঘায় ২৪-২৫ মণ ধান হলেও বাজারে ৮০০ টাকা মণ হিসেবে বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে ২০ হাজারের মতো। ফলে বিঘাপ্রতি তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুণতে হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বোরো মৌসুমে জামালপুরে এক লাখ ২৬ হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। তবে উৎপাদন ভালো হলেও দাম না পাওয়ায় হতাশায় ভুগছেন চাষিরা।

জীবনভর কৃষিকাজ করা মেলান্দহের কৃষক সুরুজ মিয়া বলেন, ‘ছোটবেলা থাইকাই বাবার সঙ্গে কাজ করছি। বাবা মারা যাওয়ার পর নিজেই চাষাবাদ করি। কিন্তু এমণ অবস্থা কখনো দেখি নাই। সবকিছুর দাম বাড়ছে, কামলার মজুরি ১২০০, আর ধানের দাম ৮০০ টাকা। আমার ৯ বিঘা জমির উপর নির্ভর করেই সংসার চলে। এবার কি হইবো আল্লাহ ভালো জানে। এহন তো মনে হয় কৃষকগো মরার অবস্থা।’

একই হতাশা ঝরে পড়ে কৃষক রবিউল ইসলামের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, প্রতি বিঘায় ধান হয় ২৮ মণের মতো। শুকানোর পর থাকে ২৪-২৫ মণ। কিন্তু খরচই হইছে প্রায় ২৬ হাজার টাকা। এবার ধান বেইচা ২০ হাজার টাকাও তুলতে পারমু না। আসলই উঠবো না।

কৃষকদের এমন সংকটের বিষয়ে জামালপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান বলেন, কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি, তারা যেন এক বা দুই মাস পর ধান বিক্রি করেন। তাহলে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এছাড়া সরকারি গুদামে দিলে বেশি দাম পাবে। তবে পাইকারদের কাছে কম দামে বিক্রি করলে কিছু করার থাকে না।