ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
যে কারণে ভারতে বন্ধ হতে পারে হোয়াটসঅ্যাপ-টেলিগ্রাম ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহরে রূপান্তর করতে চান প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর, বছর শেষ হওয়ার আগেই মিলবে নতুন বই ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন ১৮৫ কেন্দ্রের ১১৫টিই ঝুঁকিপূর্ণ, কড়া নিরাপত্তায় মাঠে এসআরবি অবশেষে মুক্তি পাচ্ছে সাইমন-মাহির ‘আনন্দ অশ্রু’ বিশ্বকাপের শেষ আটে বাংলাদেশ, একদিনে দুবার টাইব্রেকারে জয় প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে: হুমায়ুন কবীর ইটনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান সাবেক ছাত্রদল নেতা আনম উল্লাহ সানি সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন আওয়ামী আমলের আমলনামা উন্নয়নের আড়ালে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি

অকাল বন্যায় নিঃস্ব হাওরবাসী—তবুও হয়নি আলাদা হাওর মন্ত্রণালয়

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:৪৩:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • ১৫৩ বার

মোহাম্মদ জাকির হোসাইনঃ বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা আজও অবহেলা বঞ্চিত , অকাল বন্যায় আর নদী-খাল ভরাটের নির্মম বাস্তবতার সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে আছে হাওরের মানুষ । বছরের পর বছর ধরে কোটি কোটি টাকার ফসল শিলা বৃষ্টিতে পানিতে তলিয়ে গেলেও হাওরবাসীর টেকসই সুরক্ষায় কার্যকর ও স্থায়ী কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান এখনও হয়নি।

ফলে হাওরাঞ্চলের সচেতন মহল এবং স্থানীয় জনগণ এখন জোরালোভাবে দাবি তুলেছেন—হাওরের জন্য প্রয়োজন একটি স্বতন্ত্র আলাদা করে “হাওর মন্ত্রণালয়” গঠন করা ।

হাওর উন্নয়নকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের মতে, শুধু বাঁধ নির্মাণ করে হাওর রক্ষা সম্ভব হবে না। বরং হাওরের ভরাট হয়ে যাওয়া নদী-নালা, খাল ও বিল পুনঃখননের মাধ্যমে পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করাই হবে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান। সচেতন নাগরিকরা আক্ষেপ করে বলেন, “প্রতিবছর ফসলহানি হয়, কৃষক নিঃস্ব হয়, কিন্তু হাওরের স্থায়ী উন্নয়নে আলাদা কোনো রাষ্ট্রীয় কাঠামো আজও গড়ে ওঠেনি।”

তাদের মতে, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার হাওরাঞ্চলের প্রধান নদ-নদী, খাল ও বিল দ্রুত খনন করা না হলে অকাল বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে ধনু, কালনী ও কুশিয়ারাসহ গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর নাব্যতা হারিয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না।

হাওরবাসীর দাবি, সরকার বর্তমানে যে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, সেখানে হাওরাঞ্চলকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে বিশেষ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যজীবীদের সম্পৃক্ত করে খনন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
এদিকে দীর্ঘমেয়াদে “স্বতন্ত্র হাওর মন্ত্রণালয়” গঠনের দাবিও ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সচেতন মহলের ভাষ্য, একটি আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন করা গেলে হাওরের কৃষি, মৎস্য, অবকাঠামো, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষাকে একই ছাতার নিচে এনে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

প্রস্তাবিত এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে “হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর”কে আরও শক্তিশালী করা, অকাল বন্যার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালু, হাওর উপযোগী কৃষি গবেষণা বৃদ্ধি এবং টেকসই রাস্তা ও সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

তারা মনে করেন, বর্তমান সরকার হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য যে বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে, সেটিকে আরও কার্যকর ও স্থায়ী রূপ দিতে হলে এখনই স্বতন্ত্র হাওর মন্ত্রণালয় গঠন করা জরুরি।
হাওরবাসীর প্রশ্ন—“দেশের খাদ্য ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত হাওর অঞ্চল যদি প্রতি বছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধ্বংস হয়, তাহলে জাতীয় অর্থনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ জনপদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনে আর কত অপেক্ষা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

যে কারণে ভারতে বন্ধ হতে পারে হোয়াটসঅ্যাপ-টেলিগ্রাম

অকাল বন্যায় নিঃস্ব হাওরবাসী—তবুও হয়নি আলাদা হাওর মন্ত্রণালয়

আপডেট টাইম : ০৭:৪৩:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

মোহাম্মদ জাকির হোসাইনঃ বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা আজও অবহেলা বঞ্চিত , অকাল বন্যায় আর নদী-খাল ভরাটের নির্মম বাস্তবতার সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে আছে হাওরের মানুষ । বছরের পর বছর ধরে কোটি কোটি টাকার ফসল শিলা বৃষ্টিতে পানিতে তলিয়ে গেলেও হাওরবাসীর টেকসই সুরক্ষায় কার্যকর ও স্থায়ী কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান এখনও হয়নি।

ফলে হাওরাঞ্চলের সচেতন মহল এবং স্থানীয় জনগণ এখন জোরালোভাবে দাবি তুলেছেন—হাওরের জন্য প্রয়োজন একটি স্বতন্ত্র আলাদা করে “হাওর মন্ত্রণালয়” গঠন করা ।

হাওর উন্নয়নকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের মতে, শুধু বাঁধ নির্মাণ করে হাওর রক্ষা সম্ভব হবে না। বরং হাওরের ভরাট হয়ে যাওয়া নদী-নালা, খাল ও বিল পুনঃখননের মাধ্যমে পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করাই হবে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান। সচেতন নাগরিকরা আক্ষেপ করে বলেন, “প্রতিবছর ফসলহানি হয়, কৃষক নিঃস্ব হয়, কিন্তু হাওরের স্থায়ী উন্নয়নে আলাদা কোনো রাষ্ট্রীয় কাঠামো আজও গড়ে ওঠেনি।”

তাদের মতে, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার হাওরাঞ্চলের প্রধান নদ-নদী, খাল ও বিল দ্রুত খনন করা না হলে অকাল বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে ধনু, কালনী ও কুশিয়ারাসহ গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর নাব্যতা হারিয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না।

হাওরবাসীর দাবি, সরকার বর্তমানে যে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, সেখানে হাওরাঞ্চলকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে বিশেষ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যজীবীদের সম্পৃক্ত করে খনন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
এদিকে দীর্ঘমেয়াদে “স্বতন্ত্র হাওর মন্ত্রণালয়” গঠনের দাবিও ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সচেতন মহলের ভাষ্য, একটি আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন করা গেলে হাওরের কৃষি, মৎস্য, অবকাঠামো, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষাকে একই ছাতার নিচে এনে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

প্রস্তাবিত এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে “হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর”কে আরও শক্তিশালী করা, অকাল বন্যার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালু, হাওর উপযোগী কৃষি গবেষণা বৃদ্ধি এবং টেকসই রাস্তা ও সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

তারা মনে করেন, বর্তমান সরকার হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য যে বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে, সেটিকে আরও কার্যকর ও স্থায়ী রূপ দিতে হলে এখনই স্বতন্ত্র হাওর মন্ত্রণালয় গঠন করা জরুরি।
হাওরবাসীর প্রশ্ন—“দেশের খাদ্য ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত হাওর অঞ্চল যদি প্রতি বছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধ্বংস হয়, তাহলে জাতীয় অর্থনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ জনপদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনে আর কত অপেক্ষা।