ঢাকা ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অভিন্ন ভবিষ্যতের জন্য ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ : প্রণয় ভার্মা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:২৯:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২২ বার

ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশ একে অপরের টেকসই উন্নয়নের সহায়ক এবং শক্তিশালী আঞ্চলিক সংহতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করার জন্য যথাযথ অবস্থানে রয়েছ

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর এক হোটেলে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ আমাদের এ যাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ সহযাত্রী’ বলে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

ভার্মা বলেন, ঢাকা ও দিল্লি ‘ভবিষ্যতমুখী ও ভবিষ্যতর জন্য প্রস্তুত সহযোগিতা’ চায়। তিনি এ অংশীদারিত্বকে ‘যা বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি দ্বারা চালিত এবং পারস্পরিক স্বার্থ, পারস্পরিক সুবিধা ও পারস্পরিক সংবেদনশীলতায় ও সহায়তায় টিকে আছে।’

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত একটি বিশেষ সম্পর্ক ভাগ করে নেয়, যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় যৌথ আত্মত্যাগের অবিচ্ছেদ্য ইতিহাসের সাথে যুক্ত।

তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক বন্ধন গভীরভাবে প্রোথিত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম, যাদের সাহিত্য আমাদের সংস্কৃতি ও সাহিত্যকে যুক্ত করেছে, পাশাপাশি সঙ্গীত, শিল্পকলা, নৃত্য, নাটক ও চলচ্চিত্রের যৌথ ঐতিহ্যও রয়েছে।

ভার্মা আঞ্চলিক সংযোগ ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রসারকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘ভারতের একটি রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশে উচ্চগতির ডিজেল সরবরাহকারী সীমান্ত পাইপলাইন’ এবং ‘ভারতীয় গ্রিডের মাধ্যমে ভারত ও নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সীমান্ত বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন’ আঞ্চলিক জ্বালানি সংযোগ ও সংহতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, আমাদের সাপ্লাই চেইন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) ও ওষুধ শিল্পকে শক্তিশালী করছে, যা পারস্পরিক সহযোগিতা ও আন্তঃনির্ভরতার সুফল প্রমাণ করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ ধরনের অংশীদারিত্ব দু’ দেশের জনগণ ও ব্যবসার জন্য বাস্তব সুফল বয়ে এনেছে।’

ভার্মা বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ একসাথে ‘আঞ্চলিক ভ্যালু চেইন, যৌথ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম ও জ্বালানি করিডোর’ গড়ে তুলতে পারে, একটি ‘পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ’ জ্বালানি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এবং পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় যৌথভাবে কাজ করতে পারে।

ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ‘আজ আমরা ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করতে একত্রিত হয়েছি। আমরা বাংলাদেশের সাথে আমাদের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করছি এবং বাংলাদেশের জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি ও সফলতা কামনা করছি।’

তিনি আরো বলেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে। বাসস

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

অভিন্ন ভবিষ্যতের জন্য ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ : প্রণয় ভার্মা

আপডেট টাইম : ১০:২৯:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশ একে অপরের টেকসই উন্নয়নের সহায়ক এবং শক্তিশালী আঞ্চলিক সংহতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করার জন্য যথাযথ অবস্থানে রয়েছ

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর এক হোটেলে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ আমাদের এ যাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ সহযাত্রী’ বলে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

ভার্মা বলেন, ঢাকা ও দিল্লি ‘ভবিষ্যতমুখী ও ভবিষ্যতর জন্য প্রস্তুত সহযোগিতা’ চায়। তিনি এ অংশীদারিত্বকে ‘যা বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি দ্বারা চালিত এবং পারস্পরিক স্বার্থ, পারস্পরিক সুবিধা ও পারস্পরিক সংবেদনশীলতায় ও সহায়তায় টিকে আছে।’

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত একটি বিশেষ সম্পর্ক ভাগ করে নেয়, যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় যৌথ আত্মত্যাগের অবিচ্ছেদ্য ইতিহাসের সাথে যুক্ত।

তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক বন্ধন গভীরভাবে প্রোথিত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম, যাদের সাহিত্য আমাদের সংস্কৃতি ও সাহিত্যকে যুক্ত করেছে, পাশাপাশি সঙ্গীত, শিল্পকলা, নৃত্য, নাটক ও চলচ্চিত্রের যৌথ ঐতিহ্যও রয়েছে।

ভার্মা আঞ্চলিক সংযোগ ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রসারকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘ভারতের একটি রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশে উচ্চগতির ডিজেল সরবরাহকারী সীমান্ত পাইপলাইন’ এবং ‘ভারতীয় গ্রিডের মাধ্যমে ভারত ও নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সীমান্ত বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন’ আঞ্চলিক জ্বালানি সংযোগ ও সংহতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, আমাদের সাপ্লাই চেইন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) ও ওষুধ শিল্পকে শক্তিশালী করছে, যা পারস্পরিক সহযোগিতা ও আন্তঃনির্ভরতার সুফল প্রমাণ করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ ধরনের অংশীদারিত্ব দু’ দেশের জনগণ ও ব্যবসার জন্য বাস্তব সুফল বয়ে এনেছে।’

ভার্মা বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ একসাথে ‘আঞ্চলিক ভ্যালু চেইন, যৌথ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম ও জ্বালানি করিডোর’ গড়ে তুলতে পারে, একটি ‘পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ’ জ্বালানি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এবং পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় যৌথভাবে কাজ করতে পারে।

ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ‘আজ আমরা ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করতে একত্রিত হয়েছি। আমরা বাংলাদেশের সাথে আমাদের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করছি এবং বাংলাদেশের জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি ও সফলতা কামনা করছি।’

তিনি আরো বলেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে। বাসস