আমনে বাম্পার ফলনের পর বোরো আবাদেও চমক দেখাতে মাঠে নেমেছে চট্টগ্রাম অঞ্চলের কৃষকেরা। এ অঞ্চলের পাঁচ জেলায় এবার রেকর্ড দুই লাখ ৯৮ হাজার ৭৫৩ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বীজতলা তৈরিতে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের প্রত্যাশা, এবার আবাদেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াবে। এবার প্রান্তিক কৃষকদের প্রণোদনা দেয়ায় বোরো আবাদে মাঠপর্যায়ে উৎসাহ বেড়েছে। তাছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণ উন্নতজাতের বীজ, সার এবং সেচ ব্যবস্থা সচল থাকায় আবাদ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং চাল আমদানি কমাতে সারাদেশে ধানের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তিকালিন সরকার। চাষযোগ্য জমির পুরোটাই আবাদ করতে নেয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। কৃষিপর্যায়ে সার, বীজসহ নানা প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া বাজারে ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে। আবার সরকারি উদ্যোগে ন্যায্যদামে খাদ্য সংগ্রহ অভিযানও চালু রয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো চট্টগ্রাম অঞ্চলেও ধান আবাদে উৎসাহ বাড়ছে। আমন আবাদে বাম্পার ফলন পেয়ে উজ্জীবিত চাষিরা এখন বোরো আবাদে মনোনিবেশ করেছে।
চলতি আমন মৌসুমে চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ ৮৪ হাজার ১৩০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত পাঁচ লাখ ৭১ হাজার ১২৪ হেক্টর জমির ধান কর্তন শেষ হয়েছে। যা মোট আবাদের ৯৮ শতাংশ। কৃষি বিভাগের হিসাবে, আমনে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকরা ধানের দামও পাচ্ছেন ভালো। সাফল্যের এ ধারায় বোরো আবাদে মনোযোগী হচ্ছেন প্রান্তিক চাষিরা। গতকাল পর্যন্ত ১১ হাজার ৬৭৩ হেক্টর জমিতে বোরোর বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।
ফলন বাড়াতে চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় হাইব্রিড এবং উচ্চ ফলনশীল বা উফশি প্রজাতির ধানের আবাদ বেশি করা হচ্ছে। আবাদের লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ৯৮ হাজার ৭৫৩ হেক্টরের মধ্যে হাইব্রিড ধানের আবাদ হচ্ছে এক লাখ ৪৫ হাজার ৩১৫ হেক্টরে। উফশি আবাদ হচ্ছে এক লাখ ৫৩ হাজার ২৮৮ হেক্টরে। স্থানীয় জাতের বোরো আবাদ হবে মাত্র ১৫০ হেক্টর জমিতে। গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় মাত্র চার হাজার ৪৭১ হেক্টরে বোরোর আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে ফলন আসে কিছুটা দেরিতে। আর ওই জমিতে করা হয় বোরো ধানের আবাদ। এজন্য দেশের অন্য এলাকার চেয়ে এ অঞ্চলে বোরো ধানের আবাদ হয় শেষের দিকে। তবে এর মধ্যে বীজতলা প্রস্তুত হয়েছে। বোরো আবাদের জমিও তৈরি হচ্ছে।
আমন ফসলের তুলনায় বোরো ধানের আবাদ ব্যয়বহুল। এতে চাষিরা বোরো চাষে তেমন আগ্রহ দেখায় না। আর এ কারণে সরকার বোরো ধান উৎপাদনে নানা ধরনের প্রণোদনা দিয়েছে। বোরো ধান আবাদে উফশি জাতের বীজ ও সার সহায়তা দেয়া হয়েছে কৃষকদের। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলার ৪২টি উপজেলায় এক লাখ সাত হাজার ৫৬৫ টাকা প্রণোদনা দেয়া হয়। এ কর্মসূচির আওতায় আসেন ১৪ হাজার ২০০ কৃষক। হাইব্রিড জাতের ধান ও সার সহায়তা দেয়া হয় ৪২ উপজেলার ৩৪ হাজার ৮০০ কৃষককে। বীজ সহায়তা দেয়া হয় ৩১টি উপজেলার ৬৩ হাজার প্রান্তিক চাষিকে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উন্নতজাতের বীজ সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে। বোরো ধান আবাদে এবার পানি সঙ্কটও নেই। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় এ অঞ্চলের খাল, ডোবা ও পুকুরে পর্যাপ্ত পানি রয়েছে। প্রান্তিক চাষিদের সেচযন্ত্রও সচল রয়েছে। সেচের ভর মওসুমে ডিজেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ফলে বোরো ধান আবাদে বড় ধরনের সঙ্কটের কোন আশঙ্কা নেই।
এবার চট্টগ্রামে ৬৯ হাজার ৩৫০ হেক্টর, কক্সবাজারে ৫৫ হাজার ৭০০ হেক্টর, নোয়াখালীতে এক লাখ চার হাজার ৯৫ হেক্টর, ফেনীতে ৩১ হাজার ৪০৮ হেক্টর ও লক্ষ্মীপুরে ৩৮ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হচ্ছে।
Reporter Name 























