বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে কোনো বিধি-নিষেধ নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তারেক রহমান আসতে চাইলে এক দিনের মধ্যে পাস (ট্রাভেল পাস) ইস্যু করা যায় বলেও জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি : পরিবর্তনশীল বিশ্বে একটি প্রাসঙ্গিক ভূমিকা নির্ধারণ’ শীর্ষক এক সেশনে এ কথা বলেন তিনি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, উনি যদি আসতে চান সেটা এক দিনের মধ্যে ট্রাভেল পাস ইস্যু করা যায়।
আমি এতকুটু বলতে পারি, বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে কোনো বাধা নেই। তারেক রহমান দেশে আসার জন্য আবেদন করেছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের দেশে ফেরার ক্ষেত্রে আগ্রহ আছে কি নেই সেটা আপনাদের (গণমাধ্যমের) মাধ্যমে আমি জানি। তবে তারেক রহমান দেশে ফিরতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা মিশনে কোনো আবেদন করেছেন কি না এ নিয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।’তারেক রহমানের দেশে ফেরার ক্ষেত্রে কিছু রাষ্ট্র বা গোয়েন্দা সংস্থার আপত্তির কথা শোনা যায়।
সে বিষয়ে উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের কাছে এ রকম কোনো বার্তা নেই। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া অসুস্থ। তারেক রহমান দেশে ফিরতে বাধার কথা বলছেন।’ তাহলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন না হওয়ার বিষয়ে কোনো শঙ্কা দেখেন কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘তারেক রহমান এখানে উপস্থিত না থাকলেও সত্যিকার অর্থেই বিএনপির নেতৃত্ব তাঁর হাতেই।
উনি ঢাকায় পদার্পণ না করলে যে নির্বাচন হবে না বা সুষ্ঠু হবে না এটা আমার ঠিক মনে হয় না। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না এটা অন্য আরো ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করে।’ খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘খালেদা জিয়া অসুস্থ। এই মুহূর্তে উনাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা নেই। যদি একটু উন্নতি হয় তাহলে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে পার্টি যদি বলে সরকার সহায়তা করবে।
’ভারতে অবস্থানরত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রত্যর্পণ ইস্যুতে তিনি বলেন, ‘তাঁর বিষয়ে অফিশিয়াল কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।’তিনি বলেন, ‘আমরা খুব সহজে ভুটান-নেপালে যেতে পারছি না। এসব দেশের সঙ্গে আমাদের বর্ডার নেই। ভুটান-নেপালের সঙ্গে আমাদের বড় কাজে ভারতকে প্রয়োজন হয়।’
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে অবশ্যই আওয়ামী লীগ থাকবে না। বাংলাদেশের সীমান্তের খুব কাছাকাছি ভারতের ঘাঁটি করার বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে ভারতের যে চুক্তি আছে সে অনুযায়ী কোনো দেশ সীমান্তের ৫০০ গজের মধ্যে সামরিক ঘাঁটি করবে না। বর্তমানে এটা সেই চুক্তির বাইরে না, তাই এটা নিয়ে আমাদের আপত্তি করার কোনো সুযোগ নেই। তারা এটা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য করছে—এ রকম তো মনে করার কোনো কারণ নেই।’
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত পৃথিবীর একমাত্র সীমান্ত, যেখানে মানুষ গুলি করে মারা হয়। আর দ্বিতীয় কোনো সীমান্তে এ রকম নেই। আমি স্পষ্টভাবেই বলেছি, এটার কোনো সমাধান আমি আপাতত দেখছি না।’
তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে দু-একটি ইস্যুতে সম্পর্ক আটকে থাকবে না। কারণ, বহুমাত্রিক সম্পর্ক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আছে, ভারতের সঙ্গেও আছে। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ইচ্ছাকৃতভাবে খারাপ করে রাখা হয়েছিল বলে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘কিছু সিদ্ধান্ত ছিল যার কারণে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আগের তুলনায় অবনতি হয়েছিল। তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে যদি বিকল্প একটি উৎস থাকে, সেটা তো মনে হয় আমাদের স্বার্থেই আসে। আমরা তো পাকিস্তান থেকে তুলা আনতে পারি, পেঁয়াজও এসেছে যখন ঘাটতি ছিল।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা একটা মানবিক ইস্যু এবং একই সঙ্গে নিরাপত্তা ইস্যু। আমরা এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছি, একটা রোডম্যাপে আসতে পারি কি না। এখানে সমস্যা অনেক।’