জেলা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী দুই দলের দায়িত্বশীল পদে রয়েছেন বেলায়েত হোসেন নামের এক ব্যক্তি। বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তবে বেলায়েতের দলে যোগদানের বিষয়ে উভয় দলের নেতারা ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।
তবে বেলায়াত হোসাইন জানান, ২০২০ সাল পর্যন্ত আমি বিএনপির সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম। ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর গঠিত ওয়ার্ড কমিটিতে আমার নাম থাকলেও, ইউনিয়ন বিএনপির দলীয় কোন নির্বাচনে আমি ভোট দিইনি। ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু চান ও সাধারণ সম্পাদক জামাল মিয়ার উপস্থিতিতে এক আলোচনা সভায় আমি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করি। তবে, আমি লিখিতভাবে পদত্যাগ পত্র জমা দেয়নি। আমি ২০২১ সালের ২০ নভেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করি।
জানা গেছে, বেলায়েত হোসেন বর্তমানে উপজেলার ৫নং সমাজ সহিলদেও ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি পদে দলীয় তালিকাতেও তার নাম রয়েছে। বেলায়েত একই ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের মৃত তাহের উদ্দিনের ছেলে।
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বেলায়েত দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর সর্বশেষ অনুমোদিত ওয়ার্ড কমিটিতে তিনি সহসভাপতি হন। এর আরও কয়েক বছর আগে তিনি একই ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন।
উক্ত ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মাহফুজুর রহমান বলেন ২০২১ সাল থেকে ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন বেলায়াত। একসময় তিনি বিএনপি করতেন। এমনকি ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জামায়াত ট্যাগ দিয়ে বেলায়েতকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। অনেক দিন তিনি জেলেও কেটেছেন।
ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নান্নু মিয়া বলেন, ‘বেলায়েত হোসেন অনেক আগে থেকেই বিএনপিতে ছিলেন। সর্বশেষ ২০২১ সালের নতুন কমিটিতে সহ সভাপতি হন। পরে শুনেছি তিনি জামায়াতে যোগদান করেন। ।তাঁকে বহিষ্কার করব ভাবছি। তবে সময়ের কারণে তা হয়ে উঠেনি। এ বিষয়ে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই বেলায়েত বিএনপি করতেন। সম্প্রতি জানলাম তিনি জামায়াতের পদেও রয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
Reporter Name 

























