ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সমঝোতায় নজর সবার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:০৯:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৫৯ বার

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রোববার রাতে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। সফরসঙ্গী হিসেবে নিচ্ছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষস্থানীয় নেতাদের। তিনটি দলের নেতাদের নিয়ে সরকারপ্রধানের জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার ইতিহাস এবারই প্রথম। ফলে এ সফরে চলমান রাজনৈতিক মতবিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ঐক্য ও নির্বাচনকেন্দ্রিক সমঝোতার আশা তৈরি হয়েছে সব মহলে।

সমঝোতার আশা করছেন রাজনীতিবিদরাও। সরকারও চাচ্ছে একটি জাতীয় ঐক্য; যার মধ্যে দিয়ে নির্বাচনকেন্দ্রিক একটি ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়। অতএব নিউইয়র্কে সম্ভাব সমঝোতায় নজর রাখছেন সবাই।

দেশে নির্বাচন ও জুলাই সনদ নিয়ে মতদ্বৈধতা গড়িয়েছে রাজপথে। যুগপৎ আন্দোলন করছেন জামায়াতে ইসলামীসহ সাত দল। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে আশা জাগিয়েছে নেতাদের এই সফর।

প্রথমে জানা যায়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সফরসঙ্গী হচ্ছেন তিন দলের চার নেতা। তারা হলেন- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। সবশেষ এ সফরে তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপির আরও দুই নেতা। তারা হলেন- জামায়াত নেতা ড. নকিবুর রহমান তারেক এবং এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনিম জারা।

জামায়াত ও এনসিপি সূত্র জানায়, প্রতিনিধি দলে বিএনপির দুই নেতা থাকায় তাদের দল থেকেও দুজন করে প্রতিনিধি নিতে সরকারকে অনুরোধ করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন দুরূহ হওয়ায় আগে থেকেই যাদের মার্কিন ভিসা ছিল, তাদের বেছে নেওয়া হয় প্রতিনিধি দলে। জামায়াত জানায়, প্রতিনিধি দলে যুক্ত হবেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী জামায়াতে ইসলামীর স্পোকস পারসন ড. নাকিবুর রহমান। এনসিপির দফতরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত জানিয়েছেন, তাসনিম জারাও যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে। এ বছরের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এবার ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির সভাপতিত্বে রোহিঙ্গা মুসলিম ও মিয়ানমারের অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সভা হবে। অধিবেশনের ফাঁকে প্রধান উপদেষ্টা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গেও একটি বৈঠকে অংশ নেবেন ইউনূস।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার সময়ের আলোকে বলেন, প্রথমত সরকারের দিক থেকে তিন দলের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সরকার দলগুলোর মধ্যে একটি জাতীয় ঐক্য চায়। আমাদের মধ্যে মতবিরোধ তো থাকবেই। কিন্তু রাজনৈতিক সমঝোতারও প্রয়োজন আছে। তিনি বলেন, জাতিসংঘের অধিবেশের ফাঁকে হয়তো সবার সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হতে পারে। সেই পরিবেশ যদি থাকে তাহলে নির্বাচনি সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু আমার মনে হয় না দেশের বাইরে বসে আসন সমঝোতা হবে। নির্বাচনি আসন সমঝোতা হলে তা দেশেই হবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ সময়ের আলোকে বলেন, আগে রাজনৈতিক সরকার দলীয় নেতাদের নিয়ে যেত। এবার অন্তর্বর্তী সরকার যেহেতু অরাজনৈতিক; এ জন্য তারা রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে যাচ্ছে। আমরা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছি। তিনি বলেন, যখন যেখানে রাজনীতিবিদরা একত্র হবেন; সেখানে নিশ্চয়ই রাজনীতির আলাপ তো আসবেই। কিন্তু নির্বাচন কিংবা জুলাই সনদ তো দেশীয় বিষয়। দিনশেষে দেশেই এর সমাধান করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান সময়ের আলোকে বলেন, জাতিসংঘের অধিবেশনের সফরের ফাঁকে নেতাদের মধ্যে আলোচনা হলে তা খুবই ইতিবাচক হবে। এটা হওয়া উচিত। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতদ্বৈধতা থাকতে পারে। আমরা সেগুলো সামনাসামনি বসে আলাপ করব। এখানে দ্বন্দ্বের কিছু নেই। আমরা যদি এ পারস্পরিক আস্থা না রাখি তা হলে আমি মনে করি কোনো সংস্কারে কাজ হবে না।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সময়ের আলোকে বলেন, আমরা তো প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জাতিসংঘের অনুষ্ঠানে যাচ্ছি। সেখানে কী পরিবেশ-পরিস্থিতি থাকে; তা এখনই বলা যাবে না। এক টেবিলে বসলে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা তো হতেই পারে। আমরাও চাই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বেরিয়ে আসুক। জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি কয়েকটি সেশনে আমাদের অংশগ্রহণ আছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে একটি সভা রয়েছে। দেখা যাক কী হয়।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সফরসঙ্গী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সময়ের আলোকে বলেন, রাষ্ট্রের আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ আছি। রাজনৈতিক নেতাদের সফরে অনেক বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনাও হতে পারে। এটা স্বাভাবিক।

এদিকে জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান, নির্বাচনে আনুপাতিক হার বা পিআর পদ্ধতিসহ কয়েকটি অভিন্ন দাবিতে মাঠে নেমেছে জামায়াতে ইসলামীসহ সাতটি দল। বৃহস্পতিবার থেকে দলগুলো প্রাথমিকভাবে তিন দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছে। এরপর নতুন কর্মসূচি দেওয়ার কথা তাদের। অন্যদিকে দেশের সবচেয়ে বড় দল বিএনপি দ্রুত নির্বাচন সম্পন্নের তাগিদ দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইসলামি দলগুলোর কর্মসূচির লক্ষ্য জুলাই সনদের বাস্তবায়নসহ নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরির জন্য সরকারের ওপর চাপ তৈরি করা। একই সঙ্গে বড় দল বিএনপির ওপর চাপ বাড়ানো। এর আগে বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের সময় ঘোষণার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। এখন জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপিসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলগুলোর মতবিরোধের মধ্যেই জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ ইসলামপন্থি দলগুলো অভিন্ন দাবিতে এই প্রথম একযোগে কর্মসূচি পালন করল। দলগুলোর এই যুগপৎ কর্মসূচিকে মধ্য দিয়ে নির্বাচনকেন্দ্রিক সমঝোতা বা বোঝাপড়া হতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে। যদিও তাদের যুগপৎ কর্মসূচিকে স্ববিরোধিতা বলে মনে করছে বিএনপি।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে আমাদের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল সম্পৃক্ত ছিল। এই রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের অংশীজন। প্রধান উপদেষ্টা নিজে রাজনৈতিক দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এবার জাতিসংঘের ৮০তম অধিবেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বিশ্বনেতা সেখানে আসবেন, সেখানে তাদের সঙ্গে মিশতে পারবেন। তারপর রোহিঙ্গা সম্মেলনে অংশ নিতে পারবেন।’ শুধু তিন দল কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে তো আপনাদের রিসোর্সের সীমাবদ্ধতা দেখতে হবে। জাতিসংঘের অধিবেশন কিন্তু তিন মাস ধরে চলে, হয়তোবা সরকার ভেবে দেখবে পরে আবার নতুন কাউকে পাঠাতে হয় কি না।

এ বিষয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক সময়ের আলোকে বলেন, অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ  ইউনূস তিনটি রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে নিয়ে জাতিসংঘের যে অধিবেশনে যাচ্ছেন, এটি অত্যন্ত ইতিবাচক বিষয়। অতীতে কোনো সরকার এরকম উদ্যোগ নিয়েছে বলে আমার জানা নেই। এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিকদের মাঝে যে দূরত্ব আছে এবং রাজনীতিতে চলমান যে সংকট এবং অস্থিরতা বিরাজ করছে এর এক ধরনের সমঝোতা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

সমঝোতায় নজর সবার

আপডেট টাইম : ১২:০৯:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রোববার রাতে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। সফরসঙ্গী হিসেবে নিচ্ছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষস্থানীয় নেতাদের। তিনটি দলের নেতাদের নিয়ে সরকারপ্রধানের জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার ইতিহাস এবারই প্রথম। ফলে এ সফরে চলমান রাজনৈতিক মতবিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ঐক্য ও নির্বাচনকেন্দ্রিক সমঝোতার আশা তৈরি হয়েছে সব মহলে।

সমঝোতার আশা করছেন রাজনীতিবিদরাও। সরকারও চাচ্ছে একটি জাতীয় ঐক্য; যার মধ্যে দিয়ে নির্বাচনকেন্দ্রিক একটি ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়। অতএব নিউইয়র্কে সম্ভাব সমঝোতায় নজর রাখছেন সবাই।

দেশে নির্বাচন ও জুলাই সনদ নিয়ে মতদ্বৈধতা গড়িয়েছে রাজপথে। যুগপৎ আন্দোলন করছেন জামায়াতে ইসলামীসহ সাত দল। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে আশা জাগিয়েছে নেতাদের এই সফর।

প্রথমে জানা যায়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সফরসঙ্গী হচ্ছেন তিন দলের চার নেতা। তারা হলেন- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। সবশেষ এ সফরে তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপির আরও দুই নেতা। তারা হলেন- জামায়াত নেতা ড. নকিবুর রহমান তারেক এবং এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনিম জারা।

জামায়াত ও এনসিপি সূত্র জানায়, প্রতিনিধি দলে বিএনপির দুই নেতা থাকায় তাদের দল থেকেও দুজন করে প্রতিনিধি নিতে সরকারকে অনুরোধ করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন দুরূহ হওয়ায় আগে থেকেই যাদের মার্কিন ভিসা ছিল, তাদের বেছে নেওয়া হয় প্রতিনিধি দলে। জামায়াত জানায়, প্রতিনিধি দলে যুক্ত হবেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী জামায়াতে ইসলামীর স্পোকস পারসন ড. নাকিবুর রহমান। এনসিপির দফতরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত জানিয়েছেন, তাসনিম জারাও যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে। এ বছরের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এবার ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির সভাপতিত্বে রোহিঙ্গা মুসলিম ও মিয়ানমারের অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সভা হবে। অধিবেশনের ফাঁকে প্রধান উপদেষ্টা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গেও একটি বৈঠকে অংশ নেবেন ইউনূস।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার সময়ের আলোকে বলেন, প্রথমত সরকারের দিক থেকে তিন দলের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সরকার দলগুলোর মধ্যে একটি জাতীয় ঐক্য চায়। আমাদের মধ্যে মতবিরোধ তো থাকবেই। কিন্তু রাজনৈতিক সমঝোতারও প্রয়োজন আছে। তিনি বলেন, জাতিসংঘের অধিবেশের ফাঁকে হয়তো সবার সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হতে পারে। সেই পরিবেশ যদি থাকে তাহলে নির্বাচনি সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু আমার মনে হয় না দেশের বাইরে বসে আসন সমঝোতা হবে। নির্বাচনি আসন সমঝোতা হলে তা দেশেই হবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ সময়ের আলোকে বলেন, আগে রাজনৈতিক সরকার দলীয় নেতাদের নিয়ে যেত। এবার অন্তর্বর্তী সরকার যেহেতু অরাজনৈতিক; এ জন্য তারা রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে যাচ্ছে। আমরা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছি। তিনি বলেন, যখন যেখানে রাজনীতিবিদরা একত্র হবেন; সেখানে নিশ্চয়ই রাজনীতির আলাপ তো আসবেই। কিন্তু নির্বাচন কিংবা জুলাই সনদ তো দেশীয় বিষয়। দিনশেষে দেশেই এর সমাধান করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান সময়ের আলোকে বলেন, জাতিসংঘের অধিবেশনের সফরের ফাঁকে নেতাদের মধ্যে আলোচনা হলে তা খুবই ইতিবাচক হবে। এটা হওয়া উচিত। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতদ্বৈধতা থাকতে পারে। আমরা সেগুলো সামনাসামনি বসে আলাপ করব। এখানে দ্বন্দ্বের কিছু নেই। আমরা যদি এ পারস্পরিক আস্থা না রাখি তা হলে আমি মনে করি কোনো সংস্কারে কাজ হবে না।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সময়ের আলোকে বলেন, আমরা তো প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জাতিসংঘের অনুষ্ঠানে যাচ্ছি। সেখানে কী পরিবেশ-পরিস্থিতি থাকে; তা এখনই বলা যাবে না। এক টেবিলে বসলে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা তো হতেই পারে। আমরাও চাই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বেরিয়ে আসুক। জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি কয়েকটি সেশনে আমাদের অংশগ্রহণ আছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে একটি সভা রয়েছে। দেখা যাক কী হয়।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সফরসঙ্গী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সময়ের আলোকে বলেন, রাষ্ট্রের আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ আছি। রাজনৈতিক নেতাদের সফরে অনেক বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনাও হতে পারে। এটা স্বাভাবিক।

এদিকে জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান, নির্বাচনে আনুপাতিক হার বা পিআর পদ্ধতিসহ কয়েকটি অভিন্ন দাবিতে মাঠে নেমেছে জামায়াতে ইসলামীসহ সাতটি দল। বৃহস্পতিবার থেকে দলগুলো প্রাথমিকভাবে তিন দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছে। এরপর নতুন কর্মসূচি দেওয়ার কথা তাদের। অন্যদিকে দেশের সবচেয়ে বড় দল বিএনপি দ্রুত নির্বাচন সম্পন্নের তাগিদ দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইসলামি দলগুলোর কর্মসূচির লক্ষ্য জুলাই সনদের বাস্তবায়নসহ নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরির জন্য সরকারের ওপর চাপ তৈরি করা। একই সঙ্গে বড় দল বিএনপির ওপর চাপ বাড়ানো। এর আগে বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের সময় ঘোষণার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। এখন জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপিসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলগুলোর মতবিরোধের মধ্যেই জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ ইসলামপন্থি দলগুলো অভিন্ন দাবিতে এই প্রথম একযোগে কর্মসূচি পালন করল। দলগুলোর এই যুগপৎ কর্মসূচিকে মধ্য দিয়ে নির্বাচনকেন্দ্রিক সমঝোতা বা বোঝাপড়া হতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে। যদিও তাদের যুগপৎ কর্মসূচিকে স্ববিরোধিতা বলে মনে করছে বিএনপি।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে আমাদের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল সম্পৃক্ত ছিল। এই রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের অংশীজন। প্রধান উপদেষ্টা নিজে রাজনৈতিক দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এবার জাতিসংঘের ৮০তম অধিবেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বিশ্বনেতা সেখানে আসবেন, সেখানে তাদের সঙ্গে মিশতে পারবেন। তারপর রোহিঙ্গা সম্মেলনে অংশ নিতে পারবেন।’ শুধু তিন দল কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে তো আপনাদের রিসোর্সের সীমাবদ্ধতা দেখতে হবে। জাতিসংঘের অধিবেশন কিন্তু তিন মাস ধরে চলে, হয়তোবা সরকার ভেবে দেখবে পরে আবার নতুন কাউকে পাঠাতে হয় কি না।

এ বিষয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক সময়ের আলোকে বলেন, অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ  ইউনূস তিনটি রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে নিয়ে জাতিসংঘের যে অধিবেশনে যাচ্ছেন, এটি অত্যন্ত ইতিবাচক বিষয়। অতীতে কোনো সরকার এরকম উদ্যোগ নিয়েছে বলে আমার জানা নেই। এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিকদের মাঝে যে দূরত্ব আছে এবং রাজনীতিতে চলমান যে সংকট এবং অস্থিরতা বিরাজ করছে এর এক ধরনের সমঝোতা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।