ঢাকা ০২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেন যুদ্ধ ট্রাম্পের স্পষ্ট অবস্থান জানতে চান জেলেনস্কি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:৩৪:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৫৪ বার

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে একটি ‘স্পষ্ট অবস্থান’ জানতে চেয়েছেন।

মঙ্গলবার স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধ শেষ করার আগে আমি সব চুক্তি প্রস্তুত রাখতে চাই। যুক্তরাষ্ট্র ও সব ইউরোপীয় অংশীদারের সমর্থনসহ একটি নথি চাই। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর তা করতে হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্পষ্ট অবস্থান প্রয়োজন।

দ্রুতই যুক্তরাজ্যে সফরে যাবেন ট্রাম্প। জেলেনস্কি আশা প্রকাশ করে বলেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বিষয়ে ‘খুব নির্দিষ্ট আলোচনা’ করবেন।

ইউরোপকে রুশ তেল না কেনার আহ্বান প্রসঙ্গে জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট শক্তিশালী, তারা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং কিয়েভকে অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিতে পারে।

তার ভাষায়, আমি নিশ্চিত, যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে যাতে রাশিয়ার অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ট্রাম্পেরও পর্যাপ্ত ক্ষমতা আছে যাতে পুতিন তার ভয় পান।

তিনি একমত হন যে ইউরোপকে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা বন্ধ করা উচিত, তবে যুক্তরাষ্ট্রেরও এখনই শক্তিশালী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ইউরোপ ইতোমধ্যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ১৮টি নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ দিয়েছে। এখন কেবল যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।

জেলেনস্কি আবারও ট্রাম্প ও পুতিনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তুতি জানালেও মস্কোতে একক বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

গত মাসে আলাস্কায় ট্রাম্প–পুতিন বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট পুতিনকে অনেক কিছু দিয়েছেন আর রুশ প্রেসিডেন্ট কোনো মূল্য না দিয়েই রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পেয়েছেন।

জেলেনস্কি দাবি করেন, পুতিন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘প্রতারিত করতে চাইছেন’ যেন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে পারেন।

এছাড়া পোল্যান্ড ও রোমানিয়ায় সাম্প্রতিক ড্রোন অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাশিয়া আসলে ন্যাটোকে পরীক্ষা করছে, জানতে চাইছে জোট কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে কতটা প্রস্তুত, আর স্থানীয় জনগণ কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউক্রেন যুদ্ধ ট্রাম্পের স্পষ্ট অবস্থান জানতে চান জেলেনস্কি

আপডেট টাইম : ০৭:৩৪:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে একটি ‘স্পষ্ট অবস্থান’ জানতে চেয়েছেন।

মঙ্গলবার স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধ শেষ করার আগে আমি সব চুক্তি প্রস্তুত রাখতে চাই। যুক্তরাষ্ট্র ও সব ইউরোপীয় অংশীদারের সমর্থনসহ একটি নথি চাই। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর তা করতে হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্পষ্ট অবস্থান প্রয়োজন।

দ্রুতই যুক্তরাজ্যে সফরে যাবেন ট্রাম্প। জেলেনস্কি আশা প্রকাশ করে বলেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বিষয়ে ‘খুব নির্দিষ্ট আলোচনা’ করবেন।

ইউরোপকে রুশ তেল না কেনার আহ্বান প্রসঙ্গে জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট শক্তিশালী, তারা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং কিয়েভকে অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিতে পারে।

তার ভাষায়, আমি নিশ্চিত, যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে যাতে রাশিয়ার অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ট্রাম্পেরও পর্যাপ্ত ক্ষমতা আছে যাতে পুতিন তার ভয় পান।

তিনি একমত হন যে ইউরোপকে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা বন্ধ করা উচিত, তবে যুক্তরাষ্ট্রেরও এখনই শক্তিশালী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ইউরোপ ইতোমধ্যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ১৮টি নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ দিয়েছে। এখন কেবল যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।

জেলেনস্কি আবারও ট্রাম্প ও পুতিনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তুতি জানালেও মস্কোতে একক বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

গত মাসে আলাস্কায় ট্রাম্প–পুতিন বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট পুতিনকে অনেক কিছু দিয়েছেন আর রুশ প্রেসিডেন্ট কোনো মূল্য না দিয়েই রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পেয়েছেন।

জেলেনস্কি দাবি করেন, পুতিন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘প্রতারিত করতে চাইছেন’ যেন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে পারেন।

এছাড়া পোল্যান্ড ও রোমানিয়ায় সাম্প্রতিক ড্রোন অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাশিয়া আসলে ন্যাটোকে পরীক্ষা করছে, জানতে চাইছে জোট কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে কতটা প্রস্তুত, আর স্থানীয় জনগণ কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়।