ঢাকা ০৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ম্যান্ডেলসনকে বরখাস্ত করলেন স্টারমার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:২৬:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৬২ বার

যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনকে বরখাস্ত করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

যৌন নির্যাতনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়া জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা সামনে আনা কিছু ইমেইল ফাঁস হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নিলেন স্টারমার।

টনি ব্লেয়ারের এক সময়কার ভালো বন্ধু ও সমর্থক ম্যান্ডেলসন মন্ত্রিসভার সদস্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। নিউ লেবারের শীর্ষস্থানীয় সমর্থকও তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্তায় বলা হয়, ফাঁস হওয়া ইমেইলে ব্যক্তিগত বার্তার ‘অতিরিক্ত তথ্য’ থাকায় ম্যান্ডেলসনকে তার পদ থেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

ম্যান্ডেলসন ও এপস্টাইনের মধ্যকার ইমেইল ফাঁস হয় বুধবার। এর পরেই লেবার এমপিরা তাকে বরখাস্ত করার দাবি তোলেন।

২০০৮ সালে শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন এপস্টাইন।

ফাঁস হওয়া ইমেইল অনুযায়ী, ম্যান্ডেলসন ওই ঘটনার পর এপস্টাইনকে দ্রুত মুক্তির জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

ফ্লোরিডা থেকে গ্রেপ্তারের পর এপস্টাইনকে ম্যান্ডেলসন বলেন, “তোমার বন্ধুরা তোমার পাশে আছে এবং তারা তোমাকে ভালোবাসে।”

ম্যান্ডেলসনকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, তার ফাঁস হওয়া ইমেইলগুলো স্টারমারের কাছে ‘নিন্দনীয়’ মনে হয়েছে।

স্টারমারের মুখপাত্র বলেন, এপস্টাইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের সম্পর্কের বিষয়টি তাদের কাছে একটা ‘নতুন তথ্য’।

“ইমেইলে পিটার ম্যান্ডেলসনের যে ভাষ্য, তাতে এপস্টাইনের দোষী সাব্যস্ত হওয়াটা ন্যায্য ছিল না।”

ম্যান্ডেলসনকে বরখাস্তের পর যুক্তরাষ্ট্রে অন্তর্বর্তী ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পেয়েছেন কমিশনের উপপ্রধান জেমস রসকো।

যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে কি প্রভাব ফেলবে?

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এমন এক সময় ম্যান্ডেলসনকে বরখাস্ত করলেন, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্য সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

অন্যান্য রাষ্ট্রনেতার চেয়ে ট্রাম্পকে সামলানো কঠিন এবং এ কাজটি ম্যান্ডেলসন ভালোভাবেই করে আসছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তিতেও তার বেশ ভূমিকা রয়েছে।

ফলে ট্রাম্পের সফরের আগে পাঁচ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রদূত কি ম্যান্ডেলসনের ঘাটতি পূরণ করতে পারবেন, যেখানে ইউক্রেইন-রাশিয়া যুদ্ধের মতো অনেক বিষয় নিয়ে পর্দার আড়ালের কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বিবিসি লিখেছে, এটা ভুলে গেলেও চলবে না যে, এপস্টাইনের সঙ্গে ট্রাম্পেরও একটা অদ্ভূত যোগাযোগ রয়েছে। ফলে ম্যান্ডেলসনকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ট্রাম্প তার প্রতি অবহেলা হিসেবেও বিবেচনা করতে পারেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ম্যান্ডেলসনকে বরখাস্ত করলেন স্টারমার

আপডেট টাইম : ০৭:২৬:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনকে বরখাস্ত করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

যৌন নির্যাতনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়া জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা সামনে আনা কিছু ইমেইল ফাঁস হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নিলেন স্টারমার।

টনি ব্লেয়ারের এক সময়কার ভালো বন্ধু ও সমর্থক ম্যান্ডেলসন মন্ত্রিসভার সদস্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। নিউ লেবারের শীর্ষস্থানীয় সমর্থকও তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্তায় বলা হয়, ফাঁস হওয়া ইমেইলে ব্যক্তিগত বার্তার ‘অতিরিক্ত তথ্য’ থাকায় ম্যান্ডেলসনকে তার পদ থেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

ম্যান্ডেলসন ও এপস্টাইনের মধ্যকার ইমেইল ফাঁস হয় বুধবার। এর পরেই লেবার এমপিরা তাকে বরখাস্ত করার দাবি তোলেন।

২০০৮ সালে শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন এপস্টাইন।

ফাঁস হওয়া ইমেইল অনুযায়ী, ম্যান্ডেলসন ওই ঘটনার পর এপস্টাইনকে দ্রুত মুক্তির জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

ফ্লোরিডা থেকে গ্রেপ্তারের পর এপস্টাইনকে ম্যান্ডেলসন বলেন, “তোমার বন্ধুরা তোমার পাশে আছে এবং তারা তোমাকে ভালোবাসে।”

ম্যান্ডেলসনকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, তার ফাঁস হওয়া ইমেইলগুলো স্টারমারের কাছে ‘নিন্দনীয়’ মনে হয়েছে।

স্টারমারের মুখপাত্র বলেন, এপস্টাইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের সম্পর্কের বিষয়টি তাদের কাছে একটা ‘নতুন তথ্য’।

“ইমেইলে পিটার ম্যান্ডেলসনের যে ভাষ্য, তাতে এপস্টাইনের দোষী সাব্যস্ত হওয়াটা ন্যায্য ছিল না।”

ম্যান্ডেলসনকে বরখাস্তের পর যুক্তরাষ্ট্রে অন্তর্বর্তী ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পেয়েছেন কমিশনের উপপ্রধান জেমস রসকো।

যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে কি প্রভাব ফেলবে?

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এমন এক সময় ম্যান্ডেলসনকে বরখাস্ত করলেন, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্য সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

অন্যান্য রাষ্ট্রনেতার চেয়ে ট্রাম্পকে সামলানো কঠিন এবং এ কাজটি ম্যান্ডেলসন ভালোভাবেই করে আসছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তিতেও তার বেশ ভূমিকা রয়েছে।

ফলে ট্রাম্পের সফরের আগে পাঁচ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রদূত কি ম্যান্ডেলসনের ঘাটতি পূরণ করতে পারবেন, যেখানে ইউক্রেইন-রাশিয়া যুদ্ধের মতো অনেক বিষয় নিয়ে পর্দার আড়ালের কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বিবিসি লিখেছে, এটা ভুলে গেলেও চলবে না যে, এপস্টাইনের সঙ্গে ট্রাম্পেরও একটা অদ্ভূত যোগাযোগ রয়েছে। ফলে ম্যান্ডেলসনকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ট্রাম্প তার প্রতি অবহেলা হিসেবেও বিবেচনা করতে পারেন।