ঢাকা ০৬:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওয়াশিংটনে এবার একা নন জেলেনস্কি, সঙ্গে থাকছে ইউরোপীয় শক্তি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৮:০২:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৫
  • ৬৫ বার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্ততায় জটিল এক সমীকরণে এসে পৌঁছেছে রাশিয়া ইউক্রেন পরিস্থিতি। মার্কিন রাজনীতিতে ইউক্রেন ইস্যু নিয়ে চলছে নানা বিতর্ক। তাই জেলেনস্কি চান, ইউরোপীয় নেতাদের উপস্থিতি ওয়াশিংটনে একটি স্পষ্ট বার্তা দেবে। আর তা হলো, ইউক্রেনকে সাহায্যের প্রশ্নে ইউরোপীয় পশ্চিমা দেশগুলো একতাবদ্ধ।

জেলেনস্কির আহ্বানে সাড়া জানাচ্ছেন ইউরোপের নেতারাও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লেয়েন জানিয়েছেন, জেলেনস্কির অনুরোধে ওয়াশিংটনের আলোচনায় উপস্থিত থাকবেন তিনি। সরকারি এক বিবৃতিতে আলোচনায় যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্স। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাখোঁ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ বেশ কয়েকজন ইউরোপীয় নেতাও উপস্থিত থাকবেন।

১৭ আগস্ট ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাখোঁ সহ ইউরোপীয় নেতারা “কোয়ালিশন অফ উইলিং”-এর একটি জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হন। যেখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওয়াশিংটন ডিসি সফরের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সেড়ে নেন তারা। গুরুত্বপূর্ণ এই ভিডিও কনফারেন্সে ইউরোপীয় রাষ্টপ্রধানদের পাশাপাশি যোগ দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ।

ইউরোপীয় নেতারা চান, ফেব্রুয়ারিতে ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত জেলেনস্কি ও ট্রাম্পের বৈঠকের মতো পরিস্থিতির যেন পুনরাবৃত্তি না হয়। সেই বৈঠকে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স জেলেনস্কিকে প্রকাশ্যে তিরস্কার করেছিলেন, যা কূটনৈতিকভাবে ছিল খুবই বিব্রতকর। বিশ্লেষকদের মতে, জেলেনস্কি একা গেলে হয়তো এ বৈঠকটি ইউক্রেনের জন্য কম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ত। কিন্তু ইউরোপীয় নেতারা পাশে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রও বুঝতে পারবে, ইউক্রেনের স্বাধীনতা রক্ষার প্রশ্নে পশ্চিমারা কোনো ছাড় দেবে না।

তবে এ ব্যাপারে ভিন্ন মতও পোষণ করছেন অনেকে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রাক্তন সদস্য ফ্লোরিয়ান ফিলিপটের মতে, জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত হয়ে ইউরোপীয় নেতারা ইউক্রেনীয় মীমাংসার প্রক্রিয়াটি ব্যাহত করার চেষ্টা করতে পারেন। এছাড়া জেলেনস্কির সঙ্গে এত লোকের হোয়াইট হাউস ভ্রমণ মার্কিন নেতাকে বিরক্ত করতে পারে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে ইউক্রেন ইস্যু ক্রমেই গুরুত্ব হারাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনে সাহায্যের পরিমাণ সীমিত করার ইঙ্গিত দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় নেতাদের উপস্থিতি শুধু কূটনৈতিক সংহতির প্রতীকই নয়, বরং ইউক্রেনের পক্ষে চাপ তৈরির একটি কৌশলও বটে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ওয়াশিংটনে এবার একা নন জেলেনস্কি, সঙ্গে থাকছে ইউরোপীয় শক্তি

আপডেট টাইম : ০৮:০২:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্ততায় জটিল এক সমীকরণে এসে পৌঁছেছে রাশিয়া ইউক্রেন পরিস্থিতি। মার্কিন রাজনীতিতে ইউক্রেন ইস্যু নিয়ে চলছে নানা বিতর্ক। তাই জেলেনস্কি চান, ইউরোপীয় নেতাদের উপস্থিতি ওয়াশিংটনে একটি স্পষ্ট বার্তা দেবে। আর তা হলো, ইউক্রেনকে সাহায্যের প্রশ্নে ইউরোপীয় পশ্চিমা দেশগুলো একতাবদ্ধ।

জেলেনস্কির আহ্বানে সাড়া জানাচ্ছেন ইউরোপের নেতারাও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লেয়েন জানিয়েছেন, জেলেনস্কির অনুরোধে ওয়াশিংটনের আলোচনায় উপস্থিত থাকবেন তিনি। সরকারি এক বিবৃতিতে আলোচনায় যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্স। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাখোঁ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ বেশ কয়েকজন ইউরোপীয় নেতাও উপস্থিত থাকবেন।

১৭ আগস্ট ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাখোঁ সহ ইউরোপীয় নেতারা “কোয়ালিশন অফ উইলিং”-এর একটি জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হন। যেখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওয়াশিংটন ডিসি সফরের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সেড়ে নেন তারা। গুরুত্বপূর্ণ এই ভিডিও কনফারেন্সে ইউরোপীয় রাষ্টপ্রধানদের পাশাপাশি যোগ দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ।

ইউরোপীয় নেতারা চান, ফেব্রুয়ারিতে ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত জেলেনস্কি ও ট্রাম্পের বৈঠকের মতো পরিস্থিতির যেন পুনরাবৃত্তি না হয়। সেই বৈঠকে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স জেলেনস্কিকে প্রকাশ্যে তিরস্কার করেছিলেন, যা কূটনৈতিকভাবে ছিল খুবই বিব্রতকর। বিশ্লেষকদের মতে, জেলেনস্কি একা গেলে হয়তো এ বৈঠকটি ইউক্রেনের জন্য কম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ত। কিন্তু ইউরোপীয় নেতারা পাশে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রও বুঝতে পারবে, ইউক্রেনের স্বাধীনতা রক্ষার প্রশ্নে পশ্চিমারা কোনো ছাড় দেবে না।

তবে এ ব্যাপারে ভিন্ন মতও পোষণ করছেন অনেকে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রাক্তন সদস্য ফ্লোরিয়ান ফিলিপটের মতে, জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত হয়ে ইউরোপীয় নেতারা ইউক্রেনীয় মীমাংসার প্রক্রিয়াটি ব্যাহত করার চেষ্টা করতে পারেন। এছাড়া জেলেনস্কির সঙ্গে এত লোকের হোয়াইট হাউস ভ্রমণ মার্কিন নেতাকে বিরক্ত করতে পারে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে ইউক্রেন ইস্যু ক্রমেই গুরুত্ব হারাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনে সাহায্যের পরিমাণ সীমিত করার ইঙ্গিত দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় নেতাদের উপস্থিতি শুধু কূটনৈতিক সংহতির প্রতীকই নয়, বরং ইউক্রেনের পক্ষে চাপ তৈরির একটি কৌশলও বটে।