ঢাকা ০৮:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসীর চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়ালেন ছাত্রদল নেতা নিরাপত্তা যেন দূরে ঠেলে না দেয় : প্রধানমন্ত্রী ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার উদ্বোধন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস এই সপ্তাহে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের জন্য যা থাকছে সংসদে প্রবেশের সময় মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্ত করায় স্পিকারকে মোবারকবাদ মুহিউদ্দীনের শাকিরার প্রেম-বিচ্ছেদের গল্প শিক্ষা খাতে ৮৩ হাজারো মামলার জটে আটকা শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

নববী বরকতে আজও সুরভিত তায়িফের পর্বতচূড়া

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:১৩:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫
  • ৯৪ বার
প্রত্যেক মুসলমানের আবেগ ও ভালোবাসার একটি জায়গা হলো সৌদি আরবের তায়েফ। কেউ এই জায়গাটিকে দেখে ভালোবাসে। কেউ আবার ইতিহাসের পবিত্র পাতায় চোখ বুলিয়ে এই জায়গার সঙ্গে পরিচিত হয়। কেননা এই এলাকার নির্মল বাতাসে কেটেছে রহমাতাল্লিল আলামিন, নবীদের সর্দার, দোজাহানের বাদশাহ প্রিয় নবীজি মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শৈশব।

এই মাটিও নবীজি (সা.)-এর কোমল স্পর্শে ধন্য। এই মাটিতে নবীজি (সা.)-এর বক্ষবিদারণ হয়। তিনি এই মাটিতে আসার পর তাঁর দুধ মা হালিমা (রা.)-এর ঘরে আল্লাহর বিশেষ রহমতের বারিধারা বর্ষিত হয়। সব ক্ষেত্রে তিনি অন্য রকম বরকত অনুভব করতে থাকেন।

এমনকি তাঁর গৃহপালিত পশুগুলোও অন্য পশুর তুলনায় বেশি দুধ দিতে শুরু করে।

মরুর বুকে গোলাপের গ্রাম তায়েফ বর্তমান যুগেও যেন সেই বরকতের ছাপ তায়েফে রয়ে গেছে। উর্বর মাটি ও নির্মল আবহাওয়ার জন্য এই জায়গাটি আজও বিখ্যাত। সৌদি আরবজুড়ে সমাদৃত এখানকার ফর্মালিনমুক্ত নিরাপদ ফসল।

আমাদের অনেকেরই অজানা যে মরুর দেশ খ্যাত সৌদি আরবে পৃথিবীর অন্যতম উত্কৃষ্ট গোলাপ ফুল চাষ হয়। সে উত্কৃষ্ট গোলাপগুলোও নবীজির পায়ের স্পর্শ হওয়া এই তায়েফ ভূমিতে চাষ হয়, যা UNESCO -র Intangible Cultural Heritage of Humanity তালিকায় যুক্ত হয়েছে।

কেননা তায়েফ এলাকাটি গোলাপ, এগুলোর পাপড়ি, তেল ও মনোমুগ্ধকর সুগন্ধির জন্য খ্যাত। তায়েফ গোলাপ তায়েফ অঞ্চলের মনোমুগ্ধকার পরিবেশে খুব যত্নে বেড়ে ওঠে।

বলা যায়, গোলাপ চাষ এখানকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই গোলাপের চাষ, সংগ্রহ, পাতন এবং তেল নিষ্কাশনের কৌশল প্রয়োগ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে, যেন এই মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে ঐতিহ্যগত ইতিহাস অনুভব করা যায়।

তায়েফ গোলাপ থেকে তৈরি হওয়া গোলাপজল ও গোলাপ তেল শুধু উত্কৃষ্ট প্রসাধনী বা অভিজাত রুচির প্রতীকই নয়, বরং মক্কার পবিত্র কাবা শরিফ ধোয়ার অন্যতম উপকরণও বটে, যা একে এক পবিত্র মাত্রাও দেয়, বিশেষ করে রাজপরিবার ও উপসাগরীয় ধনাঢ্য পরিবারগুলোর মধ্যে এর ব্যবহার খুবই জনপ্রিয়।

সৌদি প্রেস এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্থানীয় কৃষক রাদ্দাদ আল-তালহি জানান, এই পর্বতচূড়াগুলোতেই মূলত তায়েফ গোলাপের ঝোপ ও খামারগুলো সীমাবদ্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, এখন এই চাষ অনেকটা সম্প্রসারিত হয়েছে এবং তা সৌদি বাজারে ৬৪ মিলিয়ন সৌদি রিয়ালেরও বেশি মূল্যের লাভজনক বিনিয়োগে পরিণত হয়েছে। সারাওয়াত পর্বতমালার তায়েফ গোলাপ খামার থেকে প্রতিবছর প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন গোলাপ সংগ্রহ করা হয় এবং তায়েফ অঞ্চলে ৯১০টিরও বেশি খামার রয়েছে। প্রায় ৭০টি কারখানা গোলাপ থেকে ৮০টিরও বেশি চাহিদাসম্পন্ন পণ্য তৈরি করে।

তিনি আরো জানান, ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে গোলাপের তেল পাতনের সময় তামার পাত্র ব্যবহার করা হয়, যা পাতন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং উন্নত মান নিশ্চিত করে। এই সূক্ষ্ম পদ্ধতিতে তৈরি হয় নানা ধরনের পণ্য, যেমন—সাধারণ গোলাপ জল, ঘন গোলাপ জল এবং বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান গোলাপ তেল।

(আরব নিউজ, ইউনেসকোর ওয়েবসাইট ও সৌদি প্রেস এজেন্সির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট অবলম্বনে)

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

নববী বরকতে আজও সুরভিত তায়িফের পর্বতচূড়া

আপডেট টাইম : ০৬:১৩:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫
প্রত্যেক মুসলমানের আবেগ ও ভালোবাসার একটি জায়গা হলো সৌদি আরবের তায়েফ। কেউ এই জায়গাটিকে দেখে ভালোবাসে। কেউ আবার ইতিহাসের পবিত্র পাতায় চোখ বুলিয়ে এই জায়গার সঙ্গে পরিচিত হয়। কেননা এই এলাকার নির্মল বাতাসে কেটেছে রহমাতাল্লিল আলামিন, নবীদের সর্দার, দোজাহানের বাদশাহ প্রিয় নবীজি মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শৈশব।

এই মাটিও নবীজি (সা.)-এর কোমল স্পর্শে ধন্য। এই মাটিতে নবীজি (সা.)-এর বক্ষবিদারণ হয়। তিনি এই মাটিতে আসার পর তাঁর দুধ মা হালিমা (রা.)-এর ঘরে আল্লাহর বিশেষ রহমতের বারিধারা বর্ষিত হয়। সব ক্ষেত্রে তিনি অন্য রকম বরকত অনুভব করতে থাকেন।

এমনকি তাঁর গৃহপালিত পশুগুলোও অন্য পশুর তুলনায় বেশি দুধ দিতে শুরু করে।

মরুর বুকে গোলাপের গ্রাম তায়েফ বর্তমান যুগেও যেন সেই বরকতের ছাপ তায়েফে রয়ে গেছে। উর্বর মাটি ও নির্মল আবহাওয়ার জন্য এই জায়গাটি আজও বিখ্যাত। সৌদি আরবজুড়ে সমাদৃত এখানকার ফর্মালিনমুক্ত নিরাপদ ফসল।

আমাদের অনেকেরই অজানা যে মরুর দেশ খ্যাত সৌদি আরবে পৃথিবীর অন্যতম উত্কৃষ্ট গোলাপ ফুল চাষ হয়। সে উত্কৃষ্ট গোলাপগুলোও নবীজির পায়ের স্পর্শ হওয়া এই তায়েফ ভূমিতে চাষ হয়, যা UNESCO -র Intangible Cultural Heritage of Humanity তালিকায় যুক্ত হয়েছে।

কেননা তায়েফ এলাকাটি গোলাপ, এগুলোর পাপড়ি, তেল ও মনোমুগ্ধকর সুগন্ধির জন্য খ্যাত। তায়েফ গোলাপ তায়েফ অঞ্চলের মনোমুগ্ধকার পরিবেশে খুব যত্নে বেড়ে ওঠে।

বলা যায়, গোলাপ চাষ এখানকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই গোলাপের চাষ, সংগ্রহ, পাতন এবং তেল নিষ্কাশনের কৌশল প্রয়োগ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে, যেন এই মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে ঐতিহ্যগত ইতিহাস অনুভব করা যায়।

তায়েফ গোলাপ থেকে তৈরি হওয়া গোলাপজল ও গোলাপ তেল শুধু উত্কৃষ্ট প্রসাধনী বা অভিজাত রুচির প্রতীকই নয়, বরং মক্কার পবিত্র কাবা শরিফ ধোয়ার অন্যতম উপকরণও বটে, যা একে এক পবিত্র মাত্রাও দেয়, বিশেষ করে রাজপরিবার ও উপসাগরীয় ধনাঢ্য পরিবারগুলোর মধ্যে এর ব্যবহার খুবই জনপ্রিয়।

সৌদি প্রেস এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্থানীয় কৃষক রাদ্দাদ আল-তালহি জানান, এই পর্বতচূড়াগুলোতেই মূলত তায়েফ গোলাপের ঝোপ ও খামারগুলো সীমাবদ্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, এখন এই চাষ অনেকটা সম্প্রসারিত হয়েছে এবং তা সৌদি বাজারে ৬৪ মিলিয়ন সৌদি রিয়ালেরও বেশি মূল্যের লাভজনক বিনিয়োগে পরিণত হয়েছে। সারাওয়াত পর্বতমালার তায়েফ গোলাপ খামার থেকে প্রতিবছর প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন গোলাপ সংগ্রহ করা হয় এবং তায়েফ অঞ্চলে ৯১০টিরও বেশি খামার রয়েছে। প্রায় ৭০টি কারখানা গোলাপ থেকে ৮০টিরও বেশি চাহিদাসম্পন্ন পণ্য তৈরি করে।

তিনি আরো জানান, ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে গোলাপের তেল পাতনের সময় তামার পাত্র ব্যবহার করা হয়, যা পাতন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং উন্নত মান নিশ্চিত করে। এই সূক্ষ্ম পদ্ধতিতে তৈরি হয় নানা ধরনের পণ্য, যেমন—সাধারণ গোলাপ জল, ঘন গোলাপ জল এবং বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান গোলাপ তেল।

(আরব নিউজ, ইউনেসকোর ওয়েবসাইট ও সৌদি প্রেস এজেন্সির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট অবলম্বনে)