,

images

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলছে: পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের বরফ গলছে বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। অতীত ভুলে সম্পর্ক সামনে এগিয়ে নিতে চায় পাকিস্তান। গতকাল সোমবার ইসলামাবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মেহমুদ কুরেশি বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের কিছু ‘ফ্যাক্টর’ আছে, যেগুলো বলতে চাই না।”

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওই সংবাদ সম্মেলনে গত বছর তাঁর সরকারের কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। সেখানে অন্য বিষয়গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ আসে। মেহমুদ কুরেশি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কথা বলেছেন। শেখ হাসিনাকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি। ইমরান খানেরও বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ নিয়ে কথা হয়েছে। তাই বলা চলে, বরফ গলছে।

১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য বাংলাদেশের কাছে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়নি পাকিস্তান। ক্ষমা চাওয়া, আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ফিরিয়ে নেওয়া, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, অবিভাজিত সম্পদের বণ্টনসহ বাংলাদেশের ঐতিহাসিক দাবিগুলো এখনো পূরণ না করায় পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কে স্থবিরতা চলছে। ২০০৯ সালের পর যুদ্ধাপরাধের বিচার ইস্যুতে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা দেয়। তবে গত দুই বছরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

গত বছরের মার্চ ও ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপের শীর্ষ নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি পাকিস্তানকে। তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেটি ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারের অনুষ্ঠানে প্রচার করা হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ে কোনো দ্বিপক্ষীয় সফর হয়নি। এমনকি পাকিস্তানে বহুপক্ষীয় বিভিন্ন ফোরামের বৈঠক বা সম্মেলনেও বাংলাদেশ থেকে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা যাননি।

গত বছর দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ে সফর বিনিময়ের প্রস্তাবের কথা পাকিস্তানের দিক থেকে বিভিন্ন সময় বলা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সেগুলো এখনো মৌখিকভাবে আমন্ত্রণ জানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে।

ভারতের জেদে সার্ক অচল, অভিযোগ পাকিস্তানের : দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) কার্যত অচল করে দেওয়ার জন্য ভারতের জেদকে দায়ী করেছে পাকিস্তান। গতকালের সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর জন্য ভারতকে দায়ী করেন। তবে তিনি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতসহ সদস্য অন্য দেশগুলোর প্রতি আমন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত যেন সার্কের অন্য সদস্য দেশগুলোকে পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে যোগ দিতে বাধা না দেয়। ভারত যদি পাকিস্তানে গিয়ে সম্মেলনে সরাসরি অংশ নিতে না চায়, তাহলে ভার্চুয়ালিও যোগ দিতে পারে।

২০১৬ সালে ইসলামাবাদে ১৯তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও ভারতসহ বেশির ভাগ দেশ তাতে অংশ নিতে আগ্রহী না হওয়ায় পাকিস্তানকে সম্মেলন স্থগিত করতে হয়। বাংলাদেশও সম্মেলনে অংশ নিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছিল। ভারত বরাবরই বলে আসছে, আঞ্চলিক উন্নয়ন এগিয়ে নিতে হলে পাকিস্তানকে আগে সন্ত্রাসে সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়তে হবে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থানও সার্কে ঐকমত্যের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ১৫ আগস্ট তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করলেও এখনো কোনো রাষ্ট্র তালেবান কর্তৃপক্ষকে স্বীকৃতি দেয়নি। প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকের ফাঁকে সার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। গত সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান চেয়েছিল, আফগানিস্তানের কর্তৃপক্ষ হিসেবে তালেবানের প্রতিনিধি ওই বৈঠকে অংশ নিন। কিন্তু এ বিষয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় ওই বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগও ভেস্তে যায়।

এমন প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি গতকাল ইসলামাবাদে ভারতসহ অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, সার্ক মহাসচিব সম্প্রতি ইসলামাবাদ সফর করেছেন এবং সে সময় পাকিস্তান সার্ক শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত যদি ইসলামাবাদে সম্মেলনে যোগ দিতে না পারে, তবে অন্তত তার অন্য দেশগুলোকে সম্মেলনে যোগ দেওয়া ঠেকানো উচিত নয়।’ তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের অনীহার কারণে সার্ক প্রকৃত সম্ভাবনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর