ঢাকা ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

পুলিশ অফিসার যখন জনপ্রিয় মডেল বক্সার ওবাইকার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:২১:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২১
  • ২৩৪ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ একের মধ্যে তিনি যেন সব। একাধারে তিনি একজন পুলিশ, সুপার মডেল, বক্সার ও বাইকার। বিশ্বের লাখ লাখ মানুষের অনুপ্রেরণা হলেন একশা হাংমা সুব্বা। ২১ বছর বয়সী এই পুলিশ অফিসার পেশায় একজন সুপার মডেল ও বক্সার।

ঝড়ের গতিতে বাইকও চালান তিনি। নারী হিসেবে কোনো কাজকেই তিনি অবহেলা করেননি, বরং পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নিজেকে ছোট করে না দেখে পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে ছোট থেকেই নিজেকে এভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সুব্বা।

 

সিকিমের রুম্বুক গ্রামে সুব্বার জন্ম হয়। তার বাবা একজন কৃষক। তার একজন বড় ভাই ও ছোট এক বোন আছে। ছোটবেলা থেকেই স্থানীয় বক্সিং ক্লাসে যোগদান করতে তিনি। এরপর একজন প্রফেশনাল বক্সারও বনে যান তিনি। একসময় তিনি টেলিভিশন রিয়েলিটি শো ‘এমটিভি সুপার মডেল অব দ্য ইয়ার’এ প্রবেশের স্বপ্ন দেখতেন।

 

তার ‘স্বপ্ন দেখার সাহস’ এর পেছনের মূল কাণ্ডারি ছিলেন বাবা। যিনি বিশ্বাস করতেন, তার মেয়েকে থামানো উচিত হবে না। তারা বাবা ব্রুট জানান, তিনিই মেয়েকে ফিটনেস ধরে রাখার ভালো মাধ্যম হিসেবে বক্সিং শিখতে বলেছিলেন। এক সময় মেয়ের আগ্রহ দেখে খুবই খুশি হন বাবা। খুব শীঘ্রই একশা জাতীয় স্তরে বক্সিংয়ে নিজ রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করেন।

 

১৯ বছর বয়সে স্নাতক পাস করার সময় তিনি চাকরি করার সিদ্ধান্ত নেন। তখন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তার বড় ভাই। পরিবারের দায়িত্ব নিতে তিনি সিকিমের পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। এজন্য তাকে কঠিন পরিস্থিতিতে ১৪ মাসের প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

 

একজন পুলিশ অফিসার হিসেবে কাজ করা অবস্থায় তিনি এমটিভির শোয়ের জন্য অডিশন দিতে মুম্বাইতে উড়ে যান। যদিও সুব্বা হিন্দিতে বলতে পারতেন না। যা তার জন্য বাঁধা তৈরি করেছিল। তবে তার আত্মবিশ্বাস ছিল অটুট।

 

সিকিম এক্সপ্রেসের এক সাক্ষাৎকারে সুব্বা বলেন, পুলিশ অফিসার হওয়ার কারণে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ আমি দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে পেরেছি। যা আমার জন্য সত্যিই আশির্বাদ ছিল। ’

 

তাদের প্রতিযোগিতা একজন বিচারকের (মালাইকা অরোরা খান) কাছ থেকে তিনি অভিনন্দনও অর্জন করেছিলেন। কারণ তিনি নানা প্রতিভার অধিকারী। শীর্ষ চার প্রতিযোগীর মধ্যে একজন ছিলেন সুব্বা। এমনকি তিনি এমটিভি সুপার মডেল অব দ্য ইয়ার ২০২১ প্রতিযোগিতার প্রথম রানার আপ হন।

 

একশা হাংমা সুব্বা বলেন, ‘আমি কখনো নারী হিসেবে পিছিয়ে থাকতে চাইনি। এ পর্যন্ত আমি যা যা অর্জন করেছি সবই আমার পরিশ্রমের ফল। আর তাই সব নারীরই মানসিক ও শারীরিকভাবে শক্তিশালী হওয়া জরুরি বলে আমি মনে করি।’

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জনসচেতনতা বাড়লে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

পুলিশ অফিসার যখন জনপ্রিয় মডেল বক্সার ওবাইকার

আপডেট টাইম : ০৫:২১:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ একের মধ্যে তিনি যেন সব। একাধারে তিনি একজন পুলিশ, সুপার মডেল, বক্সার ও বাইকার। বিশ্বের লাখ লাখ মানুষের অনুপ্রেরণা হলেন একশা হাংমা সুব্বা। ২১ বছর বয়সী এই পুলিশ অফিসার পেশায় একজন সুপার মডেল ও বক্সার।

ঝড়ের গতিতে বাইকও চালান তিনি। নারী হিসেবে কোনো কাজকেই তিনি অবহেলা করেননি, বরং পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নিজেকে ছোট করে না দেখে পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে ছোট থেকেই নিজেকে এভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সুব্বা।

 

সিকিমের রুম্বুক গ্রামে সুব্বার জন্ম হয়। তার বাবা একজন কৃষক। তার একজন বড় ভাই ও ছোট এক বোন আছে। ছোটবেলা থেকেই স্থানীয় বক্সিং ক্লাসে যোগদান করতে তিনি। এরপর একজন প্রফেশনাল বক্সারও বনে যান তিনি। একসময় তিনি টেলিভিশন রিয়েলিটি শো ‘এমটিভি সুপার মডেল অব দ্য ইয়ার’এ প্রবেশের স্বপ্ন দেখতেন।

 

তার ‘স্বপ্ন দেখার সাহস’ এর পেছনের মূল কাণ্ডারি ছিলেন বাবা। যিনি বিশ্বাস করতেন, তার মেয়েকে থামানো উচিত হবে না। তারা বাবা ব্রুট জানান, তিনিই মেয়েকে ফিটনেস ধরে রাখার ভালো মাধ্যম হিসেবে বক্সিং শিখতে বলেছিলেন। এক সময় মেয়ের আগ্রহ দেখে খুবই খুশি হন বাবা। খুব শীঘ্রই একশা জাতীয় স্তরে বক্সিংয়ে নিজ রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করেন।

 

১৯ বছর বয়সে স্নাতক পাস করার সময় তিনি চাকরি করার সিদ্ধান্ত নেন। তখন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তার বড় ভাই। পরিবারের দায়িত্ব নিতে তিনি সিকিমের পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। এজন্য তাকে কঠিন পরিস্থিতিতে ১৪ মাসের প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

 

একজন পুলিশ অফিসার হিসেবে কাজ করা অবস্থায় তিনি এমটিভির শোয়ের জন্য অডিশন দিতে মুম্বাইতে উড়ে যান। যদিও সুব্বা হিন্দিতে বলতে পারতেন না। যা তার জন্য বাঁধা তৈরি করেছিল। তবে তার আত্মবিশ্বাস ছিল অটুট।

 

সিকিম এক্সপ্রেসের এক সাক্ষাৎকারে সুব্বা বলেন, পুলিশ অফিসার হওয়ার কারণে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ আমি দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে পেরেছি। যা আমার জন্য সত্যিই আশির্বাদ ছিল। ’

 

তাদের প্রতিযোগিতা একজন বিচারকের (মালাইকা অরোরা খান) কাছ থেকে তিনি অভিনন্দনও অর্জন করেছিলেন। কারণ তিনি নানা প্রতিভার অধিকারী। শীর্ষ চার প্রতিযোগীর মধ্যে একজন ছিলেন সুব্বা। এমনকি তিনি এমটিভি সুপার মডেল অব দ্য ইয়ার ২০২১ প্রতিযোগিতার প্রথম রানার আপ হন।

 

একশা হাংমা সুব্বা বলেন, ‘আমি কখনো নারী হিসেবে পিছিয়ে থাকতে চাইনি। এ পর্যন্ত আমি যা যা অর্জন করেছি সবই আমার পরিশ্রমের ফল। আর তাই সব নারীরই মানসিক ও শারীরিকভাবে শক্তিশালী হওয়া জরুরি বলে আমি মনে করি।’