,

image-466594-1632004260

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পদ সৃষ্টির যে নথি ঘুরছে এক যুগ ধরে

হাওর বার্তা ডেস্কঃ খোদ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পদ সৃষ্টির একটি প্রস্তাব ঘুরছে প্রায় এক যুগ ধরে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এবং মন্ত্রণালয়ের মাসিক সমন্বয় সভা থেকে প্রস্তাবের পক্ষে সুপারিশ করলেও তা বেশিদূর এগোতে পারেনি। এমনকি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সুপারিশ করেছেন তিন দফায়। কিন্তু ফলাফল শূন্য। রহস্যজনক কারণে এক যুগ পার হতে চললেও সচিবালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির ৩টি গুরুত্বপূর্ণ পদ সৃষ্টির প্রস্তাব আজও আলোর মুখ দেখেনি।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সচিবালয়ের মধ্যে উপপরিচালক পদ সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই। এটি দপ্তর সংস্থার পদ। যৌক্তিক কারণে প্রস্তাবিত পদের বাইরে সিনিয়র লাইব্রেরিয়ানের পদ সৃষ্টির পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে নিষ্পত্তি হতে বিলম্ব হচ্ছে। প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে উত্থাপনের জন্য প্রস্তাবটি ৭ মাস আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সুপরিসর লাইব্রেরিটি সচিবালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি হিসেবে অফিসিয়ালি স্বীকৃত। সমৃদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী এ লাইব্রেরিতে ১২টি সহায়ক পদ থাকলেও লাইব্রেরিয়ানের ওপর কোনো পদ নেই। তাই কাজের গুরুত্ব বিবেচনায় লাইব্রেরির প্রধান পদটি আপগ্রেডসহ মোট তিনটি পদ সৃষ্টির জন্য ২০০৯ সালে উদ্যোগ নেওয়া হয়। পদগুলো হলো-প্রিন্সিপাল লাইব্রেরিয়ান কাম ডেপুটি ডিরেক্টর, বিবলিওগ্রাফার এবং সহকারী লাইব্রেরিয়ান। বিষয়টি প্রথম আলোচনায় আসে ২০০৯ সালের ২২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাসিক সমন্বয় সভায়। এরপর থেকে ২০১৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার বছরে অনুষ্ঠিত ১১টি সমন্বয় সভায় বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয় এবং অনেকে এই পদ সৃষ্টির পক্ষে একমত পোষণ করেন। কেউ করেন বিরোধিতা। তবে মহল বিশেষের বাধার কারণে প্রস্তাবটি প্রশাসন শাখা থেকে নথিতে উপস্থাপন করা হচ্ছিল না। এর আগে ২০১২ সালের ২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির ২১তম সভায় এ বিষয়ে সুপারিশ করা হয়। সে সময় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সিনিয়র সচিব আব্দুস সোবহান সিকদার সভাকে অবহিত করেন, বিষয়টি ইতিবাচক। শিগগির এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ২০১৮ সালের ২৩ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. মুয়াজ্জেম হোসাইনের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে প্রস্তাবিত তিনটি পদ সৃষ্টির পক্ষে মত দিয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সুপারিশ করা হয়। কিন্তু এ সংক্রান্ত কার্যবিবরণীতে স্বাক্ষর করার আগেই তিনি বদলি হয়ে যান। পরে আর সেটি হালে পানি পায়নি।

এই যখন অবস্থা তখন প্রতিকার পেতে লাইব্রেরিয়ান শামসুন নাহার খান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। দেন লিখিত আবেদন। ২০১৯ সাল থেকে গত ২৮ মার্চ পর্যন্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েরে সচিব বরাবর একে একে তিনটি আবেদন করেন তিনি। যার অনুলিপি দেওয়া হয় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনকে। প্রতিমন্ত্রী প্রতিটি অনুলিপিতে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেন। প্রথম আবেদন করা হয় ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর, দ্বিতীয় আবেদন ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এবং তৃতীয় আবেদন করা হয় গত ২৮ মার্চ। কিন্তু এসব আবেদন-নিবেদন শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি। মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা সিনিয়র লাইব্রেরিয়ানের পদ সৃষ্টির পক্ষে মত দিয়ে সচিব কমিটিতে পাঠিয়ে দিয়েছে।

এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লাইব্রেরিয়ান শামসুন নাহার খানের পদ সৃষ্টির প্রস্তাব নিয়োগ বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি সচিবালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি হলেও এ ধরনের পদ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সৃষ্টি করা হলে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের লাইব্রেরিতেও সৃষ্টি করতে হবে। কারণ বাংলাদেশ সচিবালয় গ্রন্থাগার (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) নিয়োগ বিধি-২০০১ প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য প্রযোজ্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘যিনি এই পদ সৃষ্টির জন্য বিক্ষিপ্তভাবে দৌড়ঝাঁপ করছেন তিনি তো ঠিকমতো এসিআর জমা দেন না। তার এক বছরের এসিআর মিসিং রয়েছে। যে কারণে এসিআরে তার গড় নম্বর বর্তমানে ৭০-এর নিচে। ফলে উচ্চতর পদ সৃষ্টি হলেও আপাতত সে পদেও তার পদোন্নতির সুযোগ নেই। এজন্য আমরা বরং আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছি-তাকে চাকরি জীবনের এই শেষদিকে কীভাবে বেশি নম্বর দিয়ে হেলফ করতে পারি।’ এ বিষয়ে সচিবালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান শামসুন নাহার খান যুগান্তরকে বলেন, ‘জাতীয় সংসদ সচিবালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের লাইব্রেরিতে প্রিন্সিপাল কাম ডেপুটি ডিরেক্টরের পদ থাকলে সচিবালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে থাকতে পারবে না কেন। এটা তো স্ববিরোধী অবস্থান।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, ‘প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের লাইব্রেরির জন্য ভিন্ন ভিন্ন নিয়োগ বিধি রয়েছে। ফলে সচিবালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে এ ধরনের পদ সৃষ্টিতে বিধিগত বাধা দেখছি না। তাছাড়া পদ তো কোনো ব্যক্তির নয়। আমি এক সময় থাকব না। কিন্তু সচিবালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে উপপরিচালকের পদ থাকলে মর্যাদার দিক থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আরও সমৃদ্ধ হবে।’

Shares
Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর