ঢাকা ০২:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসীর চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়ালেন ছাত্রদল নেতা নিরাপত্তা যেন দূরে ঠেলে না দেয় : প্রধানমন্ত্রী ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার উদ্বোধন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস এই সপ্তাহে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের জন্য যা থাকছে সংসদে প্রবেশের সময় মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্ত করায় স্পিকারকে মোবারকবাদ মুহিউদ্দীনের শাকিরার প্রেম-বিচ্ছেদের গল্প শিক্ষা খাতে ৮৩ হাজারো মামলার জটে আটকা শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

দ্বিতীয় দফায় লকডাউন হতাশা ও অনিশ্চয়তায় নিম্ন আয়ের মানুষ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৩৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ এপ্রিল ২০২১
  • ২৪৮ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সোমবার থেকে আবারও এক সপ্তাহের জন্য লকডাউনে যাচ্ছে সারাদেশ। লকডাউনের কারণে ফের বিপাকে পরতে যাচ্ছে দেশের নিম্ন আয়ের মানুষ।

বিশেষ করে শহরে বসবাসরত দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষদের মাঝে রোজগার নিয়ে চরম অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন লকডাউনের সময় বাড়লে তাদের দুর্দশা আরও বেড়ে যাবে।

এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছেন। আবার যারা শহরে থেকে যাচ্ছেন তারাও অনিশ্চয়তায় প্রহর কাটাচ্ছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে নিম্ন আয়ের মানুষদের সাথে কথা বললে এমন হতাশার চিত্র উঠে আসে।

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নাম্বার এলাকায় ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি করেন আফজাল হোসেন। করোনার আগে যা আয়-রোজগার হতো তাতে ভালোভাবেই চলতো তার সংসার। কিন্ত করোনায় রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। করোনায় প্রথম লকডাউনে চরম দুর্দশার পর পরবর্তীতে আবারও রোজগার শুরু করেন। রোববার সকালেও চা বিক্রি করছিলেন তিনি।

লকডাউনের কথা বললে আফজাল বলেন, ‘আগের বার কোনমতে দিন পার করছি। এবার আর উপায় নাই। তাই বিকেলে ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়ি চলে যাবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘লকডাউন বাড়লে ঢাকায় না খাইয়া থাকা লাগবো।’

আফজাল হোসেনের মতো একই অবস্থার কথা জানান রিকশা চালক জুম্মন। চাঁদপুর থেকে এসে ধানমন্ডি এলাকায় রিকশা চালান তিনি। গ্রামের বাড়িতে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে তার।

রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ঢাকা ছেড়ে দেয়ার কথা জানিয়েছেন এই রিকশা চালক।

এদিকে ঢাকাসহ সারাদেশে পরিবহণ খাতে যারা বাস, মিনিবাসের ড্রাইভার, সুপারভাইজার বা হেলপার হিসেবে কাজ করেন তারা মজুরি পান প্রতিদিনের ট্রিপ বা যাতায়তের ওপর৷

ইতিমধ্যেই যাত্রী ও যাতায়াত দুটিই কমে যাওয়ায় তাদের আয় অনেক কমে গেছে৷

দ্বিতীয় দফায় লকডাউনে গণপরিবহণ বন্ধ হয়ে গেলে মালিকরা তাদের কোনো মজুরি দেবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চিয়তা৷ এছাড়া অটোরিকশা ও রাইড-শেয়ারিং-এ যারা কাজ করেন তারাও চিন্তিত।

বিশ্বব্যাংকের হিসেবে দেশে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করেন৷ যারা দিন আনে দিন খায়৷ তার উপর রয়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা৷ করোনায় শুধু তারাই নন, যারা চাকরিজীবী নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত সবাই সংকটে আছেন৷ দ্বিতীয় দফায় লকডাউনে সেই সঙ্কট আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

দ্বিতীয় দফায় লকডাউন হতাশা ও অনিশ্চয়তায় নিম্ন আয়ের মানুষ

আপডেট টাইম : ১০:৩৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ এপ্রিল ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সোমবার থেকে আবারও এক সপ্তাহের জন্য লকডাউনে যাচ্ছে সারাদেশ। লকডাউনের কারণে ফের বিপাকে পরতে যাচ্ছে দেশের নিম্ন আয়ের মানুষ।

বিশেষ করে শহরে বসবাসরত দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষদের মাঝে রোজগার নিয়ে চরম অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন লকডাউনের সময় বাড়লে তাদের দুর্দশা আরও বেড়ে যাবে।

এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছেন। আবার যারা শহরে থেকে যাচ্ছেন তারাও অনিশ্চয়তায় প্রহর কাটাচ্ছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে নিম্ন আয়ের মানুষদের সাথে কথা বললে এমন হতাশার চিত্র উঠে আসে।

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নাম্বার এলাকায় ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি করেন আফজাল হোসেন। করোনার আগে যা আয়-রোজগার হতো তাতে ভালোভাবেই চলতো তার সংসার। কিন্ত করোনায় রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। করোনায় প্রথম লকডাউনে চরম দুর্দশার পর পরবর্তীতে আবারও রোজগার শুরু করেন। রোববার সকালেও চা বিক্রি করছিলেন তিনি।

লকডাউনের কথা বললে আফজাল বলেন, ‘আগের বার কোনমতে দিন পার করছি। এবার আর উপায় নাই। তাই বিকেলে ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়ি চলে যাবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘লকডাউন বাড়লে ঢাকায় না খাইয়া থাকা লাগবো।’

আফজাল হোসেনের মতো একই অবস্থার কথা জানান রিকশা চালক জুম্মন। চাঁদপুর থেকে এসে ধানমন্ডি এলাকায় রিকশা চালান তিনি। গ্রামের বাড়িতে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে তার।

রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ঢাকা ছেড়ে দেয়ার কথা জানিয়েছেন এই রিকশা চালক।

এদিকে ঢাকাসহ সারাদেশে পরিবহণ খাতে যারা বাস, মিনিবাসের ড্রাইভার, সুপারভাইজার বা হেলপার হিসেবে কাজ করেন তারা মজুরি পান প্রতিদিনের ট্রিপ বা যাতায়তের ওপর৷

ইতিমধ্যেই যাত্রী ও যাতায়াত দুটিই কমে যাওয়ায় তাদের আয় অনেক কমে গেছে৷

দ্বিতীয় দফায় লকডাউনে গণপরিবহণ বন্ধ হয়ে গেলে মালিকরা তাদের কোনো মজুরি দেবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চিয়তা৷ এছাড়া অটোরিকশা ও রাইড-শেয়ারিং-এ যারা কাজ করেন তারাও চিন্তিত।

বিশ্বব্যাংকের হিসেবে দেশে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করেন৷ যারা দিন আনে দিন খায়৷ তার উপর রয়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা৷ করোনায় শুধু তারাই নন, যারা চাকরিজীবী নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত সবাই সংকটে আছেন৷ দ্বিতীয় দফায় লকডাউনে সেই সঙ্কট আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।