ঢাকা ১২:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’ বোল্টের চেয়েও দ্রুত দৌড়ানো সেই চীনা রোবটের নতুন চমক মহানবী মুহাম্মদ (সা.) : সব সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ যিনি প্রধানমন্ত্রী ইসলামের আদর্শ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করছেন: মঈন খান চুলে রং করার পর যত্ন নেবেন যেভাবে নেপালে বন্যা: প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক, সহযোগিতার বার্তা নবীজি (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ ছাড়া বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় : ডিএসসিসি প্রশাসক চারণভূমি সুরক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ করতে হবে: আইনমন্ত্রী মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

হলুদ রঙে সেজেছে পল্লী প্রকৃতি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:৪৬:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২০
  • ২৬৭ বার

 

হাওর বার্তা ডেস্কঃ কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর ও নদীর চর অধ্যুষিত উপজেলাগুলোর ফসলের মাঠে-মাঠে এখন সরিষা ফুলের হলুদ রঙের সমারোহ। চারদিকে হলুদ গালিচা বিছিয়ে যেনো অপরূপ সাজে সেজেছে পল্লী প্রকৃতি।

এ ফুলের মৌ-মৌ গন্ধ আর মৌমাছিদের গুঞ্জরণে মুখরিত হচ্ছে দিগন্ত বিস্তৃত প্রান্তর। এ নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে বাড়ছে প্রকৃতি প্রেমিদের আনাগোনা।

‘ফাও’ ফসল হিসেবে খ্যাত এ ফসলের বাম্পার ফলনের হাতছানিতে হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, অন্তর্বর্তী সময়ে চাষ করে উপযুক্ত মূল্য পাওয়ায় কৃষকরা অধিক হারে সরিষা আবাদের দিকে ঝুঁকছে।

জানা গেছে, প্রতিবছর কার্তিক মাসের শেষের দিকে চাষ হয় সরিষা ফসল। পৌষ মাসের মাঝামাঝি সময়ে এর কর্তন হয়। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলে বোরো ফসল কাটা শেষে নিম্নাঞ্চলের জমিগুলো পানির নিচে তলিয়ে যায়।

মাঠজুড়ে সরিষা ফুলের চোখ জুড়ানো সমারোহ

কার্তিক মাসের দিকে পানি সরে গিয়ে আরেকটি বোরো ফসলের মৌসুম শুরুর মাঝ সময়ে চাষ হয় তেল জাতীয় রবি ফসল সরিষা। এ জন্য চাষিরা এ ফসলটিকে ‘ফাও’ ফসল হিসেবে বিবেচনা করেন।

বাজারে বিক্রির আগেও এ ফসলের ফুল দিয়ে মুখরোচক ‘বরা’ ও পাতা দিয়ে মজাদার ‘শাক’ রান্না করা এবং কর্তন শেষে সরিষা গাছ শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার কারণে এসব বিক্রি করেও মেলে বাড়তি অর্থ।

বাজারে প্রচুর চাহিদা থাকায় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হয় সরিষা। কৃষকরা ধানসহ অন্যান্য খাদ্য শস্যের উপযুক্ত মূল্য না পাওয়ায় ব্যাপক হারে সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

দেশের অন্যতম সরিষা ফসল উৎপাদনকারী হাওর অধ্যুষিত কিশোরগঞ্জে জেলার ফসলের মাঠে মাঠে এখন হলুদ সরিষা ফুলের হাসি। যেদিকেই তাকানো যায় মনে হয় হলুদ রঙের গালিচায় গালিচায় ছেয়ে আছে এখানকার পল্লী প্রকৃতি। এ নয়নাভিরাম হেমন্তশোভা ভিন্ন রকম দোলা দিয়ে যায় গ্রাম বাঙলার মানুষের মনে।

ফুলের মধু আহরণে ব্যস্ত মৌমাছি

তাই কাব্য ও সাহিত্যে হেমন্ত প্রকৃতি বন্দনায় উপমা হয়ে উঠে আসে সরিষা ফুলের নাম। প্রকৃতির এ মনোলোভা সৌন্দর্য উপভোগে সরিষা ফসলের মাঠে ভিড় জমে প্রকৃতি প্রেমীদের।

শনিবার কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা নিকলীর জারুই তলা ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ সরিষা ফসলের মাঠ সরেজমিন পরিদর্শনকালে কথা হয় গ্রামের সুরুজ আলী, ইন্নছ মিয়া ও আবদুল কুদ্দুছ নামে তিন সরিষা চাষির সঙ্গে।

তারা অনেকটা ক্ষোভের সঙ্গে জানালেন, প্রচুর টাকা বিনিয়োগ করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ধানসহ অন্যান্য খাদ্যশস্য উৎপাদন করে ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। তাই তারা অল্প সময়ে ও অল্প খরচে উৎপাদিত বেশি মূল্যে বিক্রিযোগ্য ফসল সরিষা ব্যাপক হারে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

তারা জানান, এ সময়টিতে অন্য কোনো ফসল চাষ করা হয় না বলে এ ফসলটিকে ‘ফাও’ ফসল হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন তারা। আর এ ফসল বিক্রির টাকা দিয়ে সংসারের বাড়তি খরচ যোগানের পাশাপাশি বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষেও ব্যয় করে থাকেন।

ভোরের আলোয় সরিষার মাঠ

এ ব্যাপারে কথা হলে কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (খামারবাড়ি)’র উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. ছাইফুল আলম জানান, এ বছর কিশোরগঞ্জ জেলায় ৭ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।

উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ হাজার ৮১৫ মেট্রিক টন। তবে বাম্পার ফলনের হাতছানি থাকায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশাবাদ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’

হলুদ রঙে সেজেছে পল্লী প্রকৃতি

আপডেট টাইম : ০৩:৪৬:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২০

 

হাওর বার্তা ডেস্কঃ কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর ও নদীর চর অধ্যুষিত উপজেলাগুলোর ফসলের মাঠে-মাঠে এখন সরিষা ফুলের হলুদ রঙের সমারোহ। চারদিকে হলুদ গালিচা বিছিয়ে যেনো অপরূপ সাজে সেজেছে পল্লী প্রকৃতি।

এ ফুলের মৌ-মৌ গন্ধ আর মৌমাছিদের গুঞ্জরণে মুখরিত হচ্ছে দিগন্ত বিস্তৃত প্রান্তর। এ নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে বাড়ছে প্রকৃতি প্রেমিদের আনাগোনা।

‘ফাও’ ফসল হিসেবে খ্যাত এ ফসলের বাম্পার ফলনের হাতছানিতে হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, অন্তর্বর্তী সময়ে চাষ করে উপযুক্ত মূল্য পাওয়ায় কৃষকরা অধিক হারে সরিষা আবাদের দিকে ঝুঁকছে।

জানা গেছে, প্রতিবছর কার্তিক মাসের শেষের দিকে চাষ হয় সরিষা ফসল। পৌষ মাসের মাঝামাঝি সময়ে এর কর্তন হয়। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলে বোরো ফসল কাটা শেষে নিম্নাঞ্চলের জমিগুলো পানির নিচে তলিয়ে যায়।

মাঠজুড়ে সরিষা ফুলের চোখ জুড়ানো সমারোহ

কার্তিক মাসের দিকে পানি সরে গিয়ে আরেকটি বোরো ফসলের মৌসুম শুরুর মাঝ সময়ে চাষ হয় তেল জাতীয় রবি ফসল সরিষা। এ জন্য চাষিরা এ ফসলটিকে ‘ফাও’ ফসল হিসেবে বিবেচনা করেন।

বাজারে বিক্রির আগেও এ ফসলের ফুল দিয়ে মুখরোচক ‘বরা’ ও পাতা দিয়ে মজাদার ‘শাক’ রান্না করা এবং কর্তন শেষে সরিষা গাছ শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার কারণে এসব বিক্রি করেও মেলে বাড়তি অর্থ।

বাজারে প্রচুর চাহিদা থাকায় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হয় সরিষা। কৃষকরা ধানসহ অন্যান্য খাদ্য শস্যের উপযুক্ত মূল্য না পাওয়ায় ব্যাপক হারে সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

দেশের অন্যতম সরিষা ফসল উৎপাদনকারী হাওর অধ্যুষিত কিশোরগঞ্জে জেলার ফসলের মাঠে মাঠে এখন হলুদ সরিষা ফুলের হাসি। যেদিকেই তাকানো যায় মনে হয় হলুদ রঙের গালিচায় গালিচায় ছেয়ে আছে এখানকার পল্লী প্রকৃতি। এ নয়নাভিরাম হেমন্তশোভা ভিন্ন রকম দোলা দিয়ে যায় গ্রাম বাঙলার মানুষের মনে।

ফুলের মধু আহরণে ব্যস্ত মৌমাছি

তাই কাব্য ও সাহিত্যে হেমন্ত প্রকৃতি বন্দনায় উপমা হয়ে উঠে আসে সরিষা ফুলের নাম। প্রকৃতির এ মনোলোভা সৌন্দর্য উপভোগে সরিষা ফসলের মাঠে ভিড় জমে প্রকৃতি প্রেমীদের।

শনিবার কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা নিকলীর জারুই তলা ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ সরিষা ফসলের মাঠ সরেজমিন পরিদর্শনকালে কথা হয় গ্রামের সুরুজ আলী, ইন্নছ মিয়া ও আবদুল কুদ্দুছ নামে তিন সরিষা চাষির সঙ্গে।

তারা অনেকটা ক্ষোভের সঙ্গে জানালেন, প্রচুর টাকা বিনিয়োগ করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ধানসহ অন্যান্য খাদ্যশস্য উৎপাদন করে ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। তাই তারা অল্প সময়ে ও অল্প খরচে উৎপাদিত বেশি মূল্যে বিক্রিযোগ্য ফসল সরিষা ব্যাপক হারে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

তারা জানান, এ সময়টিতে অন্য কোনো ফসল চাষ করা হয় না বলে এ ফসলটিকে ‘ফাও’ ফসল হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন তারা। আর এ ফসল বিক্রির টাকা দিয়ে সংসারের বাড়তি খরচ যোগানের পাশাপাশি বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষেও ব্যয় করে থাকেন।

ভোরের আলোয় সরিষার মাঠ

এ ব্যাপারে কথা হলে কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (খামারবাড়ি)’র উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. ছাইফুল আলম জানান, এ বছর কিশোরগঞ্জ জেলায় ৭ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।

উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ হাজার ৮১৫ মেট্রিক টন। তবে বাম্পার ফলনের হাতছানি থাকায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশাবাদ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তার।