“মেধা-প্রজ্ঞা, সাহস ও রাজপথের পরীক্ষিত নেতৃত্বে আলোচনায় এবিএম ইজাজুল কবির রুয়েল”
হাওর বার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আগামী দিনের নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। ত্যাগী, মেধাবী ও রাজপথে পরীক্ষিত নেতৃত্বের দাবি উঠেছে বিভিন্ন পর্যায় থেকে। এরই মধ্যে সংগঠনের সভাপতি পদে এবিএম ইজাজুল কবির রুয়েলকে দেখতে চান তৃণমূলের নেতাকর্মীদের একটি অংশ।
সহযোদ্ধাদের কাছে রুয়েল পরিচিত একজন নম্র, ভদ্র, মেধাবী ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ছাত্রনেতা হিসেবে। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় আন্দোলন-সংগ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা এবং নেতৃত্বের কারণে সংগঠনের কর্মীদের মধ্যে তিনি আস্থা অর্জন করেছেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন এবিএম ইজাজুল কবির রুয়েল। উচ্চশিক্ষার ধারাবাহিকতায় আমেরিকা ও জাপানে পিএইচডির জন্য ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপের সুযোগও পেয়েছিলেন তিনি। তবে দেশ ও সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধতাকে গুরুত্ব দিয়ে দেশের মাটিতে থেকে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার সিদ্ধান্ত নেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনরা জানান।
কঠিন সময়ের রাজপথে সক্রিয়
রুয়েলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে তাঁর সহযোদ্ধারা ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালের আন্দোলন-সংগ্রামের সময়ের কথা তুলে ধরেন। তাদের দাবি, ওই সময়ের কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তাঁর রাজনৈতিক জীবনের আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করা হয় ২০২২ সালের ২৪ মে’র ঘটনাটি। সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় ছাত্রদলের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আফসান ইয়াহিয়ার ওপর হামলার সময় রুয়েল তাঁকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে এগিয়ে আসেন বলে তাঁর সহযোদ্ধারা জানান।
তাদের ভাষ্য, পরিস্থিতি প্রতিকূল থাকা সত্ত্বেও সহযোদ্ধার পাশে দাঁড়িয়ে রুয়েল যে ভূমিকা রেখেছিলেন, সেটি তাঁর সাহস ও নেতৃত্বের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
২৮ অক্টোবরের পরও রাজপথে ছিলেন
২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও রুয়েল মাঠে সক্রিয় ছিলেন বলে দাবি তাঁর অনুসারীদের।
তাদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত সময়ে রুয়েল ৩২টি মিছিল ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন অথবা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দাবি, শুধু রাজপথের কর্মসূচিই নয়, শিক্ষাঙ্গনেও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর আচরণে শালীনতা এবং সাংগঠনিক কাজে দৃঢ়তা—দুইয়ের সমন্বয় তাঁকে কর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
সভাপতি পদে রুয়েলকে চান নেতাকর্মীরা
ছাত্রদলের আগামী কমিটিতে নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে ত্যাগ, মেধা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজপথের পরীক্ষিত ভূমিকা বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী।
তাদের মতে, কঠিন সময়ে যারা সংগঠনের পাশে ছিলেন, নেতৃত্বের প্রশ্নে তাদের মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। সেই বিবেচনায় এবিএম ইজাজুল কবির রুয়েলকে ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দেখতে চান সংগঠনটির তৃণমূলের একটি অংশ।
নেতাকর্মীরা বলছেন, রুয়েলের মেধা, প্রজ্ঞা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো গেলে ছাত্রদল আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল হতে পারে।
তাদের প্রত্যাশা, আগামী নেতৃত্ব নির্ধারণে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে যোগ্যতা, ত্যাগ, সাংগঠনিক সক্ষমতা ও রাজপথের পরীক্ষিত ভূমিকাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আর সেই মূল্যায়নে এবিএম ইজাজুল কবির রুয়েলকে সামনে দেখতে চান ছাত্রদলের তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী।
Reporter Name 























