ঢাকা ০৬:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ইটনায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্র্যাক সদস্যদের মাঝে হাঁসের বাচ্চা ও সবজি বীজ বিতরণ তালবাহানায় আটকে গভর্নিং বডি নির্বাচন, প্রশ্নের মুখে আইডিয়াল কর্তৃপক্ষ অবহেলায় অনেক স্কুলের অবকাঠামোর বেহাল দশা: জুবাইদা রহমান গ্লোবাল পিস ইনডেক্স ২০২৬ দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ শান্তিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করা হবে পুরস্কারের গাড়ি মাকে উপহার দেবেন তাওহীদ হৃদয় ইসলামী ব্যাংকে নতুন প্রশাসক নিয়োগ জিয়াউর রহমানের জীবন ও দর্শন নিয়ে গবেষণার আহ্বান ফখরুলের পাখির চোখে সীমান্ত পাহারার ছক, কঠোর নজরদারি বাড়াচ্ছে সরকার বেনজীরের গ্রেপ্তারের খবরে আনন্দিত পরীমণি

একাত্তরের স্মৃতি কথা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০১৬
  • ৭৩১ বার

এক.
আমার বাবা ছিলেন রেলওয়ের কর্মকর্তা । পাকিস্তান আমল থেকেই রেল শ্রমিক লীগ করতেন । ময়মনসিংহের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন । রেল ষ্টেশনের কাছেই রেল কোয়াটারে আমাদের বাসা । ১৯৭১ সালে আমি ৫ম শ্রেণীর ছাত্র । ময়মনসিংহ সিটি কলেজিয়েট স্কুলে পড়ি ।স্বাধীনতার পর আমি ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে ভর্তি হই । সে যাক । আমরা মালগুদাম কলোনীতে থাকতাম । তখনকার সময়ে কলোনীতে ৫% বাঙালি ছিল । অধিকাংশই বিহারী পরিবার ছিল । তখন আমার সহপাঠি বা খেলার সাথী ছিল আতিক,সেলিম, সিদ্দিক, জামান, দুলাল প্রমুখ । আর বিহারী বন্ধুদের ভিতর ছিল আশফাক,সাজ্জাদ,আলিম প্রমুখ । আমরা ছোটরা তখন বুঝিনি আমরা কেন ওদের চেয়ে কম পরিবার । যেটি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বুঝেছিলেন । যে কোন প্রতিষ্ঠানে তখন বাঙালি নিয়োগ ছিল ২-৩% । বঙ্গবন্ধু বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে গেছেন ।

১৯৬৯ সাল । আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় জেল খানায় । প্রায় প্রতিদিন আমাদের স্কুল ছুটি হয়ে যায় । কলেজের ছাত্ররা এসে দপ্তরীর কাছ থেকে ঘন্টা নিয়ে বাজিয়ে দেয় । আর আমরা ক্লাশ রুম থেকে বেরিয়ে চলে আসি । গেটে জমায়েত হতেই শ্লোগান শুরু হয় । তোমার আমার ঠিকানা-পদ্মা মেঘনা যমুনা । জেগেছে জেগেছে বীর বাঙালি জেগেছে । জেলের তালা ভাংবো-শেখ মুজিবকে আনবো । ঢাকা না পিন্ডি-ঢাকা ঢাকা । জয় বাংলা । মিছিলটি স্কুল থেকে বের হয়ে রেল ষ্টেশনের দিকে যেতো । আমরা আমাদের বাসার কাছে আসতেই মিছিল থেকে কেটে পড়তাম ।এ মিছিলের গুরুত্ব তখন আমরা ছোটরা বুঝতাম না ।

সেই ময়মনসিংহের গুটি কয়েক ক্লাব ছিল । এর মধ্যে মুকুল ফৌজ ছিল অন্যতম । আমার আব্বা আমাকে একদিন সকাল বেলা নিয়ে গেলেন সেই মুকুল ফৌজ ক্লাবের প্রধান রতনদার কাছে । আব্বাকে দেখেই রতনদা বললেন, আরে রশীদ ভাই, আসেন আসেন । তারা অনেক রাজনৈতিক আলাপ করলো । তারপর আমাকে রতনদা হাতে দিয়ে বললেন, আমার ছেলেকে তোমার হাতে দিয়ে গেলাম । ব্যাস , হয়ে গেলাম এক ক্ষুদে ফৌজ । প্রতিদিন বিকেলে ক্লাবে আসতাম । একটি চৌচালা ঘর ছিল । গেট থেকে অনেক দূরে । গেটে দাড়িয়ে বলতে হতো ‘‘আসি ভাই’’ । ভিতরে যদি সিনিয়র কেই থাকতো বলতো-আস । সেই ক্লাবে মার্চ পাষ্ট এর জন্য প্রশিক্ষণ,শারিরীক চর্চা, ফুটবল খেলা, ক্রিকেট, ভলিবল,ক্যারাম,দাবা ইত্যাদি । আবার গান প্রশিক্ষণ হতো । সেদিনের দিনগুলি খুবই মজার ছিল । আবার শাসন ছিল কড়া । রতনদাকে সবাই বাঘের মতো ভয় পেতো । অন্যায় করলে আর রক্ষা নেই । শাস্তি তাকে পেতেই হতো ।

আমাদের মুকুল দের ড্রেস ছিল খুব সুন্দর । সাদা ইংলিশ হাফ পেন্ট, সাদা সার্ট,সাদা কাপড়ের জোতা-মোজা ও মাথায় সাদা লম্বাটে ক্যাপ । আমরা যখন প্যারেট করতাম তখন অদ্ভূত লাগতো । আমরা ১৪ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসে সার্কিট হাউজ ময়দানে যেতাম । প্রায় প্রতিবারই পিটি প্রদর্শনীতে আমরা প্রথম হতাম । ভালো রেজান্ট করলে রতনদা আমাদের খুব খাওয়াতো । আমার যতটুকু সাংগঠনিক কর্মকান্ড সবটুকুই রতনদার কাছ থেকে পাওয়া । সেদিনকার মুকুল ফেীজ আর তেমনটি নেই । স্কুল হয়েছে, কলেজ হয়েছে । ক্লাবে পরিধি বেড়েছে । বর্তমানে রতনদা মুকুল নিকেতন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ । তার পূর্ণ নাম আমির আহম্মেদ চৌধুরী রতন ।

১৯৬৯ সালেই বাঙালির নেতা শেখ মুজিবুর রহমান কে মুক্তি দেয়া হলো । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি তখন ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ । তিনি বাঙালির নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের জন্য একটি সংবর্ধনার আয়োজন করেন । সেখানে তোফায়েল আহমেদ শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধীতে ভূষিত করেন । শেখ মুজিব হলেন বঙ্গবন্ধু । ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সংখ্যা গরিষ্ঠ আসন পেলো । কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানীরা ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে টালবাহানা শুরু করে দিল । ১৯৭১ এর ৭মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু ঘোষনা করলেন, ‘‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীণতার সংগ্রাম ।’’ তিনি বাঙালিদের বললেন, ‘‘যার যা আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো । শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে ।’’

২৫ মার্চ পাক বাহিনীরা রাতের অন্ধকারে অর্তকিতে হামলা চালালো । হাজার হাজার বাঙালিকে হত্যা করলো । ঢাকা সহ সারা বাংলা হলো শ্মশান ।২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু ধানমন্ডির ৩২ নাম্বার বাড়িতে প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনা দেন । তিনি পালিয়ে যেতে পারতেন । তিনি তা করেননি । বাঙালিতে বিপদের মুখে ফেলে তিনি গা ঢাকা দেননি । নিজের বাড়িতেই অবস্থান করেছেন । পশ্চিম পাকিস্তানীরা তাকে গ্রেফতার করলো । নিয়ে গেলো পশ্চিম পাকিস্তানে ।

পাক বাহিনীকে প্রতিরোধ করার জন্য কজ চলছিল । আমাদের পাড়ার রুমেল মামা, জুয়েল ভাইরা বড়বড় গাছ কেটে ময়মনসিংহের প্রধান সড়ক ব্যারিকেট দিল । আমরা ছোটরা শরীক হলাম । আমরা বাসা থেকে দা বটি এনে কলাগাছ কেটে রাস্তায় ফেল্লাম । চারদিকে আতংক । ওরা বাঙালিদের হত্যা করেই চলছে । ক’দিন পর হঠাৎ সকাল বেলা ময়মনসিংহ ষ্টেশনে এক ট্রেনে ইপিআর বাহিনী উঠলো । ওরা বাংলাকে শত্রুমুক্ত করতে যুদ্ধে যাচ্ছে । সকলের চোখে জল । অশ্রুসজল চোখে আমরা তাদের বিদায় জানালাম । একজন ইপিআর জোয়ানকে তার দেয়া বোতলে টিউবওয়েল থেকে পানি ভরে দিয়েছিলাম । সেই বাঙালি জোয়ান আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেছিল । ওরা বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর সকলে কি ফিরে এসেছিল ?

দুই.
মে মাসের শেষ দিকে আমাদেরকে আব্বা গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দিল । ময়মনসিংহ থেকে সরিষাবাড়ী । রেল-বাস বন্ধ । যেতে হবে রিক্সায় । দুটি রিক্সা ভাড়া করলেন আব্বা । প্রথমে আমরা যাব নান্দিনা । ফুফুর বাড়ী । ওখানে একরাত থেকে সরিষাবাড়ী । আমাদের বাসার সব কিছু ফেলে চললাম । আম্মা তেমন কিছুই নিতে পারেন নি ।আব্বার সাংগঠনিক কাজ থাকায় তিনি থেকে গেলেন । রাস্তায় হাজার রকম বিপদ । ইতিমধ্যে রাজাকার বাহিনী তৈরী হয়ে গেছে । পাব বাহিনীদের সহযোগিতা করার জন্য ।রাস্তায় ক্ষণে ক্ষণে ব্যারিকেড । জিজ্ঞাসাবাদ । আমাদের সাথে সুজা ভাই ছিলেন । আমার ফুপাতো ভাই । তিনি বুদ্ধি করে কথা বলাতে প্রথম যাত্রা আমরা কোন রকমে পার দিতে পারলাম ।

ফুপুর বাড়ী একদিন থেকে আবার রিক্সায় সরিষাবাড়ী । জামালপুর দয়াময় মোড় এ এসে আমরা থমকে দাড়ালাম । একটু আগে পাকবাহিনীরা সারা শহর তছনছ করে গেছে । দয়াময় মোড়ে কিছু মিস্টির দোকান ছিল । বেশ ক’গামলা রাস্তায় এলোপাথরি ভাবে পড়ে আছে । আর রসগোল্লাগুলি রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে আছে । ক’টি কুকুর সেই মিস্টিগুলো খাবার চেস্টা করছে । একটু দূর এগুতেই দেখলাম দু’জন বাঙালির লাশ । রক্তের ¯্রােতধারা রাস্তায় । ক’টি কাক খুব অসহায় এর মতো কাকা করছে । আমরা ভয়ে ভয়ে জামালপুর শহর পেরিয়ে এলাম । দিকপাইত নামক জায়গাটি পেরিয়ে সরিষাবাড়ী রোডে আমরা উঠলাম । বাউশী পেরিয়ে কমরাবাদ নদী পার হলাম ।এটি যমুনার শাখা । ঝিনাই নদী । আমাদের বাড়ীর কাছে রিক্সা যেতেই শত শত লোক আমাদেরকে স্বাগত জানালো । আমার শিশু মন চনমনে হয়ে উঠলো । ছায়া সুনিবিড় আমাদের মায়াময় গ্রাম । এখানকার মানুষগুলো শান্ত ।

পরদিন থেকেই আমি আমার মুকুল ফৌজ এর ড্রেস পড়ে বাড়ীর ছেলে-মেয়েদের ট্রেনিং দেয়া শুরু করলাম । মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং । প্রায় ৫০জন ছেলে মেয়ে । আমি হলাম ওদের কমান্ডার । আমরা দু’ভাগে ভাগ হয়ে লড়াই করতাম । রাজাকার দের পরাজিত করে আমরা শাস্তি দিতাম । যুদ্ধে জয়ের পরই আমরা জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগান দিয়ে উঠতাম । ইতিমধ্যে আমাদের বাড়ির সামনে আলহাজ জুট মিল এ আর্মিদের ক্যাম্প করা হয়েছে । গ্রামের লোকদের রাজাকার বাহিনীতে ভর্তি করানো হচ্ছে ।

আর গ্রামে কিছু সংখ্যক যুবক পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে চলে গেছে । তাদের মাঝে মজিদ চেয়ারম্যন, আলতাফ মাস্টার , হারুন মাস্টার, ইমান আলী, বারেক, কাদের, সিকান্দর প্রমুখ । রাজাকাররা মাঝে মধ্যে গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে হানা দিয়ে চাল ,ডাল, মুরগী, খাসি,গরু ক্যাম্পে নিয়ে যায় । প্রায় সব জায়গায় শান্তি কমিটি গঠন করা হল ।আমাদের গ্রামের গফুর মাস্টার শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হলেন ।

এলাকার অনেক যুবক ছেলেরা রাতের অন্ধকারে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে চলে গেলো । আর গফুর মাস্টার এর নেতৃত্বে কিছু লোক রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিল । সরিষাবাড়ীতে আলবদর এর কমান্ডার ছিল আনসার মৌলভী ।সবচেয়ে বড় মাদ্রাসা আলিয়া মাদ্রাসা ছিল আমাদের সরিষাবাড়ীতে । সেই মাদ্রাসার শিক্ষক ছিল আনসার মৌলভী । তার দাপটে এলাকার শান্তিপ্রিয় ও নিরিহ মানুষ অতিষ্ট । কিন্তু মুখে কোন কথা বলতে পরতো না । ওদের বিরুদ্ধে কথা বললেই লাল ঘরে নিয়ে যেতো । সেখানে অত্যাচার করতো । আর যে বাড়ীর ছেলেদের এলাকায় দেখা যেতো না তখন সন্দেহ করতো ওরা মুক্তি বাহিনীতে যোগ দিয়েছে । তখন ঐসব বাড়ীর উপর বিভিন্ন রকম অত্যাচার করতো রাজাকার , আলবদররা ।

অক্টোবর বা নভেম্বর এর এক ভোরে সেকান্দর কাকা লুকিয়ে বাড়ি এসেছে । কতদিন ভাত খায়নি কে জানে । দাদী সেকান্দর কাকাকে ভাত খাওয়াচ্ছে । ভোর বেলা গ্রামের মহিলারা বাড়ির পিছনে পুকুর ঘাটে বাসি বাসনপত্র পরিস্কার করে সেদিন আমার মা মরহুম হাজেরা বেগম সে কাজটি করছিল । হঠাৎ মা দেখে পশ্চিম দিক থেকে একদল পাক বাহিনী আমাদের বাড়ির দিকে আসছে । তাদের সাথে কিছু রাজাকার ও আলবদর । আমার মায়ের আর বুঝতে বাকি রইল না ওরা কেন আসছে । আমার মা উর্ধ্ব শ্বাসে দৌড়ে বাড়ির ভিতর এসে সেকান্দর কাকাকে বললো , তুই এখনো ভাত খাস ? তোরে ধরতে আইতেছে । পালা পালা সেকান ।

অমনি মুক্তিযোদ্ধা সেকান্দর আমাদের বাড়ির সামনে ঝিনাই নদী সাতরে পার হয়ে চলে গেলো । আমার সেকান কাকা সেদিন ভালোভাবে ভাত খেতে পারেনি । সেদিন কিন্ত আমার মা সহযোদ্ধার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল্ । এমনিভাবে সারা বাংলাদেশের মা-বোনেরা এবং ছোট ছেলে-মেয়েরা মুক্তিযুদ্ধে সহযোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছে । আমাদের ভুলে গেলে চলবে না হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাংলার আবাল,বৃদ্ধ,বণিতা, কৃষক,শ্রমিক,মজুর সকলে মাতৃভুমিকে রক্ষার জন্য পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল ।

দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা । আমরা হারিয়েছি ত্রিশ লক্ষ বাংলা মায়ের বীর সন্তানকে । আর স¤্রম হারিয়েছে দু’লক্ষ মাবোনের । অনেক ত্যাগ, তীতীক্ষার পর আমরা পেয়েছি সোনার বাংলাকে । ১৯৭৫সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শাহাদাত বরণ করার পর ৪০ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে । বর্তমানে বঙ্গবন্ধু কণ্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনা দেশ পরিচালনা করছেন । তিনি দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য একবিংশ শতাব্দির চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়েছেন এবং ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ । আমরা সহযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার পাশে থেকে নিরলস কাজ করে যাব । বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার জন্য সারা বাংলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সহযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ করে বাংলার উন্নয়নের সংগ্রামে অংশগ্রহন করবো ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ইটনায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্র্যাক সদস্যদের মাঝে হাঁসের বাচ্চা ও সবজি বীজ বিতরণ

একাত্তরের স্মৃতি কথা

আপডেট টাইম : ১১:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০১৬

এক.
আমার বাবা ছিলেন রেলওয়ের কর্মকর্তা । পাকিস্তান আমল থেকেই রেল শ্রমিক লীগ করতেন । ময়মনসিংহের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন । রেল ষ্টেশনের কাছেই রেল কোয়াটারে আমাদের বাসা । ১৯৭১ সালে আমি ৫ম শ্রেণীর ছাত্র । ময়মনসিংহ সিটি কলেজিয়েট স্কুলে পড়ি ।স্বাধীনতার পর আমি ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে ভর্তি হই । সে যাক । আমরা মালগুদাম কলোনীতে থাকতাম । তখনকার সময়ে কলোনীতে ৫% বাঙালি ছিল । অধিকাংশই বিহারী পরিবার ছিল । তখন আমার সহপাঠি বা খেলার সাথী ছিল আতিক,সেলিম, সিদ্দিক, জামান, দুলাল প্রমুখ । আর বিহারী বন্ধুদের ভিতর ছিল আশফাক,সাজ্জাদ,আলিম প্রমুখ । আমরা ছোটরা তখন বুঝিনি আমরা কেন ওদের চেয়ে কম পরিবার । যেটি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বুঝেছিলেন । যে কোন প্রতিষ্ঠানে তখন বাঙালি নিয়োগ ছিল ২-৩% । বঙ্গবন্ধু বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে গেছেন ।

১৯৬৯ সাল । আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় জেল খানায় । প্রায় প্রতিদিন আমাদের স্কুল ছুটি হয়ে যায় । কলেজের ছাত্ররা এসে দপ্তরীর কাছ থেকে ঘন্টা নিয়ে বাজিয়ে দেয় । আর আমরা ক্লাশ রুম থেকে বেরিয়ে চলে আসি । গেটে জমায়েত হতেই শ্লোগান শুরু হয় । তোমার আমার ঠিকানা-পদ্মা মেঘনা যমুনা । জেগেছে জেগেছে বীর বাঙালি জেগেছে । জেলের তালা ভাংবো-শেখ মুজিবকে আনবো । ঢাকা না পিন্ডি-ঢাকা ঢাকা । জয় বাংলা । মিছিলটি স্কুল থেকে বের হয়ে রেল ষ্টেশনের দিকে যেতো । আমরা আমাদের বাসার কাছে আসতেই মিছিল থেকে কেটে পড়তাম ।এ মিছিলের গুরুত্ব তখন আমরা ছোটরা বুঝতাম না ।

সেই ময়মনসিংহের গুটি কয়েক ক্লাব ছিল । এর মধ্যে মুকুল ফৌজ ছিল অন্যতম । আমার আব্বা আমাকে একদিন সকাল বেলা নিয়ে গেলেন সেই মুকুল ফৌজ ক্লাবের প্রধান রতনদার কাছে । আব্বাকে দেখেই রতনদা বললেন, আরে রশীদ ভাই, আসেন আসেন । তারা অনেক রাজনৈতিক আলাপ করলো । তারপর আমাকে রতনদা হাতে দিয়ে বললেন, আমার ছেলেকে তোমার হাতে দিয়ে গেলাম । ব্যাস , হয়ে গেলাম এক ক্ষুদে ফৌজ । প্রতিদিন বিকেলে ক্লাবে আসতাম । একটি চৌচালা ঘর ছিল । গেট থেকে অনেক দূরে । গেটে দাড়িয়ে বলতে হতো ‘‘আসি ভাই’’ । ভিতরে যদি সিনিয়র কেই থাকতো বলতো-আস । সেই ক্লাবে মার্চ পাষ্ট এর জন্য প্রশিক্ষণ,শারিরীক চর্চা, ফুটবল খেলা, ক্রিকেট, ভলিবল,ক্যারাম,দাবা ইত্যাদি । আবার গান প্রশিক্ষণ হতো । সেদিনের দিনগুলি খুবই মজার ছিল । আবার শাসন ছিল কড়া । রতনদাকে সবাই বাঘের মতো ভয় পেতো । অন্যায় করলে আর রক্ষা নেই । শাস্তি তাকে পেতেই হতো ।

আমাদের মুকুল দের ড্রেস ছিল খুব সুন্দর । সাদা ইংলিশ হাফ পেন্ট, সাদা সার্ট,সাদা কাপড়ের জোতা-মোজা ও মাথায় সাদা লম্বাটে ক্যাপ । আমরা যখন প্যারেট করতাম তখন অদ্ভূত লাগতো । আমরা ১৪ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসে সার্কিট হাউজ ময়দানে যেতাম । প্রায় প্রতিবারই পিটি প্রদর্শনীতে আমরা প্রথম হতাম । ভালো রেজান্ট করলে রতনদা আমাদের খুব খাওয়াতো । আমার যতটুকু সাংগঠনিক কর্মকান্ড সবটুকুই রতনদার কাছ থেকে পাওয়া । সেদিনকার মুকুল ফেীজ আর তেমনটি নেই । স্কুল হয়েছে, কলেজ হয়েছে । ক্লাবে পরিধি বেড়েছে । বর্তমানে রতনদা মুকুল নিকেতন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ । তার পূর্ণ নাম আমির আহম্মেদ চৌধুরী রতন ।

১৯৬৯ সালেই বাঙালির নেতা শেখ মুজিবুর রহমান কে মুক্তি দেয়া হলো । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি তখন ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ । তিনি বাঙালির নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের জন্য একটি সংবর্ধনার আয়োজন করেন । সেখানে তোফায়েল আহমেদ শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধীতে ভূষিত করেন । শেখ মুজিব হলেন বঙ্গবন্ধু । ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সংখ্যা গরিষ্ঠ আসন পেলো । কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানীরা ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে টালবাহানা শুরু করে দিল । ১৯৭১ এর ৭মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু ঘোষনা করলেন, ‘‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীণতার সংগ্রাম ।’’ তিনি বাঙালিদের বললেন, ‘‘যার যা আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো । শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে ।’’

২৫ মার্চ পাক বাহিনীরা রাতের অন্ধকারে অর্তকিতে হামলা চালালো । হাজার হাজার বাঙালিকে হত্যা করলো । ঢাকা সহ সারা বাংলা হলো শ্মশান ।২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু ধানমন্ডির ৩২ নাম্বার বাড়িতে প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনা দেন । তিনি পালিয়ে যেতে পারতেন । তিনি তা করেননি । বাঙালিতে বিপদের মুখে ফেলে তিনি গা ঢাকা দেননি । নিজের বাড়িতেই অবস্থান করেছেন । পশ্চিম পাকিস্তানীরা তাকে গ্রেফতার করলো । নিয়ে গেলো পশ্চিম পাকিস্তানে ।

পাক বাহিনীকে প্রতিরোধ করার জন্য কজ চলছিল । আমাদের পাড়ার রুমেল মামা, জুয়েল ভাইরা বড়বড় গাছ কেটে ময়মনসিংহের প্রধান সড়ক ব্যারিকেট দিল । আমরা ছোটরা শরীক হলাম । আমরা বাসা থেকে দা বটি এনে কলাগাছ কেটে রাস্তায় ফেল্লাম । চারদিকে আতংক । ওরা বাঙালিদের হত্যা করেই চলছে । ক’দিন পর হঠাৎ সকাল বেলা ময়মনসিংহ ষ্টেশনে এক ট্রেনে ইপিআর বাহিনী উঠলো । ওরা বাংলাকে শত্রুমুক্ত করতে যুদ্ধে যাচ্ছে । সকলের চোখে জল । অশ্রুসজল চোখে আমরা তাদের বিদায় জানালাম । একজন ইপিআর জোয়ানকে তার দেয়া বোতলে টিউবওয়েল থেকে পানি ভরে দিয়েছিলাম । সেই বাঙালি জোয়ান আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেছিল । ওরা বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর সকলে কি ফিরে এসেছিল ?

দুই.
মে মাসের শেষ দিকে আমাদেরকে আব্বা গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দিল । ময়মনসিংহ থেকে সরিষাবাড়ী । রেল-বাস বন্ধ । যেতে হবে রিক্সায় । দুটি রিক্সা ভাড়া করলেন আব্বা । প্রথমে আমরা যাব নান্দিনা । ফুফুর বাড়ী । ওখানে একরাত থেকে সরিষাবাড়ী । আমাদের বাসার সব কিছু ফেলে চললাম । আম্মা তেমন কিছুই নিতে পারেন নি ।আব্বার সাংগঠনিক কাজ থাকায় তিনি থেকে গেলেন । রাস্তায় হাজার রকম বিপদ । ইতিমধ্যে রাজাকার বাহিনী তৈরী হয়ে গেছে । পাব বাহিনীদের সহযোগিতা করার জন্য ।রাস্তায় ক্ষণে ক্ষণে ব্যারিকেড । জিজ্ঞাসাবাদ । আমাদের সাথে সুজা ভাই ছিলেন । আমার ফুপাতো ভাই । তিনি বুদ্ধি করে কথা বলাতে প্রথম যাত্রা আমরা কোন রকমে পার দিতে পারলাম ।

ফুপুর বাড়ী একদিন থেকে আবার রিক্সায় সরিষাবাড়ী । জামালপুর দয়াময় মোড় এ এসে আমরা থমকে দাড়ালাম । একটু আগে পাকবাহিনীরা সারা শহর তছনছ করে গেছে । দয়াময় মোড়ে কিছু মিস্টির দোকান ছিল । বেশ ক’গামলা রাস্তায় এলোপাথরি ভাবে পড়ে আছে । আর রসগোল্লাগুলি রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে আছে । ক’টি কুকুর সেই মিস্টিগুলো খাবার চেস্টা করছে । একটু দূর এগুতেই দেখলাম দু’জন বাঙালির লাশ । রক্তের ¯্রােতধারা রাস্তায় । ক’টি কাক খুব অসহায় এর মতো কাকা করছে । আমরা ভয়ে ভয়ে জামালপুর শহর পেরিয়ে এলাম । দিকপাইত নামক জায়গাটি পেরিয়ে সরিষাবাড়ী রোডে আমরা উঠলাম । বাউশী পেরিয়ে কমরাবাদ নদী পার হলাম ।এটি যমুনার শাখা । ঝিনাই নদী । আমাদের বাড়ীর কাছে রিক্সা যেতেই শত শত লোক আমাদেরকে স্বাগত জানালো । আমার শিশু মন চনমনে হয়ে উঠলো । ছায়া সুনিবিড় আমাদের মায়াময় গ্রাম । এখানকার মানুষগুলো শান্ত ।

পরদিন থেকেই আমি আমার মুকুল ফৌজ এর ড্রেস পড়ে বাড়ীর ছেলে-মেয়েদের ট্রেনিং দেয়া শুরু করলাম । মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং । প্রায় ৫০জন ছেলে মেয়ে । আমি হলাম ওদের কমান্ডার । আমরা দু’ভাগে ভাগ হয়ে লড়াই করতাম । রাজাকার দের পরাজিত করে আমরা শাস্তি দিতাম । যুদ্ধে জয়ের পরই আমরা জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগান দিয়ে উঠতাম । ইতিমধ্যে আমাদের বাড়ির সামনে আলহাজ জুট মিল এ আর্মিদের ক্যাম্প করা হয়েছে । গ্রামের লোকদের রাজাকার বাহিনীতে ভর্তি করানো হচ্ছে ।

আর গ্রামে কিছু সংখ্যক যুবক পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে চলে গেছে । তাদের মাঝে মজিদ চেয়ারম্যন, আলতাফ মাস্টার , হারুন মাস্টার, ইমান আলী, বারেক, কাদের, সিকান্দর প্রমুখ । রাজাকাররা মাঝে মধ্যে গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে হানা দিয়ে চাল ,ডাল, মুরগী, খাসি,গরু ক্যাম্পে নিয়ে যায় । প্রায় সব জায়গায় শান্তি কমিটি গঠন করা হল ।আমাদের গ্রামের গফুর মাস্টার শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হলেন ।

এলাকার অনেক যুবক ছেলেরা রাতের অন্ধকারে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে চলে গেলো । আর গফুর মাস্টার এর নেতৃত্বে কিছু লোক রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিল । সরিষাবাড়ীতে আলবদর এর কমান্ডার ছিল আনসার মৌলভী ।সবচেয়ে বড় মাদ্রাসা আলিয়া মাদ্রাসা ছিল আমাদের সরিষাবাড়ীতে । সেই মাদ্রাসার শিক্ষক ছিল আনসার মৌলভী । তার দাপটে এলাকার শান্তিপ্রিয় ও নিরিহ মানুষ অতিষ্ট । কিন্তু মুখে কোন কথা বলতে পরতো না । ওদের বিরুদ্ধে কথা বললেই লাল ঘরে নিয়ে যেতো । সেখানে অত্যাচার করতো । আর যে বাড়ীর ছেলেদের এলাকায় দেখা যেতো না তখন সন্দেহ করতো ওরা মুক্তি বাহিনীতে যোগ দিয়েছে । তখন ঐসব বাড়ীর উপর বিভিন্ন রকম অত্যাচার করতো রাজাকার , আলবদররা ।

অক্টোবর বা নভেম্বর এর এক ভোরে সেকান্দর কাকা লুকিয়ে বাড়ি এসেছে । কতদিন ভাত খায়নি কে জানে । দাদী সেকান্দর কাকাকে ভাত খাওয়াচ্ছে । ভোর বেলা গ্রামের মহিলারা বাড়ির পিছনে পুকুর ঘাটে বাসি বাসনপত্র পরিস্কার করে সেদিন আমার মা মরহুম হাজেরা বেগম সে কাজটি করছিল । হঠাৎ মা দেখে পশ্চিম দিক থেকে একদল পাক বাহিনী আমাদের বাড়ির দিকে আসছে । তাদের সাথে কিছু রাজাকার ও আলবদর । আমার মায়ের আর বুঝতে বাকি রইল না ওরা কেন আসছে । আমার মা উর্ধ্ব শ্বাসে দৌড়ে বাড়ির ভিতর এসে সেকান্দর কাকাকে বললো , তুই এখনো ভাত খাস ? তোরে ধরতে আইতেছে । পালা পালা সেকান ।

অমনি মুক্তিযোদ্ধা সেকান্দর আমাদের বাড়ির সামনে ঝিনাই নদী সাতরে পার হয়ে চলে গেলো । আমার সেকান কাকা সেদিন ভালোভাবে ভাত খেতে পারেনি । সেদিন কিন্ত আমার মা সহযোদ্ধার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল্ । এমনিভাবে সারা বাংলাদেশের মা-বোনেরা এবং ছোট ছেলে-মেয়েরা মুক্তিযুদ্ধে সহযোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছে । আমাদের ভুলে গেলে চলবে না হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাংলার আবাল,বৃদ্ধ,বণিতা, কৃষক,শ্রমিক,মজুর সকলে মাতৃভুমিকে রক্ষার জন্য পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল ।

দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা । আমরা হারিয়েছি ত্রিশ লক্ষ বাংলা মায়ের বীর সন্তানকে । আর স¤্রম হারিয়েছে দু’লক্ষ মাবোনের । অনেক ত্যাগ, তীতীক্ষার পর আমরা পেয়েছি সোনার বাংলাকে । ১৯৭৫সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শাহাদাত বরণ করার পর ৪০ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে । বর্তমানে বঙ্গবন্ধু কণ্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনা দেশ পরিচালনা করছেন । তিনি দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য একবিংশ শতাব্দির চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়েছেন এবং ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ । আমরা সহযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার পাশে থেকে নিরলস কাজ করে যাব । বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার জন্য সারা বাংলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সহযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ করে বাংলার উন্নয়নের সংগ্রামে অংশগ্রহন করবো ।