ঢাকা ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বিশ্বকাপে দর্শক উপস্থিতির নতুন রেকর্ড দারুণ ফিচার চালু করছে হোয়াটসঅ্যাপ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হারের নেপথ্যে শরীরে নেই পোশাক, ব্রাজিলীয় সুন্দরীর কান্ড মামলার কারণে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি আটকে আছে : শিক্ষামন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির কারণে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশু আয়াতকে হত্যার পর মরদেহ ৬ টুকরো : আসামি আবীরের মৃত্যুদণ্ড সংসদে ‘অঙ্গুলিনির্দেশ’ এক্সপাঞ্জের দাবি হিলালীর, স্পিকার বললেন—‘করা যাবে না’ হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অপরিষ্কার পরিবেশ দেখে ক্ষোভ বাজেট-জনবল সংকটের অজুহাতে নাগরিক সেবা ব্যাহত করা যাবে না

বন্যায় মাছ চাষিদের স্বপ্ন ‘তছনছ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:১৭:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২০
  • ২৯৯ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ রংপুরে দুই দফা বন্যায় তিন উপজেলায় ১২৯টি পুকুরের ২৩ লাখ ৪০ হাজার টাকার মাছ ভেসে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জেলার গংগাচড়া উপজেলায়। ক্ষতিগ্রস্ত এসব মাছ চাষি সরকারি প্রণোদনা না পেলে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তারা। সবথেকে বেশি বিপদে রয়েছেন ব্যাংক ঋণ নিয়ে খামার করা মৌসুমি মাছ চাষিরা

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় গংগাচড়ায় ৪৮টি পুকুরের ৪ দশমিক ৬২ মেট্রিক টন মাছ ভেসে গেছে। যার মূল্য মৎস্য বিভাগ নির্ধারণ করেছে ৭ লাখ দুই হাজার টাকা। একইসঙ্গে অবকাঠামোগত ক্ষতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সব মিলে ওই উপজেলায় ক্ষতি হয়েছে ৮ লাখ ৬ হাজার টাকা।

একইভাবে কাউনিয়া উপজেলায় ৪৩টি পুকুরের ৪ দশমিক ১৩ মেট্রিকটন মাছ ভেসে গেছে। সব মিলিয়ে ক্ষতি ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯ হাজার টাকা। আর পীরগাছা উপজেলায় ৩৮টি পুকুরের ৩ দশমিক ৮৫ মেট্রিক টন মাছ ভেসে গেছে। মোট ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

জেলা মৎস অফিস জানিয়েছে, এই বন্যায় জেলায় ১২৯টি পুকুরের ১২ দশমিক ৬ মেট্রিক টন মাছ ভেসে গেছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য ২৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার দেউতি সুন্দর গ্রামের মাছ চাষি তৈয়বুর রহমান তুষার জানান, বন্যায় তার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। প্রতি কোরবানির ঈদে তিনি প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেন। কিন্তু এবার এক টাকাও মাছ বিক্রি করতে পারেননি।

তিনি বলেন, ব্যাংক ঋণ করে প্রায় ২৫ লাখ টাকার মাছ চাষ করেছি। এর মধ্যে বেশিরভাগ মাছই পানিতে ভেসে গেছে। সরকার প্রণোদনা না দিলে ব্যাংক ঋণ শোধ করা সম্ভব নয়।

একই কথা বলেন গংগা চড়া উপজেলার নোহালি ইউনিয়নের সমশের আলী। তিনি বলেন, মাছের খামার দিয়েই স্বপ্ন দেখছিলাম। কিন্তু সেই স্বপ্ন তছনছ হয়ে গেছে বন্যায়।

রংপুর জেলা মৎস কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র বিশ্বাস ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করেছি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে দর্শক উপস্থিতির নতুন রেকর্ড

বন্যায় মাছ চাষিদের স্বপ্ন ‘তছনছ

আপডেট টাইম : ০৪:১৭:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২০

হাওর বার্তা ডেস্কঃ রংপুরে দুই দফা বন্যায় তিন উপজেলায় ১২৯টি পুকুরের ২৩ লাখ ৪০ হাজার টাকার মাছ ভেসে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জেলার গংগাচড়া উপজেলায়। ক্ষতিগ্রস্ত এসব মাছ চাষি সরকারি প্রণোদনা না পেলে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তারা। সবথেকে বেশি বিপদে রয়েছেন ব্যাংক ঋণ নিয়ে খামার করা মৌসুমি মাছ চাষিরা

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় গংগাচড়ায় ৪৮টি পুকুরের ৪ দশমিক ৬২ মেট্রিক টন মাছ ভেসে গেছে। যার মূল্য মৎস্য বিভাগ নির্ধারণ করেছে ৭ লাখ দুই হাজার টাকা। একইসঙ্গে অবকাঠামোগত ক্ষতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সব মিলে ওই উপজেলায় ক্ষতি হয়েছে ৮ লাখ ৬ হাজার টাকা।

একইভাবে কাউনিয়া উপজেলায় ৪৩টি পুকুরের ৪ দশমিক ১৩ মেট্রিকটন মাছ ভেসে গেছে। সব মিলিয়ে ক্ষতি ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯ হাজার টাকা। আর পীরগাছা উপজেলায় ৩৮টি পুকুরের ৩ দশমিক ৮৫ মেট্রিক টন মাছ ভেসে গেছে। মোট ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

জেলা মৎস অফিস জানিয়েছে, এই বন্যায় জেলায় ১২৯টি পুকুরের ১২ দশমিক ৬ মেট্রিক টন মাছ ভেসে গেছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য ২৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার দেউতি সুন্দর গ্রামের মাছ চাষি তৈয়বুর রহমান তুষার জানান, বন্যায় তার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। প্রতি কোরবানির ঈদে তিনি প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেন। কিন্তু এবার এক টাকাও মাছ বিক্রি করতে পারেননি।

তিনি বলেন, ব্যাংক ঋণ করে প্রায় ২৫ লাখ টাকার মাছ চাষ করেছি। এর মধ্যে বেশিরভাগ মাছই পানিতে ভেসে গেছে। সরকার প্রণোদনা না দিলে ব্যাংক ঋণ শোধ করা সম্ভব নয়।

একই কথা বলেন গংগা চড়া উপজেলার নোহালি ইউনিয়নের সমশের আলী। তিনি বলেন, মাছের খামার দিয়েই স্বপ্ন দেখছিলাম। কিন্তু সেই স্বপ্ন তছনছ হয়ে গেছে বন্যায়।

রংপুর জেলা মৎস কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র বিশ্বাস ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করেছি।