ঢাকা ০২:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসীর চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়ালেন ছাত্রদল নেতা নিরাপত্তা যেন দূরে ঠেলে না দেয় : প্রধানমন্ত্রী ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার উদ্বোধন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস এই সপ্তাহে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের জন্য যা থাকছে সংসদে প্রবেশের সময় মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্ত করায় স্পিকারকে মোবারকবাদ মুহিউদ্দীনের শাকিরার প্রেম-বিচ্ছেদের গল্প শিক্ষা খাতে ৮৩ হাজারো মামলার জটে আটকা শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

নেক আমলে প্রতিযোগিতা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:১৪:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৫
  • ৪১০ বার

নেক বা ভালো কাজে প্রতিযোগিতা প্রিয় ও প্রশংসনীয়। কোরআন হাদিসে নেক কাজে তড়িঘরি করার প্রতি তাগিদ করা হয়েছে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘সৎ কাজে অপর থেকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করো।’ কেউ ইবাদত করছে, গোনাহ থেকে বেঁচে থাকছে, তার দেখাদেখি নিজেও এসব গুণ অর্জনের চেষ্টা থাকা উচিত। আমাদের সমাজে হয়েছে এর উল্টোটা। আমরা কার চেয়ে কে বেশি টাকা-পয়সা, ধন-সম্পদ কামাই করবো তা নিয়ে প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। ইসলামে এটাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

ইসলামের কঠিনতম একটি জিহাদ তাবুক। অসম এই যুদ্ধে যখন সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান করলেন রাসুল সা.। তখন আবু বকর রা. আর ওমর রা.-এর মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়েছিল কে বেশি দান করতে পারেন। শেষ পর্যন্ত আবু বকর রা.-ই নিজের সবকিছু দান করে দিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। এভাবে বিভিন্ন ভালো কাজে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে প্রতিযোগিতা হতো। রাসুল সা. বলেন, ‘দুনিয়ার ব্যাপারে তোমরা তোমাদের নিচের মানুষদের প্রতি তাকাবে। তোমাদের চেয়ে ধনেজনে যারা নীচু তাদের সঙ্গে ওঠাবসা করবে। আর দ্বীনের ব্যাপারে তোমরা ওঠাবসা করবে বড়দের সঙ্গে। যারা তোমাদের চেয়ে অগ্রসর তাদের সান্নিধ্য গ্রহণ করবে।’ কারণ দুনিয়ার ব্যাপারে যত ওপরে তাকাবে ততই মানুষ অশান্তিতে ভুগবে। এজন্য ইসলামের প্রেসক্রিপশন হলো, সব সময় নিজের থেকে নিচের লোকদের দিকে তাকাতে হবে। তবে ভালো ও নেক কাজের প্রতিযোগিতায় উপরের দিকে তাকাতে হবে।

হাদিসে রাসুল সা. দরিদ্র হওয়ার আগেই দান-সদকা করার নির্দেশ দিয়েছেন। অসুস্থতা ও বার্ধক্যে পতিত হওয়ার আগেই সৎ কাজ করার কথা বলেছেন। মৃত্যুর আগেই নিজেকে গোনাহমুক্ত করার প্রতি তাগিদ দিয়েছেন। কারণ কারো এ কথা জানা নেই, কার জীবনের সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। কে কখন কিভাবে চলে যেতে হবে তা অজানা। এজন্য পরকালীন জীবনের পুঁজি এখনই অর্জন করা দরকার। আর এরজন্য প্রয়োজন প্রতিযোগিতা। সৎ ও উত্তম কাজের প্রতিযোগিতা থাকলে জীবনকে সুন্দরভাবে সাজানো সম্ভব হয়। যারা জীবনে সফল হয়েছেন তাদের সবাই সৎ কাজের প্রতিযোগিতায় নিজেদের বিজয়ী করেছেন। মূলত নেক কাজের কোনো নির্দিষ্ট সীমা ও পরিম-ল নেই। ইচ্ছে থাকলে প্রতিটি মুহূর্তেই নেক কাজে অংশ নেয়া যায়। এজন্য সবার উচিত নেক কাজে প্রতিযোগিতা করা। বৈষয়িকতায় পেছনে নিজেকে সমর্পিত করে না দেয়া।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

নেক আমলে প্রতিযোগিতা

আপডেট টাইম : ০১:১৪:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৫

নেক বা ভালো কাজে প্রতিযোগিতা প্রিয় ও প্রশংসনীয়। কোরআন হাদিসে নেক কাজে তড়িঘরি করার প্রতি তাগিদ করা হয়েছে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘সৎ কাজে অপর থেকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করো।’ কেউ ইবাদত করছে, গোনাহ থেকে বেঁচে থাকছে, তার দেখাদেখি নিজেও এসব গুণ অর্জনের চেষ্টা থাকা উচিত। আমাদের সমাজে হয়েছে এর উল্টোটা। আমরা কার চেয়ে কে বেশি টাকা-পয়সা, ধন-সম্পদ কামাই করবো তা নিয়ে প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। ইসলামে এটাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

ইসলামের কঠিনতম একটি জিহাদ তাবুক। অসম এই যুদ্ধে যখন সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান করলেন রাসুল সা.। তখন আবু বকর রা. আর ওমর রা.-এর মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়েছিল কে বেশি দান করতে পারেন। শেষ পর্যন্ত আবু বকর রা.-ই নিজের সবকিছু দান করে দিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। এভাবে বিভিন্ন ভালো কাজে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে প্রতিযোগিতা হতো। রাসুল সা. বলেন, ‘দুনিয়ার ব্যাপারে তোমরা তোমাদের নিচের মানুষদের প্রতি তাকাবে। তোমাদের চেয়ে ধনেজনে যারা নীচু তাদের সঙ্গে ওঠাবসা করবে। আর দ্বীনের ব্যাপারে তোমরা ওঠাবসা করবে বড়দের সঙ্গে। যারা তোমাদের চেয়ে অগ্রসর তাদের সান্নিধ্য গ্রহণ করবে।’ কারণ দুনিয়ার ব্যাপারে যত ওপরে তাকাবে ততই মানুষ অশান্তিতে ভুগবে। এজন্য ইসলামের প্রেসক্রিপশন হলো, সব সময় নিজের থেকে নিচের লোকদের দিকে তাকাতে হবে। তবে ভালো ও নেক কাজের প্রতিযোগিতায় উপরের দিকে তাকাতে হবে।

হাদিসে রাসুল সা. দরিদ্র হওয়ার আগেই দান-সদকা করার নির্দেশ দিয়েছেন। অসুস্থতা ও বার্ধক্যে পতিত হওয়ার আগেই সৎ কাজ করার কথা বলেছেন। মৃত্যুর আগেই নিজেকে গোনাহমুক্ত করার প্রতি তাগিদ দিয়েছেন। কারণ কারো এ কথা জানা নেই, কার জীবনের সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। কে কখন কিভাবে চলে যেতে হবে তা অজানা। এজন্য পরকালীন জীবনের পুঁজি এখনই অর্জন করা দরকার। আর এরজন্য প্রয়োজন প্রতিযোগিতা। সৎ ও উত্তম কাজের প্রতিযোগিতা থাকলে জীবনকে সুন্দরভাবে সাজানো সম্ভব হয়। যারা জীবনে সফল হয়েছেন তাদের সবাই সৎ কাজের প্রতিযোগিতায় নিজেদের বিজয়ী করেছেন। মূলত নেক কাজের কোনো নির্দিষ্ট সীমা ও পরিম-ল নেই। ইচ্ছে থাকলে প্রতিটি মুহূর্তেই নেক কাজে অংশ নেয়া যায়। এজন্য সবার উচিত নেক কাজে প্রতিযোগিতা করা। বৈষয়িকতায় পেছনে নিজেকে সমর্পিত করে না দেয়া।