ঢাকা ০৬:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির তালিকায় ‘আওয়ামী লীগ নেত্রী’—সুবর্ণাকে ঘিরে বিতর্ক

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:১৪:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • ০ বার

Oplus_16908288

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় স্থান পাওয়া এক নারীকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে তুমুল আলোচনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বইছে সমালোচনার ঝড়।

বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা সুবর্ণা শিকদার (ঠাকুর) গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। অথচ বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না; এমনকি কমিটিতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল তার অনুমতি ছাড়াই।

জানা যায়, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে ২৭ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত করা হয় সুবর্ণা ঠাকুরের নাম। তালিকাটি গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক স্বাক্ষরিত।

অন্যদিকে, সোমবার বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর নাম প্রকাশ করে। এতে ২০ নম্বরে রয়েছে সুবর্ণা শিকদারের নাম। তালিকা প্রকাশের পরপরই রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে সুবর্ণা ঠাকুর গণমাধ্যমকে বলেন, “আওয়ামী লীগের কমিটিতে আমার নাম ছিল না আমার ইচ্ছায়। অনুমতি ছাড়াই আমাকে পদ দেওয়া হয়েছিল। আমি কখনোই আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না।”

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও তথ্য-উপাত্তে আওয়ামী লীগের নানা কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণের দৃশ্য দেখা যাওয়ায় তার এই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

এদিকে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের এক সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সুবর্ণা ঠাকুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল পদে ছিলেন। এখন তা অস্বীকার করা সঠিক নয়। রাজনৈতিক সুবিধা লাভের জন্য তিনি অবস্থান পরিবর্তন করছেন।”

উল্লেখ্য, সুবর্ণা ঠাকুর মতুয়া সম্প্রদায়ের একজন সদস্য এবং ওড়াকান্দির হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের বংশধর। তিনি পেশায় একজন শিক্ষক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির তালিকায় ‘আওয়ামী লীগ নেত্রী’—সুবর্ণাকে ঘিরে বিতর্ক

আপডেট টাইম : ০৬:১৪:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় স্থান পাওয়া এক নারীকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে তুমুল আলোচনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বইছে সমালোচনার ঝড়।

বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা সুবর্ণা শিকদার (ঠাকুর) গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। অথচ বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না; এমনকি কমিটিতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল তার অনুমতি ছাড়াই।

জানা যায়, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে ২৭ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত করা হয় সুবর্ণা ঠাকুরের নাম। তালিকাটি গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক স্বাক্ষরিত।

অন্যদিকে, সোমবার বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর নাম প্রকাশ করে। এতে ২০ নম্বরে রয়েছে সুবর্ণা শিকদারের নাম। তালিকা প্রকাশের পরপরই রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে সুবর্ণা ঠাকুর গণমাধ্যমকে বলেন, “আওয়ামী লীগের কমিটিতে আমার নাম ছিল না আমার ইচ্ছায়। অনুমতি ছাড়াই আমাকে পদ দেওয়া হয়েছিল। আমি কখনোই আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না।”

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও তথ্য-উপাত্তে আওয়ামী লীগের নানা কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণের দৃশ্য দেখা যাওয়ায় তার এই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

এদিকে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের এক সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সুবর্ণা ঠাকুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল পদে ছিলেন। এখন তা অস্বীকার করা সঠিক নয়। রাজনৈতিক সুবিধা লাভের জন্য তিনি অবস্থান পরিবর্তন করছেন।”

উল্লেখ্য, সুবর্ণা ঠাকুর মতুয়া সম্প্রদায়ের একজন সদস্য এবং ওড়াকান্দির হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের বংশধর। তিনি পেশায় একজন শিক্ষক।