ঢাকা ০২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ইটনায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্র্যাক সদস্যদের মাঝে হাঁসের বাচ্চা ও সবজি বীজ বিতরণ তালবাহানায় আটকে গভর্নিং বডি নির্বাচন, প্রশ্নের মুখে আইডিয়াল কর্তৃপক্ষ অবহেলায় অনেক স্কুলের অবকাঠামোর বেহাল দশা: জুবাইদা রহমান গ্লোবাল পিস ইনডেক্স ২০২৬ দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ শান্তিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করা হবে পুরস্কারের গাড়ি মাকে উপহার দেবেন তাওহীদ হৃদয় ইসলামী ব্যাংকে নতুন প্রশাসক নিয়োগ জিয়াউর রহমানের জীবন ও দর্শন নিয়ে গবেষণার আহ্বান ফখরুলের পাখির চোখে সীমান্ত পাহারার ছক, কঠোর নজরদারি বাড়াচ্ছে সরকার বেনজীরের গ্রেপ্তারের খবরে আনন্দিত পরীমণি

কিশোরগঞ্জ জেলার সাড়ে ৩শ’ বছরের প্রাচীন এগারসিন্দুরের শাহ মাহমুদ মসজিদ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:১৩:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২০
  • ৩৭৮ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ প্রায় সাড়ে ৩শ’ বছরের পুরনো কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর গ্রামের শেখ শাহ মাহমুদ মসজিদটি অপূর্ব স্থাপত্য শৈলীর এক অনুপম নিদর্শন। এই মসজিদটি নির্র্মিত হয়েছিল ১৬৮০ খ্রিস্টাব্দে সুবেদার শায়েস্তা খাঁ’র আমলে।

জনশ্রুতি রয়েছে, মসজিদটি নির্মাণ করেছেন  এগারসিন্দুরের প্রখ্যাত ধনাঢ্য বণিক শেখ মাহমুদ। মোঘল আমলের শিল্পরীতি ও স্থানীয় শিল্পরীতির সমন্বয়ে নিপুণ কারিগরের দক্ষতায় এ মসজিদটি হয়ে ওঠে নান্দনিক অপূর্ব।

এগারসিন্দুর গ্রামটির রয়েছে ঐতিহাসিক তাৎপর্য। বার ভূঁইয়ার প্রধান বীর ঈশাখাঁর দুর্গ ছিল এখানে। ঈশাখাঁ ও মোঘল সেনাপতি মানসিংহের মধ্যে ঐতিহাসিক যুদ্ধও হয়েছিল দুর্গ সংলগ্ন পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে।

বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় লাল মাটির এ অঞ্চলটি প্রাচীনতম। তার নিদর্শনও রয়েছে। এগারসিন্দুর গ্রামে একাধিক প্রাচীন সমাধি রয়েছে।

এই গ্রামের কাছাকাছি দু’টি প্রাচীন মসজিদের মধ্যে স্থাপত্য শৈলীর একটি হল শাহ মাহমুদ মসজিদ। এ সৌন্দর্য ও তাৎপর্য ভিন্নমাত্রার দাবিদার, মুসলিম স্থাপত্য শিল্পের উজ্জল নিদর্শন।

মসজিদের পথেই রয়েছে জোড় প্যাটার্নের বাংলো। এ মসজিদের পুরাকীর্তি সবার নজর কাড়ে। বর্গাকৃতি মসজিদের প্রতি বাহুর দৈর্ঘ্য ৩২ ফুট।

এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদের চার কোণায় আট কোণাকৃতির বুরুজ রয়েছে। এতে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে মসজিদের সৌন্দর্য।

পূর্ব দেয়ালে ৩টি দরজা (প্রবেশ পথ) রয়েছে। তার মধ্যে মাঝেরটি অপেক্ষাকৃত একটু বড়। উত্তর ও দক্ষিণে রয়েছে একটি করে দরজা (প্রবেশ পথ)।

ঝাজদী নকশায় অন্ধকুলঙ্গির পোড়ামাটির চিত্রফলক মসজিদের ভেতর ও বাইরের সৌন্দর্যকে বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।

পূর্ব দিকে রয়েছে প্রশস্ত প্রাঙ্গণ। প্রাঙ্গণের পূর্বদিকে ঠিক মাঝে রয়েছে জোড় বাংলো প্যাটার্নে নির্মিত বালাখানা। এ মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মাহমুদের উত্তরসুরিরা বসবাস করেছেন মসজিদের পাশেই।

স্থানীয়রা জানান, মসজিদের চার কোণায় চারটি মূল্যবান প্রস্তর ফলক ছিল। যা বর্তমানে নেই। কে বা কারা সরিয়ে নিয়েছে এগুলো।

মোঘল আমলের চারটি প্রাচীন মসজিদ রয়েছে পাকুন্দিয়া উপজেলায়। তার দু’টিই অবস্থিত এগারসিন্দুর গ্রামে। অপর মসজিদটির নাম শেখ সাদী মসজিদ। যা শাহ মাহমুদ মসজিদ থেকে প্রায় ২৫০ মিটার দূরত্বে অবস্থিত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ইটনায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্র্যাক সদস্যদের মাঝে হাঁসের বাচ্চা ও সবজি বীজ বিতরণ

কিশোরগঞ্জ জেলার সাড়ে ৩শ’ বছরের প্রাচীন এগারসিন্দুরের শাহ মাহমুদ মসজিদ

আপডেট টাইম : ০৪:১৩:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২০

হাওর বার্তা ডেস্কঃ প্রায় সাড়ে ৩শ’ বছরের পুরনো কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর গ্রামের শেখ শাহ মাহমুদ মসজিদটি অপূর্ব স্থাপত্য শৈলীর এক অনুপম নিদর্শন। এই মসজিদটি নির্র্মিত হয়েছিল ১৬৮০ খ্রিস্টাব্দে সুবেদার শায়েস্তা খাঁ’র আমলে।

জনশ্রুতি রয়েছে, মসজিদটি নির্মাণ করেছেন  এগারসিন্দুরের প্রখ্যাত ধনাঢ্য বণিক শেখ মাহমুদ। মোঘল আমলের শিল্পরীতি ও স্থানীয় শিল্পরীতির সমন্বয়ে নিপুণ কারিগরের দক্ষতায় এ মসজিদটি হয়ে ওঠে নান্দনিক অপূর্ব।

এগারসিন্দুর গ্রামটির রয়েছে ঐতিহাসিক তাৎপর্য। বার ভূঁইয়ার প্রধান বীর ঈশাখাঁর দুর্গ ছিল এখানে। ঈশাখাঁ ও মোঘল সেনাপতি মানসিংহের মধ্যে ঐতিহাসিক যুদ্ধও হয়েছিল দুর্গ সংলগ্ন পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে।

বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় লাল মাটির এ অঞ্চলটি প্রাচীনতম। তার নিদর্শনও রয়েছে। এগারসিন্দুর গ্রামে একাধিক প্রাচীন সমাধি রয়েছে।

এই গ্রামের কাছাকাছি দু’টি প্রাচীন মসজিদের মধ্যে স্থাপত্য শৈলীর একটি হল শাহ মাহমুদ মসজিদ। এ সৌন্দর্য ও তাৎপর্য ভিন্নমাত্রার দাবিদার, মুসলিম স্থাপত্য শিল্পের উজ্জল নিদর্শন।

মসজিদের পথেই রয়েছে জোড় প্যাটার্নের বাংলো। এ মসজিদের পুরাকীর্তি সবার নজর কাড়ে। বর্গাকৃতি মসজিদের প্রতি বাহুর দৈর্ঘ্য ৩২ ফুট।

এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদের চার কোণায় আট কোণাকৃতির বুরুজ রয়েছে। এতে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে মসজিদের সৌন্দর্য।

পূর্ব দেয়ালে ৩টি দরজা (প্রবেশ পথ) রয়েছে। তার মধ্যে মাঝেরটি অপেক্ষাকৃত একটু বড়। উত্তর ও দক্ষিণে রয়েছে একটি করে দরজা (প্রবেশ পথ)।

ঝাজদী নকশায় অন্ধকুলঙ্গির পোড়ামাটির চিত্রফলক মসজিদের ভেতর ও বাইরের সৌন্দর্যকে বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।

পূর্ব দিকে রয়েছে প্রশস্ত প্রাঙ্গণ। প্রাঙ্গণের পূর্বদিকে ঠিক মাঝে রয়েছে জোড় বাংলো প্যাটার্নে নির্মিত বালাখানা। এ মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মাহমুদের উত্তরসুরিরা বসবাস করেছেন মসজিদের পাশেই।

স্থানীয়রা জানান, মসজিদের চার কোণায় চারটি মূল্যবান প্রস্তর ফলক ছিল। যা বর্তমানে নেই। কে বা কারা সরিয়ে নিয়েছে এগুলো।

মোঘল আমলের চারটি প্রাচীন মসজিদ রয়েছে পাকুন্দিয়া উপজেলায়। তার দু’টিই অবস্থিত এগারসিন্দুর গ্রামে। অপর মসজিদটির নাম শেখ সাদী মসজিদ। যা শাহ মাহমুদ মসজিদ থেকে প্রায় ২৫০ মিটার দূরত্বে অবস্থিত।