ঢাকা ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালামকে কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার সংবর্ধনা প্রধানমন্ত্রীর চার বিশেষ সহকারী নিয়োগ “ছোট ভাইয়ের জন্মদিনে বড় ভাইয়ের হৃদয়ছোঁয়া স্মৃতিচারণ—প্রবাসে থেকেও অটুট আত্মার বন্ধন” মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ: রাজনীতি ও শিল্পে সফলতার অনন্য দৃষ্টান্ত ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্তে ডিএমপির কড়াকড়ি, না সরালে আইনি ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন পে-স্কেল নিয়ে যা বললেন অর্থ উপদেষ্টা গুমের সঙ্গে জড়িত কেউ আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে পারবে না: আইনমন্ত্রী পাইলটকে উদ্ধারে মার্কিন অভিযান পুরোপুরি ব্যর্থ: ইরান স্পিকারের সহধর্মিণীর রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়ে সংবিধানের সমালোচনাকারীরা স্ব-বিরোধিতায় ভুগছেন

পদ্মা সেতুর কর্মযজ্ঞ দেখতে মানুষের ঢল

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:২৩:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ জুন ২০১৯
  • ২৮৪ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ আস্তে আস্তে প্রমত্তা পদ্মার বুকে জেগে উঠছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। ইতোমধ্যে সেতুর ১৯৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে। প্রথম স্প্যান বসানোর পর থেকেই মানুষের আগ্রহ বাড়তে থাকে সেতুটিকে ঘিরে।

ঈদের ছুটিতে অনেকে ছুটে যাচ্ছেন ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতু নির্মাণের কর্মযজ্ঞ দেখতে। সেতু দেখতে পদ্মা সেতুর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে প্রতিদিনই ঢল নামছে মানুষের।

বৃহস্পতিবার ঈদের দ্বিতীয় দিনে বৈরী আবহাওয়া না থাকায় পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে দূর দূরান্ত থেকে হাজার মানুষ আসেন পদ্মা সেতুর পাড়ে। হাজারো মানুষের পদচারণায় নদী তীর মিলনমেলায় পরিণত হয়।

বৃহস্পতিবার বিকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাওয়া কুমারভোগ ফেরিঘাট থেকে পুরাতন ফেরিঘাট পর্যন্ত নদী তীরজুড়ে বিভিন্ন বয়সী হাজার হাজার মানুষের ঢল। স্থানীয়দের পাশাপাশি ঢাকা, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও মানুষ আসেন। সব বয়সী মানুষ ধূসর রংয়ের নির্মাণাধীন পদ্মা সেতু দেখে অভিভূত হন।

দর্শানার্থীদের অনেকে ট্রলার ও স্টিডবোটে করে মাঝনদীতে ঘুরে বেড়ান আর পদ্মাসেতুর দৃশ্য অবলোকন করেন। আবার অনেকে দূর থেকেই নির্মাণাধীন সেতুকে ফ্রেমেবন্দী করতে ছবি তোলায় ব্যস্ত থাকেন। কেউ সেতুর ছবি তুলছেন আবার কেউ সেলফি তোলায় ব্যস্ত সময় পার করেন। অনেকে নদীর বেলাভূমিতে হেঁটে সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।

কুমিল্লার লাকসাম থেকে আসা আহসানউল্লাহ ভূইয়া জানান, ‘অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল পদ্মা সেতু এলাকায় আসার। এবার ঈদের ছুটিতে সেই সুযোগটা মিস করতে চাইনি। তার গাড়ি নিয়ে পরিবারের সবাই সেতু দেখতে চলে এসেছি।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহারিয়ার আলম জানান, ‘আমরা ছয় বন্ধু নির্মাণাধীন পদ্মসেতু দেখতে এসেছি। পদ্মা সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়, আমাদের চোখের সামনে দৃশ্যমান। পদ্মার হিমেল হওয়ার সঙ্গে কাছ থেকে সেতুকে দেখে পেয়ে খুব ভালো লাগছে।’

ঢাকার শ্যামপুরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আফরোজা পারভীন জানান, ‘দূর সম্পর্কের এক আত্মীয় বাড়ি লৌহজংয়ে বেড়াতে এসেছি। পদ্মা সেতুর খবর প্রায় টিভি-পত্রিকায় দেখি। নিজ চোখে দেখতে তাই এখানে আসা।’

সেলিম আহমেদ নামে এক স্কুলশিক্ষক বলেন, স্প্যান বসানোর পর থেকে সেতুর নির্মাণকাজ দেখতে দুই ছেলেমেয়ে অনেকদিন ধরেই বায়না ধরেছে। তাদের আবদার মেটাতে স্বপ্নের সেতু দেখতে এসেছি। ভালোই লাগছে।

তাদের পাশেই থাকা কামাল জানান, পদ্মা সেতু বাংলাদেশের জন্য একটি ইতিহাস। ইতিহাসের সাক্ষী হতে আমিও দুই সন্তানকে নিয়ে দেখতে এসেছি।

ঈদের ছুতি থাকলেও থেমে নেই সেতুর নির্মাণকাজ। ‍দিনরাত অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন সেতু নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে দ্বিতলা বিশিষ্ট পদ্মাসেতুর ৪১টি স্প্যানের মধ্যে ১৩টি স্প্যান বসানো হয়েছে। গত ২৫মে ১৩তম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় সেতুর ১৯৫০ মিটার।

সূত্র- ঢাকাটাইমস

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালামকে কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার সংবর্ধনা

পদ্মা সেতুর কর্মযজ্ঞ দেখতে মানুষের ঢল

আপডেট টাইম : ১২:২৩:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ জুন ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ আস্তে আস্তে প্রমত্তা পদ্মার বুকে জেগে উঠছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। ইতোমধ্যে সেতুর ১৯৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে। প্রথম স্প্যান বসানোর পর থেকেই মানুষের আগ্রহ বাড়তে থাকে সেতুটিকে ঘিরে।

ঈদের ছুটিতে অনেকে ছুটে যাচ্ছেন ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতু নির্মাণের কর্মযজ্ঞ দেখতে। সেতু দেখতে পদ্মা সেতুর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে প্রতিদিনই ঢল নামছে মানুষের।

বৃহস্পতিবার ঈদের দ্বিতীয় দিনে বৈরী আবহাওয়া না থাকায় পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে দূর দূরান্ত থেকে হাজার মানুষ আসেন পদ্মা সেতুর পাড়ে। হাজারো মানুষের পদচারণায় নদী তীর মিলনমেলায় পরিণত হয়।

বৃহস্পতিবার বিকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাওয়া কুমারভোগ ফেরিঘাট থেকে পুরাতন ফেরিঘাট পর্যন্ত নদী তীরজুড়ে বিভিন্ন বয়সী হাজার হাজার মানুষের ঢল। স্থানীয়দের পাশাপাশি ঢাকা, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও মানুষ আসেন। সব বয়সী মানুষ ধূসর রংয়ের নির্মাণাধীন পদ্মা সেতু দেখে অভিভূত হন।

দর্শানার্থীদের অনেকে ট্রলার ও স্টিডবোটে করে মাঝনদীতে ঘুরে বেড়ান আর পদ্মাসেতুর দৃশ্য অবলোকন করেন। আবার অনেকে দূর থেকেই নির্মাণাধীন সেতুকে ফ্রেমেবন্দী করতে ছবি তোলায় ব্যস্ত থাকেন। কেউ সেতুর ছবি তুলছেন আবার কেউ সেলফি তোলায় ব্যস্ত সময় পার করেন। অনেকে নদীর বেলাভূমিতে হেঁটে সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।

কুমিল্লার লাকসাম থেকে আসা আহসানউল্লাহ ভূইয়া জানান, ‘অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল পদ্মা সেতু এলাকায় আসার। এবার ঈদের ছুটিতে সেই সুযোগটা মিস করতে চাইনি। তার গাড়ি নিয়ে পরিবারের সবাই সেতু দেখতে চলে এসেছি।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহারিয়ার আলম জানান, ‘আমরা ছয় বন্ধু নির্মাণাধীন পদ্মসেতু দেখতে এসেছি। পদ্মা সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়, আমাদের চোখের সামনে দৃশ্যমান। পদ্মার হিমেল হওয়ার সঙ্গে কাছ থেকে সেতুকে দেখে পেয়ে খুব ভালো লাগছে।’

ঢাকার শ্যামপুরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আফরোজা পারভীন জানান, ‘দূর সম্পর্কের এক আত্মীয় বাড়ি লৌহজংয়ে বেড়াতে এসেছি। পদ্মা সেতুর খবর প্রায় টিভি-পত্রিকায় দেখি। নিজ চোখে দেখতে তাই এখানে আসা।’

সেলিম আহমেদ নামে এক স্কুলশিক্ষক বলেন, স্প্যান বসানোর পর থেকে সেতুর নির্মাণকাজ দেখতে দুই ছেলেমেয়ে অনেকদিন ধরেই বায়না ধরেছে। তাদের আবদার মেটাতে স্বপ্নের সেতু দেখতে এসেছি। ভালোই লাগছে।

তাদের পাশেই থাকা কামাল জানান, পদ্মা সেতু বাংলাদেশের জন্য একটি ইতিহাস। ইতিহাসের সাক্ষী হতে আমিও দুই সন্তানকে নিয়ে দেখতে এসেছি।

ঈদের ছুতি থাকলেও থেমে নেই সেতুর নির্মাণকাজ। ‍দিনরাত অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন সেতু নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে দ্বিতলা বিশিষ্ট পদ্মাসেতুর ৪১টি স্প্যানের মধ্যে ১৩টি স্প্যান বসানো হয়েছে। গত ২৫মে ১৩তম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় সেতুর ১৯৫০ মিটার।

সূত্র- ঢাকাটাইমস