ঢাকা ১২:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্তে ডিএমপির কড়াকড়ি, না সরালে আইনি ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন পে-স্কেল নিয়ে যা বললেন অর্থ উপদেষ্টা গুমের সঙ্গে জড়িত কেউ আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে পারবে না: আইনমন্ত্রী পাইলটকে উদ্ধারে মার্কিন অভিযান পুরোপুরি ব্যর্থ: ইরান স্পিকারের সহধর্মিণীর রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়ে সংবিধানের সমালোচনাকারীরা স্ব-বিরোধিতায় ভুগছেন সংসদে আহত জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে আবেগঘন পরিবেশে প্রধানমন্ত্রী বাধ্যতামূলক অবসর-চাকরিচ্যুতির বিধান রেখে সরকারি চাকরি সংশোধন বিল পাস ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন পেলেন নোবেল ২০২৫ সালে ১১ লাখ ৩২ হাজার কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে: আরিফুল হক চৌধুরী

বাধ্যতামূলক অবসর-চাকরিচ্যুতির বিধান রেখে সরকারি চাকরি সংশোধন বিল পাস

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩০:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩ বার

সরকারি কর্মচারীদের জবাবদিহিতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়া সংযোজন করে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। আইনের মাধ্যমে ২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইন সংশোধন করে নতুন ধারা ৩৭ (ক) যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে জনসেবার কার্যক্রম ব্যাহতকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

আজ রবিবার জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী সংসদে এ সংক্রান্ত বিলটি উত্থাপন করেন এবং কণ্ঠভোটে এটি পাস হয়।

বিল অনুযায়ী, কোনও সরকারি কর্মচারী যদি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বৈধ নির্দেশ অমান্য করেন বা যৌক্তিক কারণ ছাড়া সরকারি নির্দেশনা ও পরিপত্র বাস্তবায়নে বাধা দেন, তাহলে তা ‘শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে। এ ছাড়া অনুমতি ছাড়া দলবদ্ধভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা বা অন্য কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়াও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

নতুন বিধানে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে পদাবনতি, বেতন গ্রেড হ্রাস, বাধ্যতামূলক অবসর কিংবা চাকরিচ্যুতির মতো কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিলটিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিসের জবাব ৭ কার্যদিবসের মধ্যে দিতে হবে।

জবাব সন্তোষজনক না হলে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে এবং কমিটিকে ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। বিশেষ ক্ষেত্রে একবারের জন্য অতিরিক্ত ৭ দিন সময় বাড়ানো যাবে।

গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে তদন্ত কমিটির সদস্যদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যৌক্তিক কারণ ছাড়া প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হলে তা তাদের পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (পিএমআইএস) ও সরকারি নথিতে ‘অদক্ষতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হবে, যা তাদের বিরুদ্ধে পৃথক শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কারণ হতে পারে।

বিল অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত কর্মচারী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। তবে, রাষ্ট্রপতির আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না, যদিও একই সময়ের মধ্যে পর্যালোচনার আবেদন করা যাবে।

বিলে উল্লেখ করা হয়, শৃঙ্খলাভঙ্গ দমন এবং রাষ্ট্রের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এই সংশোধন প্রয়োজনীয়। এ আইন কার্যকর হলে ২০২৫ সালের ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ’ এবং ‘সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ’ বাতিল হয়ে যাবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্তে ডিএমপির কড়াকড়ি, না সরালে আইনি ব্যবস্থা

বাধ্যতামূলক অবসর-চাকরিচ্যুতির বিধান রেখে সরকারি চাকরি সংশোধন বিল পাস

আপডেট টাইম : ১১:৩০:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

সরকারি কর্মচারীদের জবাবদিহিতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়া সংযোজন করে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। আইনের মাধ্যমে ২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইন সংশোধন করে নতুন ধারা ৩৭ (ক) যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে জনসেবার কার্যক্রম ব্যাহতকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

আজ রবিবার জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী সংসদে এ সংক্রান্ত বিলটি উত্থাপন করেন এবং কণ্ঠভোটে এটি পাস হয়।

বিল অনুযায়ী, কোনও সরকারি কর্মচারী যদি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বৈধ নির্দেশ অমান্য করেন বা যৌক্তিক কারণ ছাড়া সরকারি নির্দেশনা ও পরিপত্র বাস্তবায়নে বাধা দেন, তাহলে তা ‘শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে। এ ছাড়া অনুমতি ছাড়া দলবদ্ধভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা বা অন্য কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়াও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

নতুন বিধানে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে পদাবনতি, বেতন গ্রেড হ্রাস, বাধ্যতামূলক অবসর কিংবা চাকরিচ্যুতির মতো কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিলটিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিসের জবাব ৭ কার্যদিবসের মধ্যে দিতে হবে।

জবাব সন্তোষজনক না হলে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে এবং কমিটিকে ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। বিশেষ ক্ষেত্রে একবারের জন্য অতিরিক্ত ৭ দিন সময় বাড়ানো যাবে।

গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে তদন্ত কমিটির সদস্যদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যৌক্তিক কারণ ছাড়া প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হলে তা তাদের পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (পিএমআইএস) ও সরকারি নথিতে ‘অদক্ষতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হবে, যা তাদের বিরুদ্ধে পৃথক শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কারণ হতে পারে।

বিল অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত কর্মচারী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। তবে, রাষ্ট্রপতির আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না, যদিও একই সময়ের মধ্যে পর্যালোচনার আবেদন করা যাবে।

বিলে উল্লেখ করা হয়, শৃঙ্খলাভঙ্গ দমন এবং রাষ্ট্রের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এই সংশোধন প্রয়োজনীয়। এ আইন কার্যকর হলে ২০২৫ সালের ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ’ এবং ‘সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ’ বাতিল হয়ে যাবে।