ঢাকা ০৪:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

৫২ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় ফলের উৎপাদন কাপ্তাইয়ে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:৩৩:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০১৫
  • ১১২৮ বার

কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে দেশ থেকে বিলুপ্ত প্রায় ৫২ প্রজাতির ফলের গাছ সংরক্ষণ ও উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

 

দেশীয় অনেক সুস্বাদু ফল ইতোমধ্যে সারাদেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেলেও কাপ্তাই রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে বিলুপ্ত প্রায় এসব ফলের একটি স্বতন্ত্র বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে এসব ফলের উৎপাদনের পাশাপাশি বিলুপ্ত ফল গাছের নতুন ও উন্নত জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে এসব গাছের চারা ও কলম সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হারুনুর রশীদ জানান, এক সময় বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে যেসব গ্রামীণ ফলজ বাগান ছিল এসব ফল এখন বিলুপ্তপ্রায়। দেশীয় ফল সংরক্ষণে এবং এসব ফলের নতুন নতুন জাত দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্র বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিলুপ্ত দেশীয় ফলের জাত সংরক্ষণে গবেষণা কেন্দ্রে প্রায় দুই একর জায়গা জুড়ে ৫২ প্রজাতির দেশীয় বিলুপ্ত প্রায় ফলের একটি বিশেষায়িত বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। এই বিলুপ্তপ্রায় ফলসমূহের মধ্যে রয়েছে অরবড়ই, সাদা করমচা, লাল করমচা, কদবেল, ফলসা ফল, পিচফল, বিলিম্বি, রামবুটান, এবোকেডো, গোলাপজাম, জাম, চালতা, আমলকী, কেওয়া, জিলাপী ফল ইত্যাদি।

 

সরেজমিন রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষায়িত বাগান পরিদর্শনে দেখা যায়, দীর্ঘ গবেষণা ও পরিচর্যার ফলে এই বাগানের গাছে গাছে এখন লাল করমচা, জিলাপী, পিচফল, বিলম্বি, রামবুটান, অরবড়ই, ফলসাফল, এবোকেডো ইত্যাদি প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় ফল ধরে আছে।

 

ড. হারুনুর রশীদ  বলেন, ‘দেশীয় বিলুপ্ত ফলগুলো আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ যা ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে। গ্রামে-গঞ্জে এখন আর জিলাপী ফল, লাল করমচা, বিলম্বি, গোলাপজাম ইত্যাদি দেখা যায় না। কিছু কিছু এলাকায় এসব ফলের উৎপাদন থাকলেও তা অতি নগন্য এবং এগুলোও ক্রমে বিলুপ্ত হচ্ছে। এর ফলে বর্তমান প্রজম্মের শিশুরা দেশীয় অনেক ফলের চেহারা দেখা দূরে থাক নামও জানেন। এই অবস্থায় বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় ফলের উৎপাদন ধরে রাখতে রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে ফলের বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। এসব ফলের উন্নত জাত উদ্ভাবন ও দেশব্যাপী এসব গাছের চারা, বীজ কলম ইত্যাদি ছড়িয়ে দিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ সফল হলে আমাদের গ্রামে গ্রামে কিংবা শহুরে বিত্তশালীদের বাড়ির বিলাসী আঙিনায় দেশীয় ফলের গাছ আবার শোভা বর্ধন করবে। আজকের আধুনিক শহুরে শিশুরাও এসব গ্রামীণ বিলুপ্তপ্রায় ফল ও এর স্বাদ সম্পর্কে জানতে পারবে। গবেষণা সাফল্য হিসেবে রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বাগানে এখন বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতীর বিলপ্তপ্রায় ফলের উৎপাদন দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ ভিড় করছে।’

 

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

৫২ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় ফলের উৎপাদন কাপ্তাইয়ে

আপডেট টাইম : ০৩:৩৩:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০১৫

কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে দেশ থেকে বিলুপ্ত প্রায় ৫২ প্রজাতির ফলের গাছ সংরক্ষণ ও উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

 

দেশীয় অনেক সুস্বাদু ফল ইতোমধ্যে সারাদেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেলেও কাপ্তাই রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে বিলুপ্ত প্রায় এসব ফলের একটি স্বতন্ত্র বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে এসব ফলের উৎপাদনের পাশাপাশি বিলুপ্ত ফল গাছের নতুন ও উন্নত জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে এসব গাছের চারা ও কলম সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হারুনুর রশীদ জানান, এক সময় বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে যেসব গ্রামীণ ফলজ বাগান ছিল এসব ফল এখন বিলুপ্তপ্রায়। দেশীয় ফল সংরক্ষণে এবং এসব ফলের নতুন নতুন জাত দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্র বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিলুপ্ত দেশীয় ফলের জাত সংরক্ষণে গবেষণা কেন্দ্রে প্রায় দুই একর জায়গা জুড়ে ৫২ প্রজাতির দেশীয় বিলুপ্ত প্রায় ফলের একটি বিশেষায়িত বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। এই বিলুপ্তপ্রায় ফলসমূহের মধ্যে রয়েছে অরবড়ই, সাদা করমচা, লাল করমচা, কদবেল, ফলসা ফল, পিচফল, বিলিম্বি, রামবুটান, এবোকেডো, গোলাপজাম, জাম, চালতা, আমলকী, কেওয়া, জিলাপী ফল ইত্যাদি।

 

সরেজমিন রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষায়িত বাগান পরিদর্শনে দেখা যায়, দীর্ঘ গবেষণা ও পরিচর্যার ফলে এই বাগানের গাছে গাছে এখন লাল করমচা, জিলাপী, পিচফল, বিলম্বি, রামবুটান, অরবড়ই, ফলসাফল, এবোকেডো ইত্যাদি প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় ফল ধরে আছে।

 

ড. হারুনুর রশীদ  বলেন, ‘দেশীয় বিলুপ্ত ফলগুলো আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ যা ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে। গ্রামে-গঞ্জে এখন আর জিলাপী ফল, লাল করমচা, বিলম্বি, গোলাপজাম ইত্যাদি দেখা যায় না। কিছু কিছু এলাকায় এসব ফলের উৎপাদন থাকলেও তা অতি নগন্য এবং এগুলোও ক্রমে বিলুপ্ত হচ্ছে। এর ফলে বর্তমান প্রজম্মের শিশুরা দেশীয় অনেক ফলের চেহারা দেখা দূরে থাক নামও জানেন। এই অবস্থায় বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় ফলের উৎপাদন ধরে রাখতে রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে ফলের বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। এসব ফলের উন্নত জাত উদ্ভাবন ও দেশব্যাপী এসব গাছের চারা, বীজ কলম ইত্যাদি ছড়িয়ে দিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ সফল হলে আমাদের গ্রামে গ্রামে কিংবা শহুরে বিত্তশালীদের বাড়ির বিলাসী আঙিনায় দেশীয় ফলের গাছ আবার শোভা বর্ধন করবে। আজকের আধুনিক শহুরে শিশুরাও এসব গ্রামীণ বিলুপ্তপ্রায় ফল ও এর স্বাদ সম্পর্কে জানতে পারবে। গবেষণা সাফল্য হিসেবে রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বাগানে এখন বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতীর বিলপ্তপ্রায় ফলের উৎপাদন দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ ভিড় করছে।’