,

উন্নয়নের নামে গণতন্ত্র ধ্বংস করছে সরকার

সীমিত গণতন্ত্র ও উন্নয়নের কথা বলে সরকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন। বলেছেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র মো. নাসিম মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো বাংলাদেশে সীমিত গণতন্ত্র চালুর কথা বলেছেন।  এটা অত্যন্ত ভয়াবহ ও স্বৈরশাসকের চিন্তাভাবনা। আমরা আশঙ্কা প্রকাশ করছিÑ সীমিত গণতন্ত্রের কথা বলে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলোকে আরও সংকোচিত করতে চায়। সরকারকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংসের চেষ্টা থেকে বিরত থেকে অধিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আজ বিকালে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। নাসিমের উদ্দেশে আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, মো. নাসিমের পিতা ৭৫ সালে বাকশালের সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিলেন। তাদের উত্তরসূরীদের মুখে যখন একই কথা শুনি তখন অবাক হই। তিনি বলেন, সীমিত গণতন্ত্রের কথা বলে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের উদাহরণ টেনেছেন মো. নাসিম। কিন্তু মালয়েশিয়ার স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট আর বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট এক নয়। সিঙ্গাপুরের জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা আর বাংলাদেশের জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা আলাদা। গণতান্ত্রিক চেতনা নিয়েই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। আমাদের দেশের মানুষ জেনেটিকলি গণতন্ত্রমনা। রিপন বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করে না বলেই কম গণতন্ত্রের কথা বলছেন।  কারণ গণতন্ত্র কখনও উন্নয়নের প্রতিপক্ষ নয়। সীমিত গণতন্ত্র নামে জনগণের সাংবিধানিক অধিকারকে আইনি কাঠামোতে এনে আরও সংকোচতি করতে চায় কিনা ১৪ দলীয় জোটের কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চান বিএনপির এই মুখপাত্র। ভারতের শিলংয়ে আটক বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতার ব্যাপারে জানতে চাইলে রিপন বলেন, সালাহউদ্দিন আহমেদের কাছে এখন কোন পাসপোর্ট নেই। এছাড়া তিনি অসুস্থ। তার পরিবার তাকে বাইরে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করার আবেদন জানিয়েছেন। সেক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা লাগবে। আমরা সরকারের সহযোগিতা চাই। তবে সহযোগিতার ব্যাপারে সরকারের কাছে আমরা এখনও কোন আবেদন করিনি। তিনি বলেন, সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী ভারত গেছেন। তিনি তার স্বামীর কাছে পৌঁছার পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি সহায়তার ব্যাপারে আমাদের জানাবেন। তারপর আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা কর্নেল (অব.) মো. শাহাজাহান, কাজী আসাদ, হাবিবুর রহমান হাবিব, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আসাদুল করিম শাহীন, শামসুল আলম তোফা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর