হাওর বার্তা ডেস্কঃ ইলিশের প্রজনন মৌসুম চলছে। এই সময়ে মা ইলিশ ধরা ও বিক্রির ওপর সরকার ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কিন্তু, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে যমুনা নদীর টাঙ্গাইল অংশে দেদারছে চলছে ইলিশ ধরা। শুধু তাই নয়, ঘাটে ঘাটে বসেছে হাট। সেখানেই সবার সামনে চলছে ধুম বিক্রি।
দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় যমুনার পাড় ও নদীতে প্রশাসনের তৎপরতা কম। এরই সুযোগ নিচ্ছেন মৌমুমি জেলেরা।
মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নদীতে মা ইলিশ ধরা বন্ধে ছোট-খাটো কিছু পদক্ষেপ নিলেও তা কার্যকরি কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না।
.jpg?resize=800%2C450&ssl=1)
জেলেদের দাবি, নৌ পুলিশ ও মৎস্য কর্মকর্তাদের টাকা দিয়ে তারা ইলিশ ধরছেন। ৭
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল থেকে যমুনার ভাটিতে নাগরপুরের ছলিমাবাদ পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার নদীতে ধরা হচ্ছে মা ইলিশ।
আর এগুলো বিক্রির জন্য ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল, গোবিন্দাসী, চর ভূঞাপুর, মাটিকাটা; কালিহাতী উপজেলার বঙ্গবন্ধু সেতু সংলগ্ন গড়িলা বাড়ি, বেলটিয়ার মুকতলা, আলীপুর; সদর উপজেলার চরপৌলী, কাকুয়ার চর, গয়না হোসেন, হুগড়া, বেগুনটাল, সাতানী হুগড়া, দক্ষিণ হুগড়া, দুলবাড়ি, আলোকদিয়া, চকগোপাল, খোসাইল, মামুদ নগর, বোয়ালকান্দি; নাগরপুর উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নের যমুনা পাড়ের চৌহালী এলাকার অন্তত ২৩টি পয়েন্টে হাট বসানো হয়েছে।
.jpg?resize=800%2C450&ssl=1)
তারা জানান, এর বাইরে মৎস্য সমিতির মাধ্যমে নৌকা প্রতি এক-দুই হাজার টাকা চাঁদা তুলে জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রভাবশালীদের দিতে হয়। তারাই ওপরমহল ম্যানেজ করেন।
যমুনা নদীতে মা ইলিশ ধরা ও বিক্রি বন্ধে মৎস্য বিভাগ এবং নৌ পুলিশ সীমিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা বন্ধে এখন পর্যন্ত ৫১টি মোবাইলকোর্ট পরিচালনা ও এলাকার ৬৫১টি বাজারে মৎস অধিদফতর অভিযান পরিচালনা করেছে।
এছাড়া ৯টি মাছ ঘাট, ৯৩১টি আড়ত, এক হাজার ৪৫০টি বাজার পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযানে ৪.১৬৩ মেট্রিক টন ইলিশ জব্দ করে এতিমখানা ও মাদ্রাসায় দেয়া হয়েছে। ৪ লাখ ১৯ হাজার ১২ মিটার জাল জব্দ করে আগুনে পুড়ানো হয়েছে।
এ সময়ে মা ইলিশ ধরার অভিযোগে ৫৭টি মামলা দায়ের ও ৮৯ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা আদায় এবং ৪০ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
কালিহাতীর গোহালিয়াবাড়ীর আফজালপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিককে জানান, আফজালপুর পুরো গ্রামটাই নদীর মধ্যে। এখানকার সব মানুষই মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। তারা কোনো সহায়তা পায়নি। সরকার আগে থেকে জেলেদের সহায়তা দিলে মা ইলিশ ধরা বন্ধ সহজ হতো।
টাঙ্গাইল অঞ্চলের নৌ-পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সহকারী পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির আকন্দ জানান, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা বন্ধে যমুনায় নৌ পুলিশের নিয়মিত অভিযান চলছে। অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারপরও চেষ্টা করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম সাংবাদিককে জানান, এ বছরই প্রথম যমুনা নদীকে ‘ইলিশ জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম বছর হওয়ায় নদীতে অবৈধভাবে জাল ফেলানো বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাওয়া যায়নি।
যমুনার ঘাটে ঘাটে ইলিশের হাট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে কিছু এলাকা দুর্গম হওয়ায় সেখানে ঠিকমতো অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
Reporter Name 
























