ঢাকা ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের স্বার্থবিরোধী একটি চক্র এখনো সুযোগের অপেক্ষায়: প্রধানমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৪:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ১ বার

দেশের স্বার্থবিরোধী একটি চক্র এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে এমন সতর্কবার্তা দিয়ে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা। আমাদের পথ ও মত ভিন্ন হতে পারে, বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্ক-বিরোধ থাকতে পারে, তবে তা যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়। কারণ বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী চক্র এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ, যুদ্ধাহত ও পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রামে যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতি জাতি চিরঋণী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় নেতাদের অবদান যথাযথ সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবে না। ঐতিহাসিক সত্য অস্বীকার করাকে তিনি হীনমন্যতার পরিচয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, চিকিৎসা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, পল্লী উন্নয়ন, সমাজসেবা ও জনপ্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়। চলতি বছর ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের জাতির গর্ব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জনগণের পক্ষ থেকে তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

বাংলাদেশের অর্জন ও চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার ৫৫ বছরে দেশ অনেক দূর এগিয়েছে। তবে এখনো অনেক অপূর্ণতা রয়ে গেছে। একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সম্মিলিতভাবে কাজ করার বিকল্প নেই।

সবশেষে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের আবারও অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে প্রয়াতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের এসব অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও স্বীকৃতি পাবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের স্বার্থবিরোধী একটি চক্র এখনো সুযোগের অপেক্ষায়: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ১১:১৪:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

দেশের স্বার্থবিরোধী একটি চক্র এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে এমন সতর্কবার্তা দিয়ে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা। আমাদের পথ ও মত ভিন্ন হতে পারে, বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্ক-বিরোধ থাকতে পারে, তবে তা যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়। কারণ বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী চক্র এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ, যুদ্ধাহত ও পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রামে যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতি জাতি চিরঋণী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় নেতাদের অবদান যথাযথ সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবে না। ঐতিহাসিক সত্য অস্বীকার করাকে তিনি হীনমন্যতার পরিচয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, চিকিৎসা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, পল্লী উন্নয়ন, সমাজসেবা ও জনপ্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়। চলতি বছর ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের জাতির গর্ব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জনগণের পক্ষ থেকে তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

বাংলাদেশের অর্জন ও চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার ৫৫ বছরে দেশ অনেক দূর এগিয়েছে। তবে এখনো অনেক অপূর্ণতা রয়ে গেছে। একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সম্মিলিতভাবে কাজ করার বিকল্প নেই।

সবশেষে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের আবারও অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে প্রয়াতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের এসব অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও স্বীকৃতি পাবে।