ঢাকা ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষার্থীদের ক্ষমার দাবী ভিসিদের, না বলে দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:১৩:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অগাস্ট ২০১৮
  • ৫৬৭ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবি ও সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা দেয়ার কথা জানিয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরা। আজ বুধবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর এ মতবিনিময় সভা হয়।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, মাফ করার প্রশ্ন এখানে নেই। আমরা কাউকে মুক্তি দেয়ার অধিকার রাখি না। কেউ বেআইনি কাজ করলে কে তাদের মাফ করবে? আমরা মাফ করার কে? বিষয়টি আইনি। যারা গুজব ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে নিষ্পাপ শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া যেতে পারে। এ রকম কেউ হয়রানির শিকার হলে তা দেখা যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রীও সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপারে সহানুভূতিশীল।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থী বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তারা সড়কে ছিলেন। কিন্তু তাদের ওপর বাস তুলে দিয়ে খুন করা হয়। আরও কয়েকজন আহত হন। ওই ঘটনার রেশ ধরে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আক্রান্ত হয়েছে। পঠন-পাঠন বিঘ্নিত হয়েছে। কয়েকটি বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা চাই না কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এক ঘণ্টার জন্য বন্ধ হোক।

এ সময় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বেনজির আহমেদ বলেন, সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। তবেই যে কোনো সমস্যা সহজেই মোকাবেলা সহজ হবে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে যেকোনো সমস্যায় অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।

সভায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম বলেন, ৬ আগস্ট নর্থ সাউথ ক্যাম্পাসের সামনে পুলিশ ও বহিরাগতদের সংঘর্ষে আহতরা অপ্রতাশিতভাবে ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নিরাপদে বের করে দেয়া হয়। পরে সংঘর্ষে নর্থ সাউথের কয়েকজন শিক্ষার্থী যোগ দেয়। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, কিন্তু রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক না থাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের গুজবের কারণে উপস্থিতি কম ছিল। পরে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করা হলে উপস্থিতি বাড়ে।

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির ভিসি আব্দুল মান্নান বলেন, শিক্ষার্থীরা যে কারণেই আন্দোলনে যুক্ত হোক না কেন তাদের সাধারণ ক্ষমা করা দরকার। পাশাপাশি যারা আটক রয়েছে তাদের মুক্তি দিতে শিক্ষামন্ত্রীকে অনুরোধ জানান তিনি।

প্রাইম এশিয়ার ভিসি আব্দুল হান্নান চৌধুরী বলেন, এ ধরনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ না করে ক্লাস চালু রাখতে হবে। যাতে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ব্যস্ত থাকে। যদি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করা হয় তবে আন্দোলন তীব্র হতে পারে। আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি ও অজ্ঞাতনামা মামলা জুড়ে না দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বলেন, শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যুক্ত হতে চাইলেও সঠিক বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেছি। যার কারণে আমাদের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বাইরে যায়নি। পুলিশের হাতে আটক হওয়া শিক্ষার্থীদের মুক্তির পাশাপাশি যারা প্রকৃতপক্ষে দোষী তাদের বিচার প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় উপস্থিত সবার পরামর্শ নোট করা হয়েছে। বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, সব গুজব থেকে শিক্ষকদের বিরত থাকতে হবে। শিক্ষার্থীরা যদি আন্দোলনে যুক্ত হতে চায় তবে তাদের সঠিক বিষয়টি বোঝাতে হবে। আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবি জানিয়ে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে সবাই এক হয়ে কাজ করা হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসইন, দেশের ১০৩টি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য, পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের ক্ষমার দাবী ভিসিদের, না বলে দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট টাইম : ১০:১৩:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অগাস্ট ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবি ও সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা দেয়ার কথা জানিয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরা। আজ বুধবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর এ মতবিনিময় সভা হয়।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, মাফ করার প্রশ্ন এখানে নেই। আমরা কাউকে মুক্তি দেয়ার অধিকার রাখি না। কেউ বেআইনি কাজ করলে কে তাদের মাফ করবে? আমরা মাফ করার কে? বিষয়টি আইনি। যারা গুজব ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে নিষ্পাপ শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া যেতে পারে। এ রকম কেউ হয়রানির শিকার হলে তা দেখা যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রীও সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপারে সহানুভূতিশীল।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থী বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তারা সড়কে ছিলেন। কিন্তু তাদের ওপর বাস তুলে দিয়ে খুন করা হয়। আরও কয়েকজন আহত হন। ওই ঘটনার রেশ ধরে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আক্রান্ত হয়েছে। পঠন-পাঠন বিঘ্নিত হয়েছে। কয়েকটি বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা চাই না কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এক ঘণ্টার জন্য বন্ধ হোক।

এ সময় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বেনজির আহমেদ বলেন, সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। তবেই যে কোনো সমস্যা সহজেই মোকাবেলা সহজ হবে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে যেকোনো সমস্যায় অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।

সভায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম বলেন, ৬ আগস্ট নর্থ সাউথ ক্যাম্পাসের সামনে পুলিশ ও বহিরাগতদের সংঘর্ষে আহতরা অপ্রতাশিতভাবে ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নিরাপদে বের করে দেয়া হয়। পরে সংঘর্ষে নর্থ সাউথের কয়েকজন শিক্ষার্থী যোগ দেয়। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, কিন্তু রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক না থাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের গুজবের কারণে উপস্থিতি কম ছিল। পরে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করা হলে উপস্থিতি বাড়ে।

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির ভিসি আব্দুল মান্নান বলেন, শিক্ষার্থীরা যে কারণেই আন্দোলনে যুক্ত হোক না কেন তাদের সাধারণ ক্ষমা করা দরকার। পাশাপাশি যারা আটক রয়েছে তাদের মুক্তি দিতে শিক্ষামন্ত্রীকে অনুরোধ জানান তিনি।

প্রাইম এশিয়ার ভিসি আব্দুল হান্নান চৌধুরী বলেন, এ ধরনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ না করে ক্লাস চালু রাখতে হবে। যাতে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ব্যস্ত থাকে। যদি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করা হয় তবে আন্দোলন তীব্র হতে পারে। আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি ও অজ্ঞাতনামা মামলা জুড়ে না দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বলেন, শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যুক্ত হতে চাইলেও সঠিক বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেছি। যার কারণে আমাদের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বাইরে যায়নি। পুলিশের হাতে আটক হওয়া শিক্ষার্থীদের মুক্তির পাশাপাশি যারা প্রকৃতপক্ষে দোষী তাদের বিচার প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় উপস্থিত সবার পরামর্শ নোট করা হয়েছে। বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, সব গুজব থেকে শিক্ষকদের বিরত থাকতে হবে। শিক্ষার্থীরা যদি আন্দোলনে যুক্ত হতে চায় তবে তাদের সঠিক বিষয়টি বোঝাতে হবে। আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবি জানিয়ে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে সবাই এক হয়ে কাজ করা হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসইন, দেশের ১০৩টি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য, পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।