ঢাকা ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
‘পূর্ণাঙ্গ বিজয় না আসা পর্যন্ত’ লড়াইয়ের ঘোষণা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উজ্জীবিত করে: রাষ্ট্রপতি ২৩ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৩৪৫০২ কোটি টাকা স্বাধীনতার গৌরবময় ইতিহাস সংরক্ষণ করা জরুরি : সংস্কৃতি মন্ত্রী ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ সরকারের সৎ মায়ের নির্যাতন, মা’র কবরের পাশে শিশুর কান্না ভাইরাল নতুন সিদ্ধান্ত, ১০ শনিবার খোলা থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন ৫ দিনের রিমান্ডে ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে প্রায় ১১ ঘণ্টা অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী ৭ দিনের অভিযান আসাদগেট-শ্যামলীতে সব ক্লিনিক পরিদর্শন, অনিয়মে ছাড় নয় : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

পৃথিবীর সৌন্দর্য উপভোগের একটি ক্ষেত্র নদ-নদী আল্লাহর বড় নেয়ামত

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:৫৮:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭
  • ১১১৫ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ আল্লাহ তায়ালার অপূর্ব সৃষ্টিসমূহের মধ্যে নদী অন্যতম। পৃথিবীর সৌন্দর্য উপভোগের একটি ক্ষেত্র নদনদী। শুধু পৃথিবীতে নয়, জান্নাতেও প্রবাহমান নদীর সৌন্দর্য অনুভব করা যাবে- যা কোরআনের বিভিন্ন আয়াত দ্বারা প্রমাণিত। নদীর বৈশিষ্ট্য উদারতা। নদী নিজেকে আল্লাহর সমুদয় সৃষ্টির জন্য বিলিয়ে দেয়। নদী-সাগরের তলদেশে হিরা-মুক্তোর অবস্থান। এ ছাড়াও মাছসহ বহু হালাল প্রাণীর জলাবাস রয়েছে। মানবজাতির ব্যবহারের পথে এসব নেয়ামত নদী কখনও বাধা হয় না। নদী নিজের গর্ভে ধারণকৃত পানি মানবজাতির কল্যাণে উৎসর্গ করে। এটাই তার উদারনীতি। তার বুকের ওপর দিয়ে টাইটানিকের মতো বিশাল বিশাল জাহাজ-স্টিমার চলতে সুযোগ করে দেয়। জেলেদের বারবার জাল দিয়ে মাছ কুড়িয়ে নেয়ার মধ্যে ক্লান্তবোধ করে না। বর্ষাকালে অতিবৃষ্টির পানি গেলে বন্যাকবলিত মানুষকে কষ্ট থেকে মুক্তি দেয়। এভাবে প্রাণহীন নদী-সাগর নিজের উদারতার পরিচয় দেয়।

১. কোরআনে নদীর নান্দনিক দৃশ্যের কথা

দূর থেকে নদীর দৃশ্যগুলো দেখতে খুব সুন্দর লাগে। নদীর উত্তাল ঢেউ বেলাভূমিতে আছড়ে পড়ার দৃশ্যটি আরও বেশি চমৎকার। নদীর জোয়ার-ভাটার অপরূপ দৃশ্য পর্যটককে মুগ্ধ করে। নদীর খেয়াঘাটে সারি সারি জাহাজ ও নৌকার মনোহারী চিত্র ভ্রমণকারীর অন্তর কাড়ে। নদীর এ নান্দনিক দৃশ্যের কথা কুরআনের একাধিক স্থানে উচ্চারিত হয়েছে। এ মর্মে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তিনি পাশাপাশি দুই দরিয়া প্রবাহিত করেছেন; উভয়ের মাঝখানে রয়েছে এক অন্তরাল, যা তারা অতিক্রম করে না; উভয় দরিয়া থেকে উৎপন্ন হয় মুক্তা ও প্রবাল; দরিয়ায় বিচরণশীল পর্বতদৃশ্য নৌযানসমূহ তাঁরই নিয়ন্ত্রণধীন; অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?’ (সূরা রাহমান, আয়াত : ১৯-২৫) মহানবী (সা.) যেসব খাবার পছন্দ করতেন

২. দুনিয়ার চারটি নদীর উৎস জান্নাতে

নদী মানবজাতির প্রতি আল্লাহর বেহেশতি উপহার স্বরূপ। নদীর অস্তিত্ব শুধু দুনিয়াতে নয়, বরং আখেরাতেও এর অস্তিত্ব রয়েছে। যা কোরআন-হাদিসের একাধিক বাণী দ্বারা প্রমাণিত। নদীকে প্রকৃতি ও পরিবেশের ধারাবাহিকতার সৃষ্টি বলে সাধারণ দৃষ্টিতে দেখলে হবে না। কারণ, নদী ও সাগরের এ বিশাল আবদ্ধ পানিকে সংরক্ষণ করছেন একমাত্র আল্লাহ। পৃথিবীর এক চতুর্থাংশ হচ্ছে স্থলভূমি আর বাকি তিন অংশ পানি। এ পৃথিবী নামের পানিজগতে মানবজাতিসহ সকল সৃষ্টিকে টিকিয়ে রাখছেন শুধু এক আল্লাহই। পৃথিবীর মানচিত্রে অবস্থিত চারটি নদীর মূল উৎস জান্নাত। এ মর্মে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘দুনিয়াতে কয়েকটি নদী আছে, যেগুলো জান্নাতেরও নদী বটে। সেগুলো হলো- সাইহান, জাইহান, ফুরাত ও নীল। (সহিহ মুসলিম : ৭৩৪০) আরও বলেন, ‘সিদরাতুল মুন্তাহার গোড়া থেকে জান্নাতের চারটি নদী প্রবাহিত হবে। সেগুলো হচ্ছে নীল, ফুরাত, সাইহান ও জাইহান।’ (প্রাগুক্ত)

৩. জান্নাত নদী দ্বারা সজ্জিত

জান্নাতকে আল্লাহ তায়ালা নদী দ্বারা সজ্জিত করেছেন। নদী জান্নাতের সৌন্দর্য রক্ষার এক মনোহর উপকরণ। এ জান্নাত মুমিন বান্দারা সৎ আমলের বিনিময় স্বরূপ পাবেন। আল্লাহ বিচিত্র নদনদী দ্বারা জান্নাতকে সাজিয়েছেন। এতে পানির নদী, দুধের নদী, সুরার নদী ও মধুর নদী রয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মুত্তাকিদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তার দৃষ্টান্ত তাতে আছে নির্মল পানির নদী, আছে দুধের নদী যার স্বাদ অপরিবর্তনীয়, আছে পানকারীদের জন্য সুস্বাদু সুরার নদী, আছে পরিশোধিত মধুর নদী এবং তথায় তাদের জন্য থাকবে বিবিধ ফল-মূল ও তাদের প্রতিপালকের ক্ষমা।’ (সূরা মুহাম্মদ, আয়াত : ১৫ )

৪. নদীতে মানবজাতির বহু নেয়ামত নিহিত

নদনদী ছাড়া মানবজাতির বেঁচে থাকা অসম্ভব। এর ওপর মানবজাতির অনেক কিছু নির্ভর করে। নদী-সাগর থেকে মানুষের প্রাত্যহিক ব্যবহার্য পানি পাওয়া নিশ্চিত থাকে। এ ছাড়া কৃষি কাজের জন্য পানি যোগানও নদী থেকে দেওয়া সম্ভব হয়। নদী মানুষের খাদ্য ও রোজগারের প্রধান উৎস হিসেবে ভূমিকা পালন করে। নদী-সাগরকে কেন্দ্র মানুষেরা খাদ্যোৎপাদন, মাছ শিকার, পণ্য পরিবহণ, ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদির কার্যকরী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল সৃষ্টিতে, দিন ও রাতের পবির্তনে, জাহাজসমূহের চলাচলে- যা মানুষের লাভজনক এবং সম্ভার নিয়ে সমুদ্রে চলাচল করে।’ (সূরা বাকারা, আয়াত : ১৬৪) আরও বলেন, ‘তোমাদের জন্যে সামুদ্রিক শিকার ধরা ও তা খাওয়া হালাল করা হয়েছে, তোমাদের ও মুসাফিদের জন্যে।’ (সূরা মায়েদা, আয়াত : ৯৬)

৫. কেয়ামতের দিন দুনিয়ার নদী বিস্ফোরিত হবে

ভয়াবহ পরিধি ও গভীরতার নদী-সাগর, যার অভ্যন্তরে রয়েছে বিচিত্র জীবজন্তুর মহাজগৎ- কেয়ামতের দিন এই সাগরে বিস্ফোরণ ঘটবে এবং তা থেকে ভয়াবহ আগুন জলে উঠবে। সাগরের উত্তাল ঢেউ পৃথিবীর অস্তিত্বকে ধ্বংস করে দিবে। বিভীষিকাময় পরিস্থিতি গড়ে তুলবে। সেই সময় কেয়ামতের ভয়ঙ্কর অবস্থা আরও প্রখর আকার ধারণ করবে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যখন সাগরকে বিস্ফোরিত করে দেওয়া হবে।’ (সূরা ইনফিতার, আয়াত : ৩) আরও বলেন, ‘এবং যখন সাগরসমূহকে উত্তাল করে তোলা হবে।’ (সূরা তাকভির, আয়াত : ৬)

লেখক : শিক্ষক, নাজিরহাট বড় মাদরাসা, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

‘পূর্ণাঙ্গ বিজয় না আসা পর্যন্ত’ লড়াইয়ের ঘোষণা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর

পৃথিবীর সৌন্দর্য উপভোগের একটি ক্ষেত্র নদ-নদী আল্লাহর বড় নেয়ামত

আপডেট টাইম : ০৬:৫৮:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ আল্লাহ তায়ালার অপূর্ব সৃষ্টিসমূহের মধ্যে নদী অন্যতম। পৃথিবীর সৌন্দর্য উপভোগের একটি ক্ষেত্র নদনদী। শুধু পৃথিবীতে নয়, জান্নাতেও প্রবাহমান নদীর সৌন্দর্য অনুভব করা যাবে- যা কোরআনের বিভিন্ন আয়াত দ্বারা প্রমাণিত। নদীর বৈশিষ্ট্য উদারতা। নদী নিজেকে আল্লাহর সমুদয় সৃষ্টির জন্য বিলিয়ে দেয়। নদী-সাগরের তলদেশে হিরা-মুক্তোর অবস্থান। এ ছাড়াও মাছসহ বহু হালাল প্রাণীর জলাবাস রয়েছে। মানবজাতির ব্যবহারের পথে এসব নেয়ামত নদী কখনও বাধা হয় না। নদী নিজের গর্ভে ধারণকৃত পানি মানবজাতির কল্যাণে উৎসর্গ করে। এটাই তার উদারনীতি। তার বুকের ওপর দিয়ে টাইটানিকের মতো বিশাল বিশাল জাহাজ-স্টিমার চলতে সুযোগ করে দেয়। জেলেদের বারবার জাল দিয়ে মাছ কুড়িয়ে নেয়ার মধ্যে ক্লান্তবোধ করে না। বর্ষাকালে অতিবৃষ্টির পানি গেলে বন্যাকবলিত মানুষকে কষ্ট থেকে মুক্তি দেয়। এভাবে প্রাণহীন নদী-সাগর নিজের উদারতার পরিচয় দেয়।

১. কোরআনে নদীর নান্দনিক দৃশ্যের কথা

দূর থেকে নদীর দৃশ্যগুলো দেখতে খুব সুন্দর লাগে। নদীর উত্তাল ঢেউ বেলাভূমিতে আছড়ে পড়ার দৃশ্যটি আরও বেশি চমৎকার। নদীর জোয়ার-ভাটার অপরূপ দৃশ্য পর্যটককে মুগ্ধ করে। নদীর খেয়াঘাটে সারি সারি জাহাজ ও নৌকার মনোহারী চিত্র ভ্রমণকারীর অন্তর কাড়ে। নদীর এ নান্দনিক দৃশ্যের কথা কুরআনের একাধিক স্থানে উচ্চারিত হয়েছে। এ মর্মে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তিনি পাশাপাশি দুই দরিয়া প্রবাহিত করেছেন; উভয়ের মাঝখানে রয়েছে এক অন্তরাল, যা তারা অতিক্রম করে না; উভয় দরিয়া থেকে উৎপন্ন হয় মুক্তা ও প্রবাল; দরিয়ায় বিচরণশীল পর্বতদৃশ্য নৌযানসমূহ তাঁরই নিয়ন্ত্রণধীন; অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?’ (সূরা রাহমান, আয়াত : ১৯-২৫) মহানবী (সা.) যেসব খাবার পছন্দ করতেন

২. দুনিয়ার চারটি নদীর উৎস জান্নাতে

নদী মানবজাতির প্রতি আল্লাহর বেহেশতি উপহার স্বরূপ। নদীর অস্তিত্ব শুধু দুনিয়াতে নয়, বরং আখেরাতেও এর অস্তিত্ব রয়েছে। যা কোরআন-হাদিসের একাধিক বাণী দ্বারা প্রমাণিত। নদীকে প্রকৃতি ও পরিবেশের ধারাবাহিকতার সৃষ্টি বলে সাধারণ দৃষ্টিতে দেখলে হবে না। কারণ, নদী ও সাগরের এ বিশাল আবদ্ধ পানিকে সংরক্ষণ করছেন একমাত্র আল্লাহ। পৃথিবীর এক চতুর্থাংশ হচ্ছে স্থলভূমি আর বাকি তিন অংশ পানি। এ পৃথিবী নামের পানিজগতে মানবজাতিসহ সকল সৃষ্টিকে টিকিয়ে রাখছেন শুধু এক আল্লাহই। পৃথিবীর মানচিত্রে অবস্থিত চারটি নদীর মূল উৎস জান্নাত। এ মর্মে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘দুনিয়াতে কয়েকটি নদী আছে, যেগুলো জান্নাতেরও নদী বটে। সেগুলো হলো- সাইহান, জাইহান, ফুরাত ও নীল। (সহিহ মুসলিম : ৭৩৪০) আরও বলেন, ‘সিদরাতুল মুন্তাহার গোড়া থেকে জান্নাতের চারটি নদী প্রবাহিত হবে। সেগুলো হচ্ছে নীল, ফুরাত, সাইহান ও জাইহান।’ (প্রাগুক্ত)

৩. জান্নাত নদী দ্বারা সজ্জিত

জান্নাতকে আল্লাহ তায়ালা নদী দ্বারা সজ্জিত করেছেন। নদী জান্নাতের সৌন্দর্য রক্ষার এক মনোহর উপকরণ। এ জান্নাত মুমিন বান্দারা সৎ আমলের বিনিময় স্বরূপ পাবেন। আল্লাহ বিচিত্র নদনদী দ্বারা জান্নাতকে সাজিয়েছেন। এতে পানির নদী, দুধের নদী, সুরার নদী ও মধুর নদী রয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মুত্তাকিদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তার দৃষ্টান্ত তাতে আছে নির্মল পানির নদী, আছে দুধের নদী যার স্বাদ অপরিবর্তনীয়, আছে পানকারীদের জন্য সুস্বাদু সুরার নদী, আছে পরিশোধিত মধুর নদী এবং তথায় তাদের জন্য থাকবে বিবিধ ফল-মূল ও তাদের প্রতিপালকের ক্ষমা।’ (সূরা মুহাম্মদ, আয়াত : ১৫ )

৪. নদীতে মানবজাতির বহু নেয়ামত নিহিত

নদনদী ছাড়া মানবজাতির বেঁচে থাকা অসম্ভব। এর ওপর মানবজাতির অনেক কিছু নির্ভর করে। নদী-সাগর থেকে মানুষের প্রাত্যহিক ব্যবহার্য পানি পাওয়া নিশ্চিত থাকে। এ ছাড়া কৃষি কাজের জন্য পানি যোগানও নদী থেকে দেওয়া সম্ভব হয়। নদী মানুষের খাদ্য ও রোজগারের প্রধান উৎস হিসেবে ভূমিকা পালন করে। নদী-সাগরকে কেন্দ্র মানুষেরা খাদ্যোৎপাদন, মাছ শিকার, পণ্য পরিবহণ, ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদির কার্যকরী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল সৃষ্টিতে, দিন ও রাতের পবির্তনে, জাহাজসমূহের চলাচলে- যা মানুষের লাভজনক এবং সম্ভার নিয়ে সমুদ্রে চলাচল করে।’ (সূরা বাকারা, আয়াত : ১৬৪) আরও বলেন, ‘তোমাদের জন্যে সামুদ্রিক শিকার ধরা ও তা খাওয়া হালাল করা হয়েছে, তোমাদের ও মুসাফিদের জন্যে।’ (সূরা মায়েদা, আয়াত : ৯৬)

৫. কেয়ামতের দিন দুনিয়ার নদী বিস্ফোরিত হবে

ভয়াবহ পরিধি ও গভীরতার নদী-সাগর, যার অভ্যন্তরে রয়েছে বিচিত্র জীবজন্তুর মহাজগৎ- কেয়ামতের দিন এই সাগরে বিস্ফোরণ ঘটবে এবং তা থেকে ভয়াবহ আগুন জলে উঠবে। সাগরের উত্তাল ঢেউ পৃথিবীর অস্তিত্বকে ধ্বংস করে দিবে। বিভীষিকাময় পরিস্থিতি গড়ে তুলবে। সেই সময় কেয়ামতের ভয়ঙ্কর অবস্থা আরও প্রখর আকার ধারণ করবে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যখন সাগরকে বিস্ফোরিত করে দেওয়া হবে।’ (সূরা ইনফিতার, আয়াত : ৩) আরও বলেন, ‘এবং যখন সাগরসমূহকে উত্তাল করে তোলা হবে।’ (সূরা তাকভির, আয়াত : ৬)

লেখক : শিক্ষক, নাজিরহাট বড় মাদরাসা, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম।