ঢাকা ১১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৫, ২৭ পৌষ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সংসদে ক্ষোভ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৫২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৭
  • ৩২৩ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ একের পর এক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। তিনি বলেছেন, প্রাথমিক পরীক্ষা থেকে সব পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। এরসঙ্গে শিক্ষকরা জড়িত। এসব কাজে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষামন্ত্রী কি ব্যবস্থা নেবেন তা জানতে চেয়ে সংসদে ৩০০ বিধিতে বিবৃতির দাবি করেন তিনি। গতকাল রাতে সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলের এই নেতা স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, আলোকবর্তিকা। কিন্তু দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কি করুণ অবস্থা সেটা কি আমাদের জানা আছে? প্রাথমিক পরীক্ষা থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কি হতে পারে। এটা হওয়ার কারণ কী ? এর কারণ হচ্ছে শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য চলছে। কোচিং সেন্টার, নোট বই জমজমাটভাবে চলছে। তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তরের একজন ছাত্র যদি নকল করা শেখে তবে তারা জাতির জন্য কি করবে ? এর থেকে আমরা মুক্তি পেতে চাই। তিনি বলেন, একটি শিক্ষিত জাতি গঠন করতে না পারলে, এই জাতির স্তম্ভ ভেঙে পড়বে। পরীক্ষার একঘণ্টা আগে প্রশ্ন দেয়া হয় তারপরেও প্রশ্ন ফাঁস হয়। এর কারণ শিক্ষকরা ওই প্রশ্নের ছবি তুলে বাইরে পাঠায়, সঙ্গে সঙ্গে বাইরে থেকে প্রশ্নের উত্তর চলে আসে। কাজেই প্রযুক্তি একদিকে আমাদের কল্যাণ করছে, অন্যদিকে আমাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্ত কাজের সঙ্গে শিক্ষকরা জড়িত। এ ব্যাপারে কি করা হবে তার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর ৩০০ বিধিতে  বিবৃতি দাবি করছি।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও জাতীয়করণ না হওয়ায় ক্ষোভ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দেয়ার পর তিন বছর অতিবাহিত হয়েছে তবুও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় নেতা কামরুজ্জামানের নামে প্রতিষ্ঠিত কলেজ আজও জাতীয়করণ হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু কিছু কর্মকর্তার গাফিলতিতেই এই কাজ এগুচ্ছে না বলে সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওয়ার্কার্স পার্টির দলীয় সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। গতকাল রাতে সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে তিনি এসব কথা বলেন। ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কলেজের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে জাতীয়করণের নির্দেশ দেন। এ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ৪৬টি কলেজ জাতীয়করণ করা হয়েছে। কিন্তু গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় প্রতিষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও রাজশাহীতে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় নেতা শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামান কলেজ জাতীয়করণের নির্দেশ দেয়ার পরেও এখনো জাতীয়করণ হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর ৩ বছরেও জাতীয়করণ হয় না। অথচ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু ব্যক্তি অবৈধভাবে আত্মীকরণের বাধা দিচ্ছে। কলেজ জাতীয়করণের যে আইন আছে, সেই আইন অনুসরণ করলেও তিন দিনের মধ্যে আত্মীকরণ করা সম্ভব। তিনি বলেন, এমনো কলেজ আছে যেগুলো নামি-দামি না অথচ আদালতের নির্দেশে আত্মীকরণ করা হয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত ওই দুই কলেজ দ্রুত আত্মীকরণের দাবি জানাচ্ছি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সংসদে ক্ষোভ

আপডেট টাইম : ১১:৫২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ একের পর এক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। তিনি বলেছেন, প্রাথমিক পরীক্ষা থেকে সব পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। এরসঙ্গে শিক্ষকরা জড়িত। এসব কাজে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষামন্ত্রী কি ব্যবস্থা নেবেন তা জানতে চেয়ে সংসদে ৩০০ বিধিতে বিবৃতির দাবি করেন তিনি। গতকাল রাতে সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলের এই নেতা স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, আলোকবর্তিকা। কিন্তু দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কি করুণ অবস্থা সেটা কি আমাদের জানা আছে? প্রাথমিক পরীক্ষা থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কি হতে পারে। এটা হওয়ার কারণ কী ? এর কারণ হচ্ছে শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য চলছে। কোচিং সেন্টার, নোট বই জমজমাটভাবে চলছে। তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তরের একজন ছাত্র যদি নকল করা শেখে তবে তারা জাতির জন্য কি করবে ? এর থেকে আমরা মুক্তি পেতে চাই। তিনি বলেন, একটি শিক্ষিত জাতি গঠন করতে না পারলে, এই জাতির স্তম্ভ ভেঙে পড়বে। পরীক্ষার একঘণ্টা আগে প্রশ্ন দেয়া হয় তারপরেও প্রশ্ন ফাঁস হয়। এর কারণ শিক্ষকরা ওই প্রশ্নের ছবি তুলে বাইরে পাঠায়, সঙ্গে সঙ্গে বাইরে থেকে প্রশ্নের উত্তর চলে আসে। কাজেই প্রযুক্তি একদিকে আমাদের কল্যাণ করছে, অন্যদিকে আমাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্ত কাজের সঙ্গে শিক্ষকরা জড়িত। এ ব্যাপারে কি করা হবে তার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর ৩০০ বিধিতে  বিবৃতি দাবি করছি।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও জাতীয়করণ না হওয়ায় ক্ষোভ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দেয়ার পর তিন বছর অতিবাহিত হয়েছে তবুও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় নেতা কামরুজ্জামানের নামে প্রতিষ্ঠিত কলেজ আজও জাতীয়করণ হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু কিছু কর্মকর্তার গাফিলতিতেই এই কাজ এগুচ্ছে না বলে সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওয়ার্কার্স পার্টির দলীয় সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। গতকাল রাতে সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে তিনি এসব কথা বলেন। ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কলেজের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে জাতীয়করণের নির্দেশ দেন। এ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ৪৬টি কলেজ জাতীয়করণ করা হয়েছে। কিন্তু গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় প্রতিষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও রাজশাহীতে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় নেতা শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামান কলেজ জাতীয়করণের নির্দেশ দেয়ার পরেও এখনো জাতীয়করণ হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর ৩ বছরেও জাতীয়করণ হয় না। অথচ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু ব্যক্তি অবৈধভাবে আত্মীকরণের বাধা দিচ্ছে। কলেজ জাতীয়করণের যে আইন আছে, সেই আইন অনুসরণ করলেও তিন দিনের মধ্যে আত্মীকরণ করা সম্ভব। তিনি বলেন, এমনো কলেজ আছে যেগুলো নামি-দামি না অথচ আদালতের নির্দেশে আত্মীকরণ করা হয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত ওই দুই কলেজ দ্রুত আত্মীকরণের দাবি জানাচ্ছি।