ঢাকা ০৮:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নায়িকাদের দখলে…

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:২২:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ মে ২০১৭
  • ৩৫৪ বার

৫ই মে হয়ে গেল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে বেশ কয়েকজন চিত্রনায়িকা ভোটের লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে বিজয়ীও হয়েছেন বেশির ভাগ। বিশেষ করে এবারের নির্বাচনে রোজিনা, অঞ্জনা, মৌসুমী, পপি, পূর্ণিমা, নাসরিন ও জেসমিন বিজয়ী হয়েছেন। এক কথায় বলা যায়, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ এখন নায়িকাদের দখলে। নারী প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। তিনি সর্বমোট ৩৪৯ ভোট পেয়েছেন। এবারের নির্বাচনে সকাল থেকে ভোট গণনা পর্যন্ত এফডিসির নির্বাচন কেন্দ্রে তার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অন্য সময়ের তুলনায় এবারের নির্বাচন ছিল ভিন্ন রকম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও এফডিসির প্রধান গেটে নিরাপত্তা জোরদার হওয়ার কারণে অনেকেই প্রবেশ করতে পারেননি বলে জানা যায়। এমনকি কিছু ভোটার বিরক্ত হয়ে ভোট না দিয়ে বাসায়ও চলে গেছেন। চিত্রনায়িকা রোজিনা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি সর্বমোট ৩৪৪ ভোট পেয়েছেন। রোজিনা মানবজমিনকে বলেন, এবারের ভোট ছিল অন্যসব সময়ের চেয়ে উৎসবমুখর। আমাদের মিশা-জায়েদ প্যানেল থেকে বেশির ভাগই বিজয় পেয়েছেন। ভোটারদের কাছে আমাদের যে প্রতিশ্রুতি ছিল সেগুলো নিয়ে সামনে কাজ করব। রোজিনার পরই
অভিনেত্রী জেসমিনের নাম চলে আসে। কারণ তিনি ৩২৬টি ভোট পেয়েছেন। এরপর চিত্রনায়িকা অঞ্জনা ৩২২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। অঞ্জনা বলেন, প্রথমবার শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। অন্যরকম একটি পরিবেশ বিরাজ করছিল। আর মনে মনে টেনশন কাজ করছিল যে কী হবে। সবশেষে শিল্পীদের বিপুল ভোটে আমি জয়ী হয়েছি। আমার খুব শান্তি লাগছে যে শিল্পীরা আমাকে ভালোবেসে ভোট দিয়ে জয়ী করেছেন। আমি শিল্পীদের পাশে থাকতে চাই। তাদের জন্য কাজ করতে চাই। চিত্রনায়িকা পপিও প্রথমবার নির্বাচন করেছেন। তিনি ৩০২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি বলেন, আমি শিল্পীদের জন্য সবসময়ই কাজ করেছি। তবে এবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে খুব ভালো লেগেছে। কারণ মনে হচ্ছিল যে নির্বাচনে জয়ী হয়ে কাজ করার ব্যাপারটা সত্যিই আলাদা ধরনের। দেশের ছবির জন্য কাজ করতে চাই আমি। আর আমাদের প্যানেলকেও ধন্যবাদ আমাকে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। বিদেশি নয় দেশি শিল্পীদের জন্য কাজ করে যেতে চাই। পূর্ণিমা এবারের নির্বাচনে মোট ২৮২ ভোট পেয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফল জানার পর অনেক উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে তিনি বলেন, কাজ করার পালা এবার। শিল্পীদের উন্নয়নে কাজ করার জন্যই তো শিল্পী সমিতি। চলচ্চিত্রের শিল্পীদের নিয়ে সকলে মিলে কীভাবে সামনে ভালো কিছু কাজ করা যায়, সেটাই ঠিক করতে হবে। আশা করি, সকলে এ কাজে আমাদের সহযোগিতা করবেন। আর যারা আমাকে যোগ্য মনে করে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। নাসরিন নির্বাচিত হয়েছেন ২৬৮ ভোট পেয়ে। তিনি বলেন, শিল্পীদের স্বার্থ রক্ষার্থে কাজ করবো আমরা। দেশীয় চলচ্চিত্রের যাতে উন্নয়ন ঘটে সে লক্ষ্যই থাকবে আমাদের। নায়কের পাশাপাশি নায়িকাদের বিজয়ে অনেকেই খুশি হয়েছেন। এমনকি অনেক নায়কও নায়িকাদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন। এর আগে এত নায়িকা একসঙ্গে শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অংশ নেননি বলে জানিয়েছেন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট বোদ্ধারা। তবে অনেকেরই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সংশয় থাকলেও নির্বাচন কমিশনার মনতাজুর রহমান আকবর জানিয়েছেন, কোনো কারচুপি হয়নি এবার। সকলের উপস্থিতিতে ভোট গণনা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

নায়িকাদের দখলে…

আপডেট টাইম : ১১:২২:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ মে ২০১৭

৫ই মে হয়ে গেল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে বেশ কয়েকজন চিত্রনায়িকা ভোটের লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে বিজয়ীও হয়েছেন বেশির ভাগ। বিশেষ করে এবারের নির্বাচনে রোজিনা, অঞ্জনা, মৌসুমী, পপি, পূর্ণিমা, নাসরিন ও জেসমিন বিজয়ী হয়েছেন। এক কথায় বলা যায়, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ এখন নায়িকাদের দখলে। নারী প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। তিনি সর্বমোট ৩৪৯ ভোট পেয়েছেন। এবারের নির্বাচনে সকাল থেকে ভোট গণনা পর্যন্ত এফডিসির নির্বাচন কেন্দ্রে তার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অন্য সময়ের তুলনায় এবারের নির্বাচন ছিল ভিন্ন রকম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও এফডিসির প্রধান গেটে নিরাপত্তা জোরদার হওয়ার কারণে অনেকেই প্রবেশ করতে পারেননি বলে জানা যায়। এমনকি কিছু ভোটার বিরক্ত হয়ে ভোট না দিয়ে বাসায়ও চলে গেছেন। চিত্রনায়িকা রোজিনা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি সর্বমোট ৩৪৪ ভোট পেয়েছেন। রোজিনা মানবজমিনকে বলেন, এবারের ভোট ছিল অন্যসব সময়ের চেয়ে উৎসবমুখর। আমাদের মিশা-জায়েদ প্যানেল থেকে বেশির ভাগই বিজয় পেয়েছেন। ভোটারদের কাছে আমাদের যে প্রতিশ্রুতি ছিল সেগুলো নিয়ে সামনে কাজ করব। রোজিনার পরই
অভিনেত্রী জেসমিনের নাম চলে আসে। কারণ তিনি ৩২৬টি ভোট পেয়েছেন। এরপর চিত্রনায়িকা অঞ্জনা ৩২২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। অঞ্জনা বলেন, প্রথমবার শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। অন্যরকম একটি পরিবেশ বিরাজ করছিল। আর মনে মনে টেনশন কাজ করছিল যে কী হবে। সবশেষে শিল্পীদের বিপুল ভোটে আমি জয়ী হয়েছি। আমার খুব শান্তি লাগছে যে শিল্পীরা আমাকে ভালোবেসে ভোট দিয়ে জয়ী করেছেন। আমি শিল্পীদের পাশে থাকতে চাই। তাদের জন্য কাজ করতে চাই। চিত্রনায়িকা পপিও প্রথমবার নির্বাচন করেছেন। তিনি ৩০২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি বলেন, আমি শিল্পীদের জন্য সবসময়ই কাজ করেছি। তবে এবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে খুব ভালো লেগেছে। কারণ মনে হচ্ছিল যে নির্বাচনে জয়ী হয়ে কাজ করার ব্যাপারটা সত্যিই আলাদা ধরনের। দেশের ছবির জন্য কাজ করতে চাই আমি। আর আমাদের প্যানেলকেও ধন্যবাদ আমাকে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। বিদেশি নয় দেশি শিল্পীদের জন্য কাজ করে যেতে চাই। পূর্ণিমা এবারের নির্বাচনে মোট ২৮২ ভোট পেয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফল জানার পর অনেক উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে তিনি বলেন, কাজ করার পালা এবার। শিল্পীদের উন্নয়নে কাজ করার জন্যই তো শিল্পী সমিতি। চলচ্চিত্রের শিল্পীদের নিয়ে সকলে মিলে কীভাবে সামনে ভালো কিছু কাজ করা যায়, সেটাই ঠিক করতে হবে। আশা করি, সকলে এ কাজে আমাদের সহযোগিতা করবেন। আর যারা আমাকে যোগ্য মনে করে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। নাসরিন নির্বাচিত হয়েছেন ২৬৮ ভোট পেয়ে। তিনি বলেন, শিল্পীদের স্বার্থ রক্ষার্থে কাজ করবো আমরা। দেশীয় চলচ্চিত্রের যাতে উন্নয়ন ঘটে সে লক্ষ্যই থাকবে আমাদের। নায়কের পাশাপাশি নায়িকাদের বিজয়ে অনেকেই খুশি হয়েছেন। এমনকি অনেক নায়কও নায়িকাদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন। এর আগে এত নায়িকা একসঙ্গে শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অংশ নেননি বলে জানিয়েছেন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট বোদ্ধারা। তবে অনেকেরই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সংশয় থাকলেও নির্বাচন কমিশনার মনতাজুর রহমান আকবর জানিয়েছেন, কোনো কারচুপি হয়নি এবার। সকলের উপস্থিতিতে ভোট গণনা হয়েছে।