পোশাক খাতে বৈশ্বিক মন্দা এবং অভ্যন্তরীণ নানাবিধ সংকট বিরাজমান। সরকারি চাকরিজীবী ছাড়া সব মানুষের জীবনে নাভিশ^াস নেমে এসেছে। প্রতিদিনই ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বড় বড় কারখানা বন্ধ হচ্ছে। বেকারত্ব বাড়ছে। এরমধ্যেও সরকার শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে আন্তরিক। এই ধারাবাহিকতায় গতকাল পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। এরপরও আন্দোলনের নামে শ্রমিকরা সড়ক বন্ধ করে যা ইচ্ছে তাই করছে। অবশ্য মজুরী বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)।
রোববার বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিকেএমইএ বলেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনেরা যে চাপের মধ্যে আছেন, তা আমরাও উপলব্ধি করি। আবার একইসঙ্গে বৈশ্বিক মন্দা, জ্বালানি সংকট, প্রতিনিয়ত উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং কারখানার রফতানি আদেশ কমে যাওয়ার চ্যালেঞ্জগুলোও বাস্তব। তাই শ্রমিকের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করা আর কারখানা সচল রাখা, দুটিই আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক ও আলোচনার পরই এদিন মজুরি বোর্ড ঘোষণার সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত এবং সরকার শুরু থেকে বিষয়টিতে আন্তরিক থাকার পরও একটি মহল সরকারের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতা তৈরি ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে শ্রমিকদের রাজপথে নামিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। অবশ্য জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে শ্রমিকদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে যে বিষয়টি অনুধাবন করেই সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।
কিন্তু তারপরও দীর্ঘদিন থেকে শ্রমিক অসন্তোষ তৈরীর প্রচেষ্টা করছে। এমনকি মজুরি বোর্ড গঠনের সভার পূর্বনির্ধারিত সময়ের আগের দিন ও সভার দিনও রাজধানীসহ কয়েকটি স্থানে শ্রমিক অসন্তোষের মাধ্যমে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকার, মালিকপক্ষ আন্তরিক থাকা স্বত্তেও পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের অস্থিরতা ও পুলিশ-আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মারমুখী আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আবার আন্দোলনে অংশগ্রহণকরাীদের অধিকাংশই বহিরাগত। সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তথ্য আছে, আগামী ডিসেম্বরে ভারতে পলায়নকারী স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। আর সেই ঘোষণা শুনেই একটি গ্রুপ শ্রমিকদের দিয়ে দেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
এর আগে ২০০৬ সালেও বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধেও এভাবে শ্রমিকদের লেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আর তাই ডিসেম্বর কেন্দ্রিক রাজনৈতিক ইন্ধনের অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, শ্রমিক অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন ঢাকার একাধিক সাবেক সংসদ সদস্য ও পতিত নেতা। এছাড়া সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী যিনি শ্রমিক আন্দোলনকে উসকে দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যেই কোন কারণ ছাড়া সম্প্রতি নিপা গার্মেন্টস ইচ্ছাকৃতভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। উত্তরায় আরো ৫টি পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও পোশাক কারখানা বন্ধের ঘোষণা আসছে। এর ফলে শ্রমিক আন্দোলনের মাত্রা আরো ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
আগের ধারাবাহিকতায় গতকালও রাজধানীর মিরপুরসহ বিভিন্নস্থানে শ্রমিকরা আন্দোলনের নামে পুলিশের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেছে। মিরপুর ১১ নম্বরে পুলিশের গাড়ীতে আগুন দেওয়া হয়েছে। বিজিএমইএ’র তথ্য মতে, শ্রম অসন্তোষের নামে ডিএমপি এলকার ৩২০ কারখানার ৬৮টির ৫১ হাজার ৬২৫ শ্রমিক কাজ না করে চলে এসেছে। গাজীপুর এবং ময়মনসিংহ এলাকার ৮৩৬ কারখানার মধ্যে ২২৫টি কারখানার মোট ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৬০ জন শ্রমিক কাজ করেনি। সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী এলাকায় থাকা ৪৪১ কারখানর মধ্যে ২৫টি থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার ২৭০ জন শ্রমিক কাজ না করে চলে এসেছে।
এর আগে উত্তরা ও বিমানবন্দর এলাকায় ৭ পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা এবং গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। মজুরী বোর্ড ঘোষনণার দিন রাজধানীর মিরপুরে সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করা শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে পুলিশ। আন্দোলনকারী শ্রমিকদের সঙ্গে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম। মহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এখন মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে এ বিষয়ে কাজ হবে। বিষয়টি শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এরপরও তারা সড়ক ছাড়ছিলেন না। পুলিশের কাছে মনে হয়েছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে।
এদিকে মজুরি বোর্ড গঠনের পরও পোশাকশিল্পে অস্থিরতা ও সহিংসতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ শ্রম আইনের ১৩(১) ধারা অনুযায়ী কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হতে পারেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা। গতকাল রাজধানীর বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে চলমান শ্রম অসন্তোষ নিয়ে সদস্যদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক শেষে এ কথা জানান বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে তৈরী পোশাক খাতে অব্যাহত শ্রমিক অসন্তোষ এবং একের পর এক কারখানা বন্ধের ঘটনা সামগ্রিক অর্থনীতিকে গভীর উদ্বেগে ফেলেছে। একদিকে করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির কারণে পোশাকের বৈশ্বিক চাহিদা ও ক্রয়াদেশ কমেছে, অন্যদিকে দেশের ভেতরে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট এবং উচ্চ ব্যাংক সুদের হার উৎপাদন খরচ বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
তৈরী পোশাক খাতের বর্তমান সংকটে কারখানার মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষই চরম বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। একদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে শ্রমিকদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে বৈশ্বিক মন্দায় ক্রয়াদেশের অভাব ও উৎপাদন খরচ বাড়ায় অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মালিকদের পক্ষেও বেতন দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমনকি বর্তমান বেতন দিয়েও কারখানা চালানো যেখানে কষ্টসাধ্য, সেখানে নতুন করে বেতন বাড়ানো কারখানা মালিকদের জন্য অসম্ভব বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মালিক। তাদেও মতে, সরকারের নানাবিধ সুযোগ পাওয়া স্বত্তেও কারখানা টিকিয়ে রাখা অসাধ্য। বৈশি^ক মন্দা ও শ্রমিক অসন্তোষে ক্রয়াদেশ নেই, যাও আছে তা নির্ধারিত সময়ে প্রদান করা কঠিন হচ্ছে। তাই অস্থিরতায় নতুন ক্রয়াদেশ দিতে আগ্রহী হচ্ছে না অনেক বায়ার।
কারখানা মালিকদের মতে, বর্তমান সংকটের মধ্যে যেখানে শ্রমিকদের দরকার কারখানা টিকিয়ে রাখা সেখানে তারাই আন্দোলনের কর্মপরিবেশ নষ্ট করে কারখানা বন্ধের মাধ্যমে অস্থিরতার চেষ্টা করছে। গতকালও উত্তরায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের অযৌক্তিক সড়ক অবরোধ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই আন্দোলনে বহিরাগতদের ইন্ধন রয়েছে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ।
গার্মেন্ট কারখানার মালিকরা অভিযোগ করে বলেছেন, মজুরী বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেয়া সত্ত্বেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল শ্রমিকদের নানা কথা বলে উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাচ্ছে। তাই গার্মেন্ট শ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ে সরকারকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, দেশের প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী, শীত মৌসুম আন্দোলনের সময়। এই সময়কে সামনে রেখে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন গোষ্ঠী আন্দোলনে নামে। তবে আগামী ডিসেম্বরে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশে আসার ঘোষণাকে সামনে রেখে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার দোসররা রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলার নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে। ইতোমধ্যে তার আলামতও মিলেছে। আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নামে বহিরাগতরা।
ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার গত ১৫ বছর ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি, লুটপাট, ঋণ জালিয়াতি এবং হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। যার দায় বর্তমানে এসে পড়েছে জনগণের ওপর। এমনকি বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক অংশীদাররা বাংলাদেশের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে দাতা সংস্থাগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে যে পূর্বাভাস দিয়েছে, তাতে দুঃসংবাদ ছাড়া কিছু নেই। সম্প্রতি প্রকাশিত আইএমএফ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আরো কমে ৩ দশমিক ২ শতাংশ হবে। বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকও একই পূর্বাভাস দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনেও অর্থনীতির চরম সংকটের কথা বলা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে হাহাকার চলছে। এই সংকটের মধ্যেও পোশাক খাতে পরিকল্পিত অস্থিরতা ও কারখানা বন্ধের পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন কারখানা মালিকরা।
শ্রম সচিব আব্দুর রহমান তরফদার বলেছেন, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাইরের কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়েও সরকার সতর্ক রয়েছে।
এদিকে পোশাকশ্রমিকদের মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ছয় সদস্যের নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের পরও অস্থিরতা করলে কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হতে পারেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মালিকরা।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান শ্রমিক সংগঠন ও ফেডারেশনগুলোকে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শ্রমিক বা মালিক, যে পক্ষই আইন নিজের হাতে তুলে নিক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যহীনভাবে আইন প্রয়োগ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মাহমুদ হাসান খান বলেন, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনের কারণে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বিজিএমইএর সদস্যরা উদ্বিগ্ন। নিয়মিতভাবে কারখানা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, সকালে কারখানা খোলা হচ্ছে, কিন্তু এক ঘণ্টা পরই আবার বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। আমরা এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই। গতকাল এক বৈঠকে বিজিএমইএর প্রায় ২৩৫ জন সদস্য অংশ নেন। তাঁদের প্রতিনিধিত্বে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০টি কারখানা রয়েছে বলে জানান তিনি। বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি উল্লেখ করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, পোশাক খাতের শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনকে তাদের সদস্যদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, শ্রমিক কিংবা কারখানার মালিক, যে কেউ সহিংসতায় জড়িত হলে বা আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করা হবে, এ বিষয়ে সরকারকে, বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে, কঠোর বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নতুন গঠিত মজুরি বোর্ডের সদস্যদের যৌথভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে শ্রমিক ও শিল্পসংশ্লিষ্ট সবাইকে বোর্ডের কার্যক্রম শেষ হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানোরও প্রস্তাব দেন তিনি। মাহমুদ হাসান খান বলেন, শ্রমিক, শিল্প এবং জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ডকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলমান শ্রম অসন্তোষ ও সহিংসতার কারণে মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে প্রায় ৫২৯টি পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে।
Reporter Name 














