ঢাকা ০১:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে বাতিল ডিলারশিপ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৩২:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ১১ বার

সারের ডিলার নিয়োগে দলীয় প্রভাব, অর্থ লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে। যশোরসহ ছয় জেলার ডিলার নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। যেসব ক্ষেত্রে এখনো ডিলারশিপের চুক্তি হয়নি, অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেসব ক্ষেত্রে চুক্তি স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। আর চুক্তি হয়ে থাকলে তদন্ত করে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারশিপ বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

সোমবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে সারের আমদানি, মজুত ও বিতরণ পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং বিতরণে কোনো সমস্যা নেই। তবে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা।

বৈঠক শেষে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, সারা দেশে সাড়ে চার হাজারের বেশি সারের ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে। ডিলারশিপের শর্ত অনুযায়ী, ৯০ দিনের মধ্যে কোনো ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারশিপ পরিবর্তন করা যাবে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন কমিটির কয়েকজন সদস্য। তাদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, অর্থের বিনিময়ে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। আবার অভিযোগ ওঠে, নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের মতামত উপেক্ষা করে ক্ষমতাসীন দলের পছন্দ অনুযায়ী ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে।

ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ওঠা এলাকাগুলোয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লালমনিরহাট, বরগুনা, সাতক্ষীরা, ফরিদপুর, নওগাঁ ও যশোর জেলার ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিম গণমাধ্যমকে বলেন, যেসব এলাকায় ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এসেছে, সেসব ক্ষেত্রে নিয়োগ স্থগিত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় তিন মাসের মধ্যে অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বাদ দেওয়া হবে।

সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যেসব ক্ষেত্রে ডিলারশিপের চুক্তি এখনো হয়নি, সেসব ক্ষেত্রে অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চুক্তি সম্পাদন স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। আর যেসব ক্ষেত্রে এরই মধ্যে চুক্তি হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে যথাযথ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে কমিটি।

সূত্র জানায়, বৈঠকে সার বিতরণে অনিয়ম এবং সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগও ওঠে। নওগাঁসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ তুলে তা প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেন সদস্যরা। এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে যমুনা সেতুর পর চেকপোস্ট বসিয়ে সারের গাড়ি তদারকির প্রস্তাব দেন কমিটির এক সদস্য।

এদিকে সারের বিতরণ, মজুত ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং অবৈধ মজুত, বিপণনসহ অন্যান্য অনিয়ম চিহ্নিত করতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব সমস্যা সরেজমিন পরিদর্শন করে সমাধানের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রণয়ন করবে কমিটি। কমিটির সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমানের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন রোকন উদ্দীন বাবুল ও সাবিরা সুলতানা।

কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য শহিদুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, রোকন উদ্দীন বাবুল, মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সাবিরা সুলতানা ও গোলাম রছুল। সভাপতির আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশ নেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে বাতিল ডিলারশিপ

আপডেট টাইম : ১২:৩২:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

সারের ডিলার নিয়োগে দলীয় প্রভাব, অর্থ লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে। যশোরসহ ছয় জেলার ডিলার নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। যেসব ক্ষেত্রে এখনো ডিলারশিপের চুক্তি হয়নি, অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেসব ক্ষেত্রে চুক্তি স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। আর চুক্তি হয়ে থাকলে তদন্ত করে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারশিপ বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

সোমবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে সারের আমদানি, মজুত ও বিতরণ পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং বিতরণে কোনো সমস্যা নেই। তবে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা।

বৈঠক শেষে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, সারা দেশে সাড়ে চার হাজারের বেশি সারের ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে। ডিলারশিপের শর্ত অনুযায়ী, ৯০ দিনের মধ্যে কোনো ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারশিপ পরিবর্তন করা যাবে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন কমিটির কয়েকজন সদস্য। তাদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, অর্থের বিনিময়ে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। আবার অভিযোগ ওঠে, নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের মতামত উপেক্ষা করে ক্ষমতাসীন দলের পছন্দ অনুযায়ী ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে।

ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ওঠা এলাকাগুলোয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লালমনিরহাট, বরগুনা, সাতক্ষীরা, ফরিদপুর, নওগাঁ ও যশোর জেলার ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিম গণমাধ্যমকে বলেন, যেসব এলাকায় ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এসেছে, সেসব ক্ষেত্রে নিয়োগ স্থগিত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় তিন মাসের মধ্যে অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বাদ দেওয়া হবে।

সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যেসব ক্ষেত্রে ডিলারশিপের চুক্তি এখনো হয়নি, সেসব ক্ষেত্রে অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চুক্তি সম্পাদন স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। আর যেসব ক্ষেত্রে এরই মধ্যে চুক্তি হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে যথাযথ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে কমিটি।

সূত্র জানায়, বৈঠকে সার বিতরণে অনিয়ম এবং সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগও ওঠে। নওগাঁসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ তুলে তা প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেন সদস্যরা। এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে যমুনা সেতুর পর চেকপোস্ট বসিয়ে সারের গাড়ি তদারকির প্রস্তাব দেন কমিটির এক সদস্য।

এদিকে সারের বিতরণ, মজুত ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং অবৈধ মজুত, বিপণনসহ অন্যান্য অনিয়ম চিহ্নিত করতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব সমস্যা সরেজমিন পরিদর্শন করে সমাধানের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রণয়ন করবে কমিটি। কমিটির সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমানের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন রোকন উদ্দীন বাবুল ও সাবিরা সুলতানা।

কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য শহিদুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, রোকন উদ্দীন বাবুল, মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সাবিরা সুলতানা ও গোলাম রছুল। সভাপতির আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশ নেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।